সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিপক্ষে দুটি প্রীতি ম্যাচ খেলে আজ দেশে ফিরেছে বাংলাদেশ জাতীয় নারী ফুটবল দল। পবিত্র রমজান ও ঈদুল ফিতর সামনে রেখে তাদের প্রায় এক মাস ছুটি দিয়েছে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে)। কিন্তু এত লম্বা সময়ের জন্য মেয়েরা ছুটিতে যাক, চান না কোচ পিটার বাটলার।
নতুনদের নিয়ে যে ছন্দে এগিয়ে যাচ্ছেন তিনি, সেটাতে কোনো হেরফের চাইছেন না কোচ। গতকাল প্রথম আলোকে তেমনটাই বললেন এই ইংলিশ কোচ, ‘ছোট্ট একটা বিরতির পর অনুশীলন শুরু করা যেত। এই মুহূর্তে দল যে ছন্দে রয়েছে, সেটা ধরে রাখা জরুরি।’
বাফুফে চাইছে রোজায় ক্যাম্প চালু না রাখতে। একেবারে ঈদের পর মেয়েদের ক্যাম্প শুরু করতে চায় ফেডারেশন। আজ বিকেলে বাফুফে ভবনে মেয়েদের সঙ্গে আলোচনা করেন বাফুফে সভাপতি তাবিথ আউয়াল।
আসুন ধৈর্য ধরি, উন্নতি করি, ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সাজাই, ফুটবল এই মেয়েদের হাত ধরেই এগোবে
পিটার বাটলার, বাংলাদেশ নারী ফুটবল দলের কোচ
আমিরাত সফরের দুই হার নিয়ে খুব একটা হতাশ নন বাফুফের প্রধান। উল্টো পরবর্তী টুর্নামেন্টের প্রস্তুতি নেওয়ার কথাই বলেছেন তাবিথ, ‘আমরা পরে তোমাদের জানিয়ে দেব কবে ক্যাম্প শুরু হবে। পুরো ৫৫ জনের স্কোয়াড নিয়েই অনুশীলন শুরু করব। ওখান থেকে অনেকেই ম্যাচ খেলব। এরপর তো এএফসি বাছাই। আমরা যদি সেখানে কোয়ালিফাই করি তাহলে তো পরবর্তী মার্চেই খেলা।’
আলোচনার শেষ দিকে নারী উইংয়ের প্রধান মাহফুজা আক্তার মেয়েদের জানিয়ে দেন ঈদের পর আবার তাদের ক্যাম্পে ডাকা হবে। আর ছুটি শুরু আগামীকাল থেকে।
কদিন আগে প্রথম আলোকে দেওয়া সাক্ষাৎকারেও ছুটি নিয়ে নিজের মতামত জানিয়েছিলেন বাটলার। কোনো সফরের পর দীর্ঘ সময় ছুটি না দিয়ে ছোট্ট একটা বিরতি দেওয়ার পক্ষে তিনি, ‘আপনি যদি এই সফরের পর মেয়েদের লম্বা সময়ের জন্য ছুটি দেন, তাহলে আগের পরিশ্রমটাই বৃথা যাবে। তবে আমি ছুটির বিপক্ষে নই। আপনি তাদের ছোট্ট একটা বিরতি দিতে পারেন, হতে পারে সেটা ঈদের ছুটি। এরপর দ্রুত আবার অনুশীলনে ফিরতে হবে। এভাবে নিয়ম মেনে না চললে ইতিবাচক কিছু করা কঠিন।’
একেবারে নতুন একটা দল নিয়ে আমিরাত যান বাটলার। তাঁর চুক্তি নবায়নের পর যেটা ছিল প্রথম পরীক্ষা। যদিও কঠিন প্রতিপক্ষের সঙ্গে পেরে ওঠেননি আফঈদা–স্বপ্নারা। দুই ম্যাচের দুটিতেই হেরে যায় বাংলাদেশ। তবে বাটলার আপাতত জয়–পরাজয় নিয়ে ভাবছেন না। কীভাবে এই তরুণ ফুটবলারদের আরও পরিণত করা যায়, আরও ভালো ফুটবল শেখানো যায় সেদিকেই গুরুত্ব এই ইংলিশ কোচের। রোববার রাতে আমিরাতের বিপক্ষে ম্যাচের পরও বাটলার বলেছেন, ‘ফুটবলের সঙ্গে আমি দীর্ঘদিন আছি। জিততে হবে, জিততে হবে—আমি এই মানসিকতার নই, আমি উন্নতিতে বিশ্বাসী।’
এ বছর নারী ফুটবলে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ টুর্নামেন্ট রয়েছে। ২০২৬ সালের মার্চে অস্ট্রেলিয়ায় হবে এএফসি উইমেনস এশিয়ান কাপ। সেই প্রতিযোগিতায় নাম লেখাতে ২৩ জুন থেকে ৫ জুলাই অনুষ্ঠেয় বাছাইয়ে অংশ নেবে বাংলাদেশ জাতীয় নারী ফুটবল দল।
তার আগে ২৬ মে থেকে ৩ জুনের মধ্যে আরেকটি ফিফা উইন্ডো পাচ্ছেন মেয়েরা। যেখানে আরও দুটি প্রীতি ম্যাচ খেলার সুযোগ পাবে বাংলাদেশ। পাশাপাশি বয়সভিত্তিক টুর্নামেন্টের মধ্যে ১ থেকে ১১ জুলাই ঢাকায় হবে সাফ অনূর্ধ্ব–২০ নারী চ্যাম্পিয়নশিপ। এই টুর্নামেন্টগুলো সামনে রেখে পরিকল্পনা সাজাতে চান বাটলার, ‘আসুন ধৈর্য ধরি, উন্নতি করি, ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সাজাই, ফুটবল এই মেয়েদের হাত ধরেই এগোবে।’