দ্যা নিউ ভিশন

এপ্রিল ৩, ২০২৫ ১০:২৪

সাবিনাদের শাস্তির সিদ্ধান্ত বাফুফে সভাপতির ওপর ছেড়ে দিয়েছে তদন্ত কমিটি

বিদ্রোহী নারী ফুটবলারদের বিরুদ্ধে শাস্তিসহ যেকোনো ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করেছে তদন্ত কমিটি

কোচ পিটার বাটলারের বিরুদ্ধে ১৮ নারী ফুটবলারের বিদ্রোহের রেশ যেন ‘শেষ হয়েও হয়নি শেষ’! বর্তমানে পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক মনে হলেও বিশেষ কমিটির তদন্ত প্রতিবেদন ঝড়ের আভাসই দিচ্ছে!

গত ৩০ জানুয়ারি নারী ফুটবলের সংকট তদন্তে সাত সদস্যের কমিটি করেছিল বাফুফে। সাত দিনের মধ্যে সেই কমিটি বাফুফে সভাপতি তাবিথ আউয়ালের হাতে প্রতিবেদন তুলে দেয়। সেই প্রতিবেদন বাফুফে এখনো প্রকাশ করেনি। কিন্তু সেই প্রতিবেদন জমা দেওয়ার পরই মূলত খুলতে থাকে সংকটের জট।

প্রতিবেদনের সুপারিশ আমলে নিয়ে ১১ ফেব্রুয়ারি দুবারের নারী সাফজয়ী অধিনায়ক সাবিনা খাতুনের সঙ্গে রুদ্ধদ্বার বৈঠক করেন তাবিথ। সেই বৈঠকের পর বিদ্রোহীরা তাঁদের অবস্থান থেকে কিছুটা হলেও সরে আসতে থাকেন। এর ঠিক পাঁচ দিন পর ১৬ ফেব্রুয়ারি সংবাদ সম্মেলনে বাফুফের নারী উইংয়ের চেয়ারম্যান মাহফুজা আক্তার মেয়েদের বিদ্রোহ শেষের বার্তা দেন। কিন্তু সেই বার্তার আড়ালেও ছিল অনেক অজানা কথা।

মাহফুজা তখন জানিয়েছিলেন, মেয়েরা ছুটিতে যেতে চাচ্ছেন। ছুটি শেষে তাঁরা অনুশীলনে ফিরবেন। কিন্তু তদন্ত প্রতিবেদনে লেখা বিশেষ কমিটিই তাঁদের ছুটিতে পাঠানোর সুপারিশ করেছে। প্রথম আলোর এই প্রতিবেদকের হাতে আসা প্রতিবেদনে বিষয়টি উল্লেখ আছে এভাবে, ‘যেসব খেলোয়াড় ক্যাম্পে থেকেও প্রশিক্ষণে অংশ নেয়নি, তাদের আপাতত বিশ্রামের জন্য ছুটিতে পাঠানো যায়।’ শুধু তা–ই নয়, তদন্ত শেষে বাফুফে সভাপতির কাছে জমা দেওয়া প্রতিবেদনে মেয়েদের শৃঙ্খলা ভঙ্গের একাধিক কারণও খুঁজে পায় কমিটি। সে জন্য শাস্তিসহ যেকোনো ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করে তারা।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিশেষ কমিটির এক সদস্য গতকাল প্রথম আলোকে বলেন, ‘মেয়েরা যেটা করেছে, এটা অবশ্যই শৃঙ্খলার পরিপন্থী। আমরা ১৮ জনকে আলাদাভাবে জিজ্ঞেস করেছি। অনেকের কথার সঙ্গে অভিযোগেরও মিল পাওয়া যায়নি। আমাদের কাছে এ বিষয়টি ইতিবাচক মনে হয়নি। সে জন্য বাফুফে সভাপতিকে বলেছি শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে।’

স্পষ্টতই শাস্তির বিষয়টি বাফুফে সভাপতির ওপর ছেড়ে দিয়েছে বিশেষ কমিটি। সভাপতিও খুব সতর্কভাবে সেই পথে পা বাড়াচ্ছেন। এ বিষয়ে বাফুফের বর্তমান কমিটির এক সদস্য জানিয়েছেন তেমনটাই—শাস্তিস্বরূপ সাত থেকে আটজন সিনিয়র ফুটবলারকে ক্যাম্পে আর না–ও ডাকা হতে পারে। প্রাথমিকভাবে এমন একটা সিদ্ধান্তই হয়েছে। কোচ বাটলারও এই সিদ্ধান্তে সম্মতি দিয়েছেন। সেসব ফুটবলারের নাম না বললেও বাফুফের ওই কর্মকর্তা জানিয়েছেন, গত কয়েক বছর যাঁদের পারফরম্যান্স ভালো নয়, মাঠেও নিয়মিত নন, এমনকি পুরো ৯০ মিনিট খেলার সুযোগ পান না, শেষ পর্যন্ত তাঁদেরই কপাল পুড়বে।

বাফুফের আরেক সিনিয়র সদস্যের কথায় বিষয়টি আরও স্পষ্ট, ‘১৮ জন খেলোয়াড়ই যে ভালো, তা নয়। ৭–৮ জন খেলোয়াড়কে বাদ দিলেই সুন্দর একটা টিম হয়ে যায়। সেই পরিকল্পনাই চলছে।’

এদিকে মেয়েরা কোচের বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ করেছিল—মাঠে দুর্ব্যবহার, সিনিয়র-জুনিয়র বিভাজন, পোশাক-আশাক নিয়ে কথা, বডি শেমিং, গালিগালাজ, মানসিক হয়রানি; তদন্তে নেমে এই অভিযোগগুলোর সত্যতা পায়নি বিশেষ কমিটি। বরং বাফুফের অনুমতি ছাড়া মেয়েদের সংবাদ সম্মেলনকে নিয়মভঙ্গ হিসেবে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি ক্যাম্পে থেকেও অনুশীলনে যোগ না দেওয়ার বাজে দৃষ্টান্ত স্থাপনকে শৃঙ্খলাভঙ্গের কাতারে ফেলেছে কমিটি।

প্রতিবেদনের শেষাংশে বিদ্রোহী ফুটবলারদের সঙ্গে বাফুফে সভাপতির আলোচনার দ্বার খোলার বিষয়টি এভাবে উল্লেখ করা হয়েছে, ‘বিদ্রোহী খেলোয়াড়গণ এই বাংলাদেশের কৃতী সন্তান। তাদের ভুল ও অন্যায় অনস্বীকার্য হলেও তাদেরকে তাদের চাওয়া অনুযায়ী বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের প্রেসিডেন্টের সাথে একবার আলোচনা করার সুযোগ দেওয়া যেতে পারে। খেলোয়াড়দের কয়েকজনের সাথে কথা বলে মনে হয়েছে, বাফুফে প্রেসিডেন্ট তাদের সাথে আলোচনায় বসলে তারা অনুশীলনে প্রত্যাবর্তন করবে বলে প্রতীয়মান হয়।’

বাটলারের সঙ্গে সিনিয়র ফুটবলারদের দ্বন্দ্ব চলে আসছে গত অক্টোবরে মেয়েদের সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের সময় থেকেই। জানুয়ারির মাঝামাঝি এই ইংলিশ কোচের চুক্তির মেয়াদ দুই বছর বাড়ানোর পরই আবার বিতর্ক শুরু হয়। নতুন করে দায়িত্ব নেওয়ার পর কোচ টিম মিটিং ডাকলেও তাতে হাজির হননি ক্যাম্পে থাকা ১৮ ফুটবলার। এরপর গত ৩০ জানুয়ারি বাফুফে ভবনের সামনে সংবাদমাধ্যমের কাছে কোচ বাটলারের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ তুলে ধরেন সাবিনারা। তাঁরা জানান, বাটলারকে কোচ রাখলে অনুশীলনে যোগ দেবেন না। সবাই একযোগে অবসরের হুমকিও দেন।

Related News

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

সর্বশেষ

ছাত্রদলের অনুষ্ঠানে শিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি, ঐক্যবদ্ধভাবে দেশকে এগিয়ে নেওয়ার আশা

ছাত্রশিবির, ছাত্রদলসহ যাঁরা ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে ভূমিকা রেখেছেন, তাঁরা ঐক্যবদ্ধভাবে আগামী