ভারতের বিপক্ষে ম্যাচে দলে সুযোগ পাননি। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সুযোগ পেয়েও কাজে লাগাতে পারেননি। ব্যাটে ১৪ বলে মাত্র ৪ রান, হাতে ফসকেছে একটি ক্যাচও। সরাসরি থ্রোয়ে একটি রান আউট করলেও ম্যাচ ততক্ষণে বাংলাদেশের মুঠো ফসকে বেরিয়ে গেছে। মাহমুদউল্লাহর সমালোচনা তাই চলছে চারপাশে। ওয়াসিম আকরাম যেমন বলেছেন, দেখে মনে হচ্ছে মাহমুদউল্লাহ চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে ছুটি কাটাতে এসেছে!
গত সোমবার নিউজিল্যান্ডের কাছে ৫ উইকেটের হারে চ্যাম্পিয়নস ট্রফির সেমিফাইনালে ওঠার দৌড় থেকে ছিটকে পড়ে বাংলাদেশ। ম্যাচের পর চ্যাম্পিয়নস ট্রফির অফিশিয়াল সম্প্রচারকদের একটি শো–তে কথাটি বলেন পাকিস্তান কিংবদন্তি।
বাংলাদেশের ২৩৬ রান তাড়া করতে নেমে ৩৭ ওভার শেষে নিউজিল্যান্ডের স্কোর ছিল ৩ উইকেটে ১৯১। ব্যক্তিগত ১০৫ রানে স্ট্রাইকে রাচিন রবীন্দ্র। তখন ৩৮তম ওভারে মোস্তাফিজুর রহমানের প্রথম বলে মিড অনে রবীন্দ্রর সহজ ক্যাচ ছাড়েন মাহমুদউল্লাহ। ৩৯ বছর বয়সী এ ক্রিকেটারের হাত থেকে ফসকে যায় বল। আকরাম এই ক্যাচ মিস নিয়ে বলেছেন, ‘একদমই সহজ ছিল! মাহমুদউল্লাকে দেখে মনে হচ্ছে, এখানে (চ্যাম্পিয়নস ট্রফি) ছুটি কাটাতে এসেছে। ব্যাটিং-বোলিং কিছুই হচ্ছে না।’
তার আগে বাংলাদেশের ইনিংসে মাহমুদউল্লাহ ব্যাটিংয়ে নেমেছিলেন ২২.৫ ওভারে মুশফিকুর রহিম আউট হওয়ার পর। বাংলাদেশের স্কোর তখন ১০৬/৪। সহজে রান তুলতে না পারায় ২৭তম ওভারের প্রথম বলে মাইকেল ব্রেসওয়েলকে ডাউন দ্য উইকেট এসে তুলে মারতে গিয়ে ব্যাটে ঠিকমতো পাননি। বলে উঠে যায় অফসাইডের আকাশে। শর্ট থার্ডম্যান থেকে দৌড়ে গিয়ে ক্যাচ নেন ও’রুর্ক।
মাহমুদউল্লাহর আউটের মধ্য দিয়ে ৩৮ বলের মধ্যে ২১ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে বাংলাদেশ। মাহমুদউল্লাহ আউট হওয়ার ২১ বল আগে ব্যক্তিগত মাত্র ২ রানে স্লগ সুইপ করতে গিয়ে ক্যাচ দেন আরেক অভিজ্ঞ ব্যাটসম্যান মুশফিক। স্লগ সুইপে মুশফিক ভালো হলেও ক্রিজে ভালোভাবে সেট হওয়ার আগেই নিজের খেলা মাত্র পঞ্চম বলে ওই শট খেলায় তাঁর সমালোচনাও হচ্ছে। মূলত, মিডল অর্ডারে দুই অভিজ্ঞ ব্যাটসম্যানের এমন অপরিণামদর্শী শট খেলে আউট হওয়ার কারণেই শেষ পর্যন্ত স্কোরটি বড় হয়নি বাংলাদেশের।
বাঁহাতি বোলারদের মধ্যে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে সবচেয়ে বেশি উইকেট (৪৬০ ম্যাচে ৯১৬) নেওয়া ওয়াসিম মনে করেন, এখান থেকে শেখার আছে বাংলাদেশ দলের। সেটা কী? ওয়াসিম মনে করেন, সাদা বলের সংস্করণে মুশফিক ও মাহমুদউল্লাহকে খেলানো থেকে সরে আসা উচিত বাংলাদেশের। তাঁর যুক্তি, সাদা বলের খেলা হলো ভয়ডরহীনতার, যেখানে তরুণেরা বেশি কার্যকর। সিনিয়রেরা চাইলে লাল বলের সংস্করণে তাঁদের খেলানো যায়, ‘বাংলাদেশের জন্য এটা শিক্ষা। তারা (চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে) মাহমুদউল্লাহ ও মুশফিকের মতো খেলোয়াড় নিয়ে এসেছে, যাদের বয়স ৩৯ ও ৩৭ বছর। সাদা বলের জন্য তরুণদের প্রস্তুত কোরো আর অভিজ্ঞরা চাইলে তাদের লাল বলে খেলানো যায়। সাদা বলের খেলা হলো ভয়ডরহীনতার। আগামী বছর টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ মাথায় রেখে বাংলাদেশকে এটা ভাবতে হবে।’
টেস্ট ও টি-টোয়েন্টি আগেই ছেড়েছেন মাহমুদউল্লাহ। এখন শুধু ওয়ানডে খেলছেন। মুশফিকুর রহিম শুধু টি-টোয়েন্টি ছেড়ে টেস্ট ও ওয়ানডে খেলছেন।