বিশ্লেষকদেরও বিরক্ত লাগার কথা। একই কথা ঘুরিয়ে–ফিরেয়ে কতবার বলা যায়! প্রতিটি আইসিসি টুর্নামেন্টে তো বাংলাদেশ একই গল্প লেখে। কারণও তো একই রকম…ভুল শট খেলা, সিঙ্গেল খেলতে না পারা, চাপ নিয়ে ফেলা, একের পর এক সুযোগ নষ্ট করা..এসবই তো।
বাংলাদেশ কাল চ্যাম্পিয়নস ট্রফি থেকে বাদ পড়ার পর এই কথাগুলোই আবার বলেছেন ভারতের সাবেক ক্রিকেটার ও ক্রিকেট বিশ্লেষক ওয়াসিম জাফর ও সাবেক কিউই পেসার শেন বন্ড।
ওয়াসিম জাফর অবশ্য আলাদা করে কাল মুশফিকুর রহিম ও মাহমুদউল্লাহর নাম উল্লেখ করেছেন। সেটা তাঁদের ব্যর্থতার কারণেই। ইএসপিএনক্রিকইনফোতে ওয়াসিম জাফর বলেছেন, ‘আমরা শুধু ২০১৯ বিশ্বকাপে সাকিবকে অসাধারণ পারফরম করতে দেখেছি। আমি জানি না এটা কি চাপের কারণে হয়, নাকি তারা নিজেরাই বেশি চাপ নিয়ে ফেলে—তারা ঠিকভাবে নিজেদের মেলে ধরতে পারে না। আজ আমরা যে শট নির্বাচন দেখেছি, তা খুবই হতাশাজনক। মুশফিক যে শটটি খেলেছে, মাহমুদউল্লাহ যে বেপরোয়া শটটি খেলেছে…এই ম্যাচটা তো তাদের জিততেই হতো। এই ধরনের ম্যাচে তারা দায়িত্ব নেবে এবং নিজেদের প্রমাণ করবে, সেটাই প্রত্যাশিত। কিন্তু দুঃখজনকভাবে, আইসিসি টুর্নামেন্টগুলোতে তাদের গল্প একই রকম থেকে যাচ্ছে।’
বাংলাদেশ কাল দারুণ শুরু করেছিল। প্রথম ৮ ওভারে বিনা উইকেটে তুলেছিল ৪৫ রান। এরপর তানজিদের বিদায়ের পর ছন্দপতন ঘটে বাংলাদেশের। অধিনায়ক নাজমুল উইকেটে থাকলেও তাঁর ১১০ বলে ৭৭ রানের ইনিংস আর যাই হোক বাংলাদেশকে বড় সংগ্রহ এনে দেয়নি।
তাওহিদ হৃদয়, মুশফিক, মাহমুদউল্লাহরা সবাই ছিলেন ব্যর্থ। সবকিছুর পরিণতিই ব্যাটিং উইকেটেও ২৩৬ রানে আটকে যাওয়া। এমন উইকেটে নিউজিল্যান্ডের এই দলকে ২৩৬ রানের নিচে আটকানোর ভাবনা একটু বাড়াবাড়িই।
আমরা শুধু ২০১৯ বিশ্বকাপে সাকিবকে অসাধারণ পারফরম করতে দেখেছি। আমি জানি না এটা কি চাপের কারণে হয়, নাকি তারা নিজেরাই বেশি চাপ নিয়ে ফেলে—তারা ঠিকভাবে নিজেদের মেলে ধরতে পারে না।
ওয়াসিম জাফর
ওয়াসিম জাফরও এটাই মনে করেন, ‘এই পিচে সহজেই বাংলাদেশ ৩০০-এর বেশি রান করতে পারত। তাদের দোষেই হয়নি। বোলিং বিভাগের কাছে ২৪০ রানের নিচে নিউজিল্যান্ডকে অলআউট করার আশা করা খুব বেশি চাওয়া হয়ে যায়।’
বল হাতেও বাংলাদেশের শুরুটা হয়েছিল ভালো। ১৫ রানের মধ্যে তুলে নেয় উইল ইয়ং ও কেইন উইলিয়ামসনের উইকেট। কিন্তু এমন ছোট লক্ষ্যে পৌঁছানোর জন্য একটি ইনিংসই যথেষ্ট। রাচিন রবীন্দ্র সেঞ্চুরি করে দলকে তাই সহজেই জিতিয়েছেন।
বাংলাদেশের বোলিং পারফরম্যান্সে অবশ্য এরপরও খুশি শেন বন্ড। তাঁর চোখে বাংলাদেশের সমস্যা ব্যাটিং, ‘আমি বাংলাদেশের বোলিং আক্রমণকে বেশ ভালো মনে করি। তারা গতিময় একটা পেসার পেয়েছে, তাদের একজন বাঁহাতি পেসার (মোস্তাফিজুর রহমান) রয়েছে, যা নিউজিল্যান্ড বা ইংল্যান্ডের মতো দলের নেই। স্পিনাররাও ভালো।’
শেন বন্ড যোগ করে বলেছেন, ‘বাংলাদেশ সুযোগ হাতছাড়া করেছে। এই ধরনের ম্যাচে সূক্ষ্ম ভুলগুলোই বড় পার্থক্য গড়ে দেয়। রান-আউটের সুযোগ মিস করা কিংবা ক্যাচ ফেলে দেওয়া—এগুলোই ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ করে। যদি তারা সুযোগগুলো কাজে লাগাত, তাহলে ম্যাচের চিত্র পুরোপুরি বদলে যেতে পারত। তাদের বোলিং আক্রমণ নিয়ে কাজ করার অনেক কিছু আছে, কিন্তু দিন শেষে তাদের ব্যাটিংটাই মূল সমস্যা।’