দ্যা নিউ ভিশন

এপ্রিল ৪, ২০২৫ ১৫:০১

নাঈমের সেঞ্চুরির পর সৌম্যর লড়াই, হার সেই রংপুরেরই

এবারের বিপিএলের অষ্টম সেঞ্চুরি এসেছে মোহাম্মদ নাঈমের ব্যাট থেকে।

পাহাড়ের চূড়া থেকে কীভাবে গড়িয়ে নিচে পড়তে হয় তা কেউ রংপুর রাইডার্সের কাছ থেকে শিখুক। কেন পড়ছে, সেটা তারাই ভালো বলতে পারবে। তবে সাদা চোখে মনে হচ্ছে রংপুর বাজে ক্রিকেট খেলেছে। নয়তো এবারের বিপিএলে টানা আট ম্যাচ জেতা একটা দল টানা চার ম্যাচে হারবে কেন!

আজ মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে শিরোপা প্রত্যাশী রংপুর রাইডার্সকে ৪৬ রানে হারিয়ে সর্বশেষ ধাক্কাটা দিয়েছে খুলনা টাইগার্স, আরও নির্দিষ্ট করে বললে মোহাম্মদ নাঈমের হার না মারা সেঞ্চুরি। এবারের বিপিএলের অষ্টম সেঞ্চুরিটি তিনি করেছেন মাত্র ৫৫ বলে, শেষ পর্যন্ত ১১১ রানে অপরাজিত ৬২ বলে। ছক্কা আটটি ও চার সাতটি।

৬০ রানে ২ উইকেট হারানোর পর তৃতীয় উইকেট জুটিতে উইলিয়াম বোসিস্টের (২১ বলে ৩৬) সঙ্গে ৫১ বলে ৮৮ রানের জুটি, এরপর চতুর্থ উইকেটে মাহিদুল ইসলামের (১৫ বলে ২৯) সঙ্গে ২৩ বলে ৭০ রানের জুটিতে খুলনাকে ২২০ রানের সংগ্রহ এনে দেন মূলত নাঈমই।

রান সংখ্যা দেখলে মনে হবে বিপিএলটা এবার খুব খারাপ কাটছে না নাঈমের। এখন তো তানজিদ হাসানকে (৪২৭) টপকে টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ (৪৪৪) রানও তাঁর। তবে এর আগে করা নাঈমের তিন ফিফটির দুটিতেই ছিল না টি-টোয়েন্টির মেজাজ, দল হেরেছিল তিন ম্যাচেই। তাঁর আজকের ১৭৯.০৩ স্ট্রাইক রেটের ইনিংস অনেকটাই ভুলিয়ে দিয়েছে সেই মন্থর ব্যাটিং।

খুলনার রানটা বেড়েছে মূলত পরের ১০ ওভারে। প্রথম ১০ ওভারে যেখানে ২ উইকেটে রান ছিল ৭৪, পরের ১০ ওভারে আরও ২ উইকেট হারিয়ে এসেছে প্রায় দ্বিগুণ— ১৪৬। এর মধ্যে ইফতিখার আহমেদের করা ১২তম ওভারে ১৯ রানের ১৯-ই নাঈমের, ছক্কা ছিল তিনটি। নাহিদ রানার পরের ওভারে ১৭। ওভারের প্রথম বলে নাঈমের ছক্কার পর শেষ বলে ছক্কা মেরেছেন বোসিস্টও। শেখ মেহেদীর করা ১৬তম ওভারে আসা তিন বাউন্ডারির দুটিই নাঈমের।

রংপুরের পেসার সাইফউদ্দিনের করা ইনিংসের ১৮তম ওভারটি তো এই বিপিএলের আলোচিত ওভারগুলোর মধ্যেই ঠাঁই পেয়ে যেতে পারে। ২২ রান আসা ওই ওভারটি ছিল ১০ বলের, ছিল দুটি নো আর দুই ওয়াইড বল। দুই নো এর একটিতে আবার নাঈম মেরেছেন ছক্কা, পরের দুই বলে দুই চার।

নাঈমের তাণ্ডবে ব্যাটিং এবং তাঁকে দেখে অন্যদেরও মেরে খেলার প্রবণতায় রংপুরের বোলারদের অনেকটাই অসহায় মনে হয়েছে। বিপিএলে ১০ম ম্যাচ খেলা নাহিদ রানার বল গতি হারিয়েছে অনেক। একটি বলে সর্বোচ্চ ১৪৮ কিলোমিটার গতি উঠলেও তাঁর অনেক বলই ছিল ১৪০ কিলোমিটারের নিচে, সর্বনিম্ন ১১৩ কিলোমিটার গতিতেও আজ বোলিং করেছেন তিনি। সেটির প্রতিচ্ছবি নাহিদের বোলিং ফিগারেও, ৪ ওভারে ৩৮ রান দিয়ে থেকেছেন উইকেটশূন্য।

রংপুরের ফিল্ডিংও দেখতে বাজে হয়েছে। ক্যাচ পড়েছে, ফিল্ডারের হাত ফসকে চার হয়েছে। টেলিভিশন পর্দায় ভেসে উঠেছে অধিনায়ক নুরুল হাসানের চেহারায় হতাশা। আগের তিন ম্যাচ হারার পরও মনে হয়েছিল রংপুর সেটাকে ‘সাময়িক দুঃসময়’ হিসেবেই নিয়েছে। কিন্তু আজকের হারটার একটু চড়া মূল্য দিতে হতে পারে তাদের।

ফরচুন বরিশালের কাছে শীর্ষ স্থান আগেই হারিয়েছে রংপুর, খুলনার কাছে হারার পর এখন তাদের দ্বিতীয় স্থানে থাকাটাও সংশয়ে পড়ে যাবে। চিটাগং কিংস পরের দুই ম্যাচেই জিতে গেলে দ্বিতীয় স্থানে চলে যাবে তারা, রংপুর নেমে যাবে তৃতীয় স্থানে।

ফাইনালের পথ তখন কিছুটা কঠিন হয়ে যাবে। শেষ দুই ম্যাচের প্রথমটিতে আজ সন্ধ্যায় সিলেট স্ট্রাইকার্সের মুখোমুখি হবে চিটাগং। পরের ম্যাচ ১ ফেব্রুয়ারি ফরচুন বরিশালের বিপক্ষে। খুলনা আজ জিতে প্লে অফের সম্ভাবনা উজ্জ্বল করেছে, তবে সেটা নিশ্চিত করতে হলে শেষ ম্যাচটাও জিততে হবে তাদের, ১ ফেব্রুয়ারির যে ম্যাচে প্রতিপক্ষ ঢাকা ক্যাপিটালস।

৪৬ রানে হারা ম্যাচে রংপুরের ৯ উইকেটে করা ১৭৪ রানে ওপেনার সৌম্য সরকারের ৪৮ বলে ৭৪ রানের ইনিংসটাই অলংকার। কিন্তু ২২০ রান তাড়া করে জিততে ওরকম একটা ইনিংস হলেই তো আর হয় না। জেতার চেষ্টা থাকা চাই সবার মধ্যেই।

Related News

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

সর্বশেষ

ছাত্রদলের অনুষ্ঠানে শিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি, ঐক্যবদ্ধভাবে দেশকে এগিয়ে নেওয়ার আশা

ছাত্রশিবির, ছাত্রদলসহ যাঁরা ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে ভূমিকা রেখেছেন, তাঁরা ঐক্যবদ্ধভাবে আগামী