খেলোয়াড়দের পারিশ্রমিক সময়মতো দিতে পারছে না বিপিএলের কয়েকটি ফ্র্যাঞ্চাইজি। এ নিয়ে বিপিএলের কড়া সমালোচনা করেছেন ওয়ার্ল্ড ক্রিকেটার্স অ্যাসোসিয়েশনের (ডব্লিউসিএ) প্রধান নির্বাহী টম মোফাট। তাঁর ভাষায়, বিপিএল এ বিষয়ে ‘বারবার দোষী’ হচ্ছে। গতকাল রংপুর রাইডার্সের বিপক্ষে বকেয়া পারিশ্রমিক ইস্যুতে দুর্বার রাজশাহীর হয়ে মাঠে নামেননি বিদেশি খেলোয়াড়েরা। তারপর এই কড়া বার্তা দিলেন ডব্লিউসিএর প্রধান নির্বাহী।
রাজশাহীর অধিনায়ক তাসকিন আহমেদ বকেয়া পারিশ্রমিক নিয়ে মজাও করেছেন। রোববার ম্যাচ শুরুর কয়েক ঘণ্টা আগে এই ফ্র্যাঞ্চাইজি দলে বাংলাদেশি ক্রিকেটাররা পারিশ্রমিকের চেক পান। তাসকিন মজা করে বলেছিলেন, পিচে বল যেমন বাউন্স করে তেমনি ব্যাংকে এসব চেকও যেন বাউন্স না করে। বিসিবির মিডিয়া চেয়ারম্যান ইফতেখার আহমেদ বলেছেন, বোর্ড রাজশাহীর বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার কথা ভাবছে।
বিপিএলে আজ সিলেট স্ট্রাইকার্সের বিপক্ষে লিগে নিজেদের শেষ ম্যাচে ৫ উইকেটে জেতে রাজশাহী। এ ম্যাচে দুই বিদেশি রায়ান বার্ল ও আফতাব আলমকে নিয়ে মাঠে নেমেছিল দলটি। তবে রাজশাহীর মালিক শফিকুর রহমান তাঁদের পারিশ্রমিক পুরোটা পরিশোধ করেছেন কি না, তা নিশ্চিত নয়।
মোফাট এ নিয়ে ইএসপিএনক্রিকইনফোর সঙ্গে কথা বলেছেন। খেলোয়াড়দের ঠিকমতো পারিশ্রমিক না পাওয়া নিয়ে তাঁর ভাষ্য, ‘বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের বকেয়া পারিশ্রমিকের বিষয়টা বারবার শুনতে পাওয়া হতাশার, কয়েক বছর ধরেই এ নিয়ে বিপিএল বারবার দোষী হচ্ছে।’
মোফাট আরও বলেছেন, ‘এই সমস্যাগুলো অগ্রহণযোগ্য, তারা (বিপিএল) উন্নতি করতে পারছে না, আর টুর্নামেন্টের প্রচার-প্রসার ঘটে খেলোয়াড়দের জন্যই। যেকোনো লিগে এটা আনুষ্ঠানিকভাবেই ঠিক করা যে, চুক্তিপত্রে কিছু মৌলিক সুরক্ষা এবং ন্যূনতম মান বজায় রাখার বিষয়ে খেলোয়াড়েরা আত্মবিশ্বাসী থাকবে এবং সেগুলো ভালোভাবে কার্যকরও করা যাবে।’
পারিশ্রমিকের এসব ইস্যু সমাধান করা দরকার বলে মনে করেন মোফাট, ‘এ মুহূর্তে এমন আন্তর্জাতিক ইস্যু সমাধানের মতো সক্ষমতায় নেই খেলাটি। এ বছরের বিশ্বের নেতৃস্থানীয় খেলা হিসেবে দাবি করতে চাইলে এসব পাল্টাতে হবে।’
২০১২ ও ২০১৩ সালে বিপিএলের প্রথম দুই সংস্করণেও খেলোয়াড়দের পারিশ্রমিক বকেয়া ছিল। অনেক খেলোয়াড়ই ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলো থেকে ঠিকমতো পারিশ্রমিক পাননি। দুর্নীতির অভিযোগ ওঠার পর বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) এক মৌসুমের জন্য টুর্নামেন্টটি স্থগিতও করেছিল।
গত সপ্তাহে রাজশাহীর খেলোয়াড়েরা অনুশীলন বর্জন করার পর বকেয়া পারিশ্রমিকের বিষয়টি সামনে চলে আসে। টুর্নামেন্টের প্রথম দুই সপ্তাহে কোনো পারিশ্রমিক পাননি দলটির খেলোয়াড়েরা। চট্টগ্রামে রাজশাহী হোটেল বিলও ঠিকমতো পরিশোধ করতে পারেনি।