নিজেদের ভেন্যুতে পরপর দুই ম্যাচে জয়। আগে–পরে শুধুই হারের হাহাকার। সেই সিলেট স্ট্রাইকার্স যেন আজ একটু ‘চমক’ই দেখাতে চাইল। মাত্র ১১৭ রানের সংগ্রহ নিয়েই চোখ রাঙাল দুর্বার রাজশাহীকে।
কিন্তু দুর্বার রাজশাহী যে আরেক কাঠি এগিয়ে। তাদের মাঠের বাইরের কর্মকাণ্ড যত বিতর্কিত হবে, যত তারা সমালোচিত হবে; ততই যেন তারা দুর্বার হয়ে উঠবে মাঠে! কাল রংপুর রাইডার্সকে টুর্নামেন্টে দ্বিতীয়বারের মতো হারানো রাজশাহী আজ কাঁপতে কাঁপতে শুরু করেও শেষ পর্যন্ত জিতেই গেল সিলেটের বিপক্ষে। চট্টগ্রাম ও মিরপুরে রংপুরের বিপক্ষে পরপর দুটি জয়সহ এটি তাদের টানা তৃতীয় জয়। তাসকিন আহমেদের অধিনায়কত্বে চার ম্যাচ খেলে তিনটিতেই জিতল রাজশাহী।
১২ ম্যাচে ষষ্ঠ জয়ে ১২ পয়েন্ট নিয়ে এখন আরও উজ্জ্বল রাজশাহীর প্লে–অফে খেলার সম্ভাবনা। অন্যদিকে ১১ ম্যাচে নবম ম্যাচ হারল সিলেট। প্লে–অফের সম্ভাবনা অবশ্য আগেই শেষ হয়ে গিয়েছিল তাদের।
খেলোয়াড়দের টাকা–পয়সা আর হোটেল বিল বিতর্কের জেরে এবারের বিপিএলে সবচেয়ে আলোচিত দল রাজশাহী। টাকা পাননি বলে গতকাল তো বিদেশি ক্রিকেটাররা খেললেনই না রংপুরের বিপক্ষে। রাজশাহী অবশ্য স্থানীয় ক্রিকেটারদের নিয়েই হারিয়ে দিয়েছে টুর্নামেন্টের অন্যতম সেরা দলকে।
সেই আত্মবিশ্বাস থেকেই কিনা আজ ব্যাটিংয়ের শুরুটা খারাপ করেও শেষ পর্যন্ত ১৬.৫ ওভারেই ৫ উইকেটের জয় তুলে নিয়েছে তারা। সিলেটের ৯ উইকেটে করা ১১৭ রানের জবাবে ইনিংসের প্রথম ওভারেই ওপেনার সাব্বির হোসেনকে হারায় রাজশাহী। প্রথম চার ওভারে ২২ রানের মধ্যে হারিয়ে ফেলে ওপরের দিকের আরও তিন ব্যাটসম্যান জিশান আলম, এনামুল হক ও ইয়াসির আলীকে।
১১৮ রানের লক্ষ্যটাকেও অনেক বড়ই মনে হচ্ছিল তখন। লো স্কোরিং ম্যাচেও ভর করল কিছুটা উত্তেজনা। কিন্তু আকবর আলী আর রায়ান বার্লের ৬৩ বলে ৭৫ রানের পঞ্চম উইকেট জুটি আবারও ঘুরিয়ে দেয় ম্যাচ। আকবর ৩৮ বলে ৪৩ রান করে ফিরে গেলেও ৩৪ বলে অপরাজিত ৪৮ রান করে বার্ল মাঠ ছেড়েছেন দলকে জিতিয়েই।
গতকাল নিজেরা মাত্র ১১৯ রান করেও রংপুরকে ১১৭ রানে আটকে রেখে ২ রানের নাটকীয় জয় পেয়েছিল রাজশাহী। শুরুটা নড়বড়ে হওয়ায় আজ মনে হচ্ছিল, এবার বুঝি রাজশাহীই পড়তে যাচ্ছে রংপুরের অবস্থায়। অবশ্য সন্ধ্যার ম্যাচে শেরেবাংলা স্টেডিয়ামের উইকেটে ব্যাটিংটাও একটু কঠিন মনে হচ্ছিল। সিলেটের ইনিংসে যে দুজন সর্বোচ্চ ২৫ আর ২৪ রান করেছেন, সেই আহসান ভাট্টি আর জাকির হাসানও খেলেছেন ২১ আর ২৫টি করে বল।
শেষ দিকে সুমন খানের ১১ বলে অপরাজিত ২০ রান ছাড়া টি–টোয়েন্টির মেজাজ ছিল না সিলেটের কারও ব্যাটেই। রাজশাহীর অফ স্পিনার মেহরব হাসান ৪ ওভারে মাত্র ১৫ রানে নিয়েছেন ৪ উইকেট। পেসার মৃত্যুঞ্জয় চৌধুরী ৩ উইকেট নিয়েছেন ৩৩ রানে।
জয় দিয়ে লিগ পর্ব শেষ করা রাজশাহীর চোখে এখন প্লে–অফের স্বপ্ন। তবে সেই স্বপ্ন পূরণ করতে আপাতত তাদের আর কিছু করার নেই। তাকিয়ে থাকতে হবে অন্য দলের ম্যাচের দিকে।
সংক্ষিপ্ত স্কোর
সিলেট স্ট্রাইকার্স: ২০ ওভারে ১১৭/৯ (ভাট্টি ২৫, জাকির ২৪, সুমন ২০*; মেহেরব ৪/১৫, মৃত্যুঞ্জয় ৩/৩৩)। দুর্বার রাজশাহী: ১৬.৫ ওভারে ১২১/৫ (বার্ল ৪৮*, আকবর ৪৩; তানজিম ২/১৭, জাগেসার ২/৩৪)। ফল: দুর্বার রাজশাহী ৫ উইকেটে জয়ী। ম্যান অব দ্য ম্যাচ: এসএম মেহেরব।