ক্লাবগুলোর দাবির মুখে গঠনতন্ত্র সংশোধন কমিটির কার্যক্রম স্থগিত করেছে বিসিবি। তাতে প্রথম বিভাগ ক্রিকেট লিগ নিয়ে নিজেদের অবস্থান থেকে সরে এসেছে ক্লাবগুলোও। ২০টি ক্লাব নিয়ে আগামী ৩০ জানুয়ারি শুরু হবে লিগ। তার আগে আগামীকাল হয়ে যাবে লিগের ট্রফি উন্মোচন। যদিও অনেক ক্রিকেটারের অভিযোগ, গত মৌসুমের টাকাই এখনো পাননি তাঁরা।
আজ ঢাকার বিভিন্ন ক্লাবের প্রতিনিধিদের সঙ্গে সভা শেষে মিরপুরে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে বিসিবি পরিচালক ও সিসিডিএম প্রধান সালাহউদ্দিন চৌধুরী এ কথা জানিয়েছেন। সভায় প্রিমিয়ার ক্রিকেট লিগ নিয়েও আলোচনা হয়েছে। লিগ শুরুর সম্ভাব্য সময় মার্চের প্রথম সপ্তাহ। দলবদলের সম্ভাব্য সময় ১৭ থেকে ১৯ ফেব্রুয়ারি। পূর্বসিদ্ধান্ত অনুযায়ী, এবার লিগ হবে বিদেশি ক্রিকেটার ছাড়াই।
এর আগে ২০ জানুয়ারি শুরু হওয়ার কথা ছিল প্রথম বিভাগ ক্রিকেট লিগ, ১৭ জানুয়ারি হওয়ার কথা ছিল ট্রফি উন্মোচন। কিন্তু বিসিবি পরিচালক নাজমূল আবেদীনের নেতৃত্বাধীন ৫ সদস্যের গঠনতন্ত্র সংশোধন কমিটির কিছু প্রস্তাব নিয়ে আপত্তি তুলে লিগ খেলবে না বলে জানায় ক্লাবগুলো। সংশোধনী প্রস্তাবে বিসিবির সাধারণ পরিষদ ও পরিচালনা পরিষদে ক্লাবের প্রতিনিধিত্ব কমানোর প্রস্তাব আনার অভিযোগ তুলে তা বাতিল ও নাজমূল আবেদীনের পদত্যাগ দাবি করে তারা। এরপর ২৫ জানুয়ারির বোর্ড সভায় কমিটির কার্যক্রমই স্থগিত করে দেওয়া হয়।
তাতে ক্লাবগুলো অবস্থান বদলে লিগ খেলতে রাজি হলেও কিছু ক্লাবের ক্রিকেটারদের অভিযোগ, গত মৌসুমের টাকাই এখনো হাতে পাননি তাঁরা। বিপিএলে খেলোয়াড়দের বকেয়া পাওনা নিয়ে অনেক কথা হলেও প্রথম বিভাগের ক্রিকেটারদের বকেয়া নিয়ে কেউ কথা বলেন না, ক্লাবের কর্মকর্তারা ক্রিকেটারদের ভিখারি মনে করেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এমন ক্ষোভ প্রকাশ করতেও দেখা গেছে ক্রিকেটারদের।
সংবাদ সম্মেলনে এ নিয়ে জানতে চাইলে ঢাকা ক্রিকেট ক্লাব অর্গানাইজারস অ্যাসোসিয়েশনের আহ্বায়ক রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘এ রকম কোনো অভিযোগ আমরা পাইনি। যদি কোনো ক্রিকেটার টাকা না পেয়ে থাকে, নিশ্চয়ই ক্লাবগুলো ব্যবস্থা নেবে। কারও টাকা বাকি রেখে নিশ্চয়ই কর্মকর্তারা লিগ শুরু করবেন না।’ ক্লাবগুলো যেন ক্রিকেটারদের ঠিকভাবে প্রতিশ্রুত টাকা দেয়, সে ব্যাপারে তাঁরা উদ্যোগ নেবেন বলেও জানিয়েছেন তিনি।
গঠনতন্ত্র সংশোধনী কমিটির কার্যক্রম স্থগিত করায় বিসিবিকে ধন্যবাদ দিয়ে রফিকুল ইসলাম বলেন, কমিটি স্থগিত বা বাতিল করা হয়েছে। সংকট নিরসনে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ায় বিসিবিকে ধন্যবাদ। তিনি জানান, বিসিবিতে ক্লাবের পরিচালকসংখ্যা ১২ থেকে বাড়িয়ে ১৬ জন করার প্রস্তাব আছে তাঁদের। রফিকুল ইসলামের মতে, জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ে যেসব জায়গায় নিয়মিত খেলা হয় না, সেসব জায়গার কাউন্সিলরদের বাদ দেওয়া উচিত।