লা লিগায় শেষ চার ম্যাচে পয়েন্ট হারিয়ে বেশ চাপেই ছিল বার্সেলোনা। এই চার ম্যাচে দুটিতে হার এবং অন্য দুটিতে ড্র করে শিরোপা লড়াইয়েও অনেক পিছিয়ে পড়েছিল তারা। এমন পরিস্থিতিতে রোববার রাতে ভ্যালেন্সিয়ার বিপক্ষে ম্যাচের আগেও শঙ্কা ভর করেছিল দলটির ভক্ত-সমর্থকদের মনে।
এই ম্যাচে পয়েন্ট হারালে লা লিগার শিরোপা পুনরুদ্ধারের পথটা যে আরও কঠিন হয়ে পড়বে বার্সার জন্য। কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ এই ম্যাচে বার্সাকে দেখা গেল অন্য মেজাজে। কে জানে, চাপই হয়তো বার্সাকে নতুন করে জাগিয়ে তুলেছে। আর ক্ষুধার্ত বার্সা জেগে ওঠায় কপাল পুড়েছে ভ্যালেন্সিয়ার। কাতালান পরাশক্তিদের কাছে ভ্যালেন্সিয়া উড়ে গেছে ৭-১ গোলের বিশাল ব্যবধানে।
লা লিগায় বার্সেলোনা এর আগে সর্বশেষ জিতেছিল ৩ ডিসেম্বর মায়োর্কার বিপক্ষে ৫-১ গোলে। এরপর ড্র করে রিয়াল বেতিস ও হেতাফের বিপক্ষে, হারে লেগানেস ও আতলেতিকো মাদ্রিদের কাছে। লিগে দুই জয়ের মাঝের ৫৪ দিনে অবশ্য কোপা দেল রে, চ্যাম্পিয়নস লিগ ও স্প্যানিশ সুপার কাপে খেলা ৬ ম্যাচেই জিতেছে দলটি।
প্রায় দুই মাস লিগে জয়হীন থাকা বার্সা এ দিন ম্যাচের প্রথমার্ধেই ভ্যালেন্সিয়ার জালে ৫ বার বল জড়ায় বার্সা। ঘরের মাঠ অলিম্পিক লুইস কোম্পানিজ স্টেডিয়ামে বার্সার ৫ খেলোয়াড় করেছেন ৬ গোল, অন্য গোলটি আত্মঘাতী। দুর্দান্ত খেলা ফেরমিন লোপেজ জোড়া গোলের পাশাপাশি স্কোরশিটে নাম লিখিয়েছেন ফ্রেঙ্কি ডি ইয়াং, ফেরান তোরেস, রাফিনিয়া এবং রবার্ট লেভানডফস্কি। এদিন ম্যাচে ১৪ মিনিটেই ৩ গোলে এগিয়ে যায় বার্সা।
এরপর বিরতির আগে যোগ করে আরও দুই গোল। আর বাকি দুই গোল আসে বিরতির পর। এই ম্যাচে জোড়া গোল এবং জোড়া অ্যাসিস্ট করে লিওনেল মেসিকে মনে করিয়ে দিয়েছেন লোপেজ। বার্সার হয়ে লা লিগার কোনো ম্যাচে সর্বশেষ জোড়া গোল ও জোড়া অ্যাসিস্ট করেছিলেন মেসিই। ২০১৯ সালের ২৮ অক্টোবর রিয়াল ভ্যায়াদোলিদের বিপক্ষে এই নৈপুণ্য দেখিয়েছিলেন আর্জেন্টাইন মহাতারকা।
দুর্দান্ত এই জয়ের পরও অবশ্য পয়েন্ট তালিকায় বার্সাকে তিন নম্বরেই থাকতে হচ্ছে। ২১ ম্যাচ শেষে ১৩ জয়, ৩ ড্র ও ৫ হারে বার্সার পয়েন্ট ৪২। শীর্ষে থাকা রিয়ালের চেয়ে এখনো ৭ পয়েন্টে পিছিয়ে আছে তারা। সমান ম্যাচে ১৫ জয়, ৪ ড্র ও ২ হারে রিয়ালের পয়েন্ট ৪৯। আর দুইয়ে থাকা আতলেতিকো মাদ্রিদের পয়েন্ট ২১ ম্যাচে ১৩ জয়, ৬ ড্র ও ২ হারে ৪৫।
ম্যাচ শেষে লোপেজ প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে বলেন, ‘আমরা লা লিগায় বাজে পরিস্থিতিতে ছিলাম। এই জয়টা আমাদের প্রয়োজন ছিল। এখন আমরা লড়াই চালিয়ে যেতে পারব। এখনো লম্বা পথ পাড়ি দেওয়া বাকি এবং আমরা শেষ পর্যন্ত লড়াই করব।’
বার্সার জয়কে ‘নিখুঁত’ উল্লেখ করে কোচ হ্যান্সি ফ্লিক বলেছেন, ‘আমি দলের এই জয় ক্ষুধা ভালোবাসি এবং যেভাবে সেটা প্রকাশ করেছে তাও। ম্যাচটা ২-০ বা ৩-০তে শেষ হয়ে যায়নি। এই মানের খেলোয়াড় থাকাটা দলের জন্য ভালো ব্যাপার। আমরা খুব দারুণভাবে ম্যাচটা শুরু করেছিলাম। এখন পরের ম্যাচটা ঘরের মাঠে, আমাদের এভাবেই এগিয়ে যেতে হবে।’