দ্যা নিউ ভিশন

এপ্রিল ৪, ২০২৫ ০১:১৭

তাসকিন–হাসান–নাহিদরা কত বছর পর পেছনে ফেললেন সাকিব–মিরাজ–তাইজুলদের

অনুশীলনে বল হাতে তাসকিন আহমেদ, দুই পাশে নাহিদ রানা ও হাসান মাহমুদ

মূল কাজটা স্পিনাররা করবেন। পেসাররা থাকবেন সহযোগী হিসেবে, যাঁদের মূল কাজ বলটাকে দ্রুত পুরোনো করা। টেস্ট ক্রিকেটে বাংলাদেশ এই ‘নিয়ম’ মেনেই খেলে এসেছে এত দিন। বিশেষ করে দেশের মাটিতে, যেখানে একজন পেসারও না নিয়ে চারজন স্পিনার নিয়ে খেলছিল বাংলাদেশ। তবে দিন বদলে যাচ্ছে, আর সেটি খুব দ্রুতই। ২০২৪ সালটাই যার সবচেয়ে বড় প্রমাণ। এ বছর যে ১০টি টেস্ট খেলেছে বাংলাদেশ, তাতে স্পিনারদের পেছনে ফেলে উজ্জ্বল বাংলাদেশের পেসাররা।

টেস্টে এক পঞ্জিকাবর্ষে সবচেয়ে বেশি উইকেট নেওয়ার রেকর্ডও গড়ে ফেলেছেন তাসকিনরা, পেয়েছেন ৮২ উইকেট। ছাড়িয়ে গেছেন ২০২২ সালের ৫৫ উইকেটকে। তবে প্রশ্ন উঠতে পারে, এই দুই সালেই বাংলাদেশ সবচেয়ে বেশি ১০টি করে টেস্ট খেলেছে, উইকেটসংখ্যা তো বেশি হবেই!

তবে মোট উইকেট নয়, এখানে আলোচনা স্পিনারদের চেয়ে পেসারদের বেশি উইকেট নেওয়া নিয়ে। এবার তা করে ১৭ বছরের পুরোনো স্মৃতি ফিরিয়েছেন তাসকিন–হাসান–নাহিদরা। ২০২৪ সালের আগে বাংলাদেশের পেসাররা টেস্টে স্পিনারদের চেয়ে বেশি উইকেট পেয়েছিলেন ২০০৭ সালে।

সে বছর পাঁচ টেস্টে বাংলাদেশের পেসাররা নিয়েছিলেন ২১ উইকেট, স্পিনাররা ১০। এ বছর স্পিনাররা পেসারদের চেয়ে ১৩ উইকেট পেছনে। পেসারদের উইকেট ৮২, স্পিনারদের ৬৯। ২০০৭ সালের পর বাংলাদেশের স্পিন–নির্ভরতা কতটা বেড়ে গিয়েছিল, সেটির বড় প্রমাণ ২০১৮ সাল। সে বছর টেস্টে একচ্ছত্র আধিপত্য ছিল সাকিব–তাইজুল–মিরাজদের। পেসারদের চেয়ে ১০২টি উইকেট বেশি পেয়েছিলেন তাঁরা। স্পিনাররা পেয়েছিলেন ১১৯টি উইকেট, পেসাররা মাত্র ১৭টি। টেস্টে বাংলাদেশের পেস–স্পিনে উইকেটের পার্থক্য ওই বছরই সবচেয়ে বেশি।

২০১৮ সালে সাত টেস্টে ৪৩ উইকেট নিয়েছিলেন বাঁহাতি স্পিনার তাইজুল ইসলাম। অফ স্পিনার মেহেদী হাসান মিরাজ পেয়েছিলেন আট ম্যাচে ৪১ উইকেট। এক পঞ্জিকাবর্ষে বাংলাদেশের কোনো বোলার এর আগে ও পরে কখনোই টেস্টে ৪০ উইকেট নিতে পারেননি।

এবার পেসারদের দাপটের বছরে সর্বোচ্চ ৩০ উইকেট ৯ ম্যাচ খেলা হাসান মাহমুদের, যা টেস্টে বাংলাদেশের কোনো পেসারের সবচেয়ে বেশি উইকেট নেওয়ার রেকর্ড। হাসান পেছনে ফেলেছেন শাহাদাত হোসেনকে। ২০০৮ সালে ৯ ম্যাচ খেলেই ২৩ উইকেট নিয়েছিলেন শাহাদাত। এ বছর বাংলাদেশের হয়ে টেস্টে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ২০ উইকেট গতির ঝড় তুলে আলোচনায় আসা নাহিদ রানার।

২০২৪ সালে টেস্টে বাংলাদেশের পেসাররা

ম্যাচ উইকেট সেরা গড়
হাসান মাহমুদ ৩০ ৫/৪৩ ২৮.৩০
নাহিদ রানা ২০ ৫/৬১ ৩৬.৫৫
তাসকিন আহমেদ ১৯ ৬/৫৪ ১৯.৯৪
খালেদ আহমেদ ৩/২২ ৩৮.০০
শরীফুল ইসলাম ২/৭৭ ৪৮.৮৩

আরও তিনবার

শুধু ২০০৭ ও ২০২৪ সালেই নয়, বাংলাদেশের পেসাররা টেস্টে আরও তিনবার স্পিনারদের চেয়ে বেশি উইকেট পেয়েছেন। প্রথমবার ২০০১ সালে। টেস্ট ক্রিকেটে বাংলাদেশের দ্বিতীয় বছরে আট টেস্টে পেসাররা নেন ৩৯ উইকেট, স্পিনাররা ১৫ উইকেট। আট টেস্টের ছয়টিই বাংলাদেশ খেলেছিল দেশের বাইরে, সেটিও বড় ভূমিকা রেখেছিল তাতে।

২০০২ সালেও পেসাররা স্পিনারদের চেয়ে বেশি উইকেট পেয়েছিলেন। আট টেস্টে সে বছর পেসাররা নেন ৪২ উইকেট, স্পিনাররা ২৩ উইকেট। ২০০৫ সালে বাংলাদেশের প্রথম টেস্ট জয়ের বছরে স্পিনারদের চেয়ে ১টি উইকেট বেশি পেয়েছিলেন পেসাররা (৩২–৩১)।

বাংলাদেশের পেসারদের দাপটের পাঁচ বছর

সাল টেস্ট পেস স্পিন
২০০১ ৩৯ ১৫
২০০২ ৪২ ২৩
২০০৫ ৩২ ৩১
২০০৭ ২১ ১০
২০২৪ ১০ ৮২ ৬৯

 

Related News

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

সর্বশেষ

ছাত্রদলের অনুষ্ঠানে শিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি, ঐক্যবদ্ধভাবে দেশকে এগিয়ে নেওয়ার আশা

ছাত্রশিবির, ছাত্রদলসহ যাঁরা ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে ভূমিকা রেখেছেন, তাঁরা ঐক্যবদ্ধভাবে আগামী