ইংল্যান্ডের দ্বিতীয় ইনিংসে ৫১তম ওভারের দ্বিতীয় বল। নিউজিল্যান্ড পেসার উইল ও’রুর্ককে এগিয়ে এসে মিড অফে তুলে খেললেন হ্যারি ব্রুক। ২টি রান পেলেন। এ ২টি রানেই অনন্য এক মাইলফলক ছুঁয়েছে ইংল্যান্ড। টেস্ট ক্রিকেটে প্রথম দল হিসেবে এটা ছিল ইংল্যান্ডের ব্যাটসম্যানদের ৫ লাখতম রান! ঘটনা কাল বেসিন রিজার্ভে ওয়েলিংটন টেস্টের দ্বিতীয় দিনে।
রানের এই দৌড়ে ইংল্যান্ড সবার আগে থাকবে সেটাই অবশ্য স্বাভাবিক। টেস্ট ক্রিকেটের ১৪৭ বছরের ইতিহাসে ক্রিকেটের ‘জনক’রাই এ সংস্করণে সবচেয়ে বেশি ম্যাচ খেলেছে। ১০৮২ টেস্ট। আর কোনো দল টেস্ট ম্যাচের সংখ্যায় চার অঙ্কে পৌঁছাতে পারেনি। শুধু ম্যাচসংখ্যা নয়, ব্যাটিংয়ে বেশির ভাগ জায়গাতেই অন্য যে কোনো দলের চেয়ে এগিয়ে ইংল্যান্ড।
ওয়েলিংটন টেস্টে দ্বিতীয় দিন পর্যন্ত এই সংস্করণে ইংল্যান্ডের ব্যাটসম্যানদের মোট রান। ইংল্যান্ডের ৭১৭ জন খেলোয়াড় মিলে করেছেন এই রান। খেলোয়াড় সংখ্যাতেও সবচেয়ে এগিয়ে ইংলিশরা। আর কোনো দলের হয়ে ৫০০ জনও খেলেননি। ইনিংস–সংখ্যায়ও (১৮৯৫৪) ইংল্যান্ড অন্য যে কোনো দলের চেয়ে এগিয়ে। ইংল্যান্ডের ব্যাটসম্যানেরাই সবচেয়ে বেশিবার অপরাজিত (২৪৫৯) অপরাজিত থেকেছেন। সেঞ্চুরি (৯২৯) ও ফিফটিসংখ্যায়ও (২৩১৪) ইংল্যান্ড এগিয়ে। এমনকি শূন্য রানে আউট হওয়াতেও। সেই সংখ্যাটা ১৯১৭!
ভারতের বিপক্ষে চলমান অ্যাডিলেড টেস্টে নিজেদের প্রথম ইনিংস পর্যন্ত অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটসম্যানদের মোট রান। ইংল্যান্ডের মতো অস্ট্রেলিয়ার টেস্ট ইতিহাসও ১৪৭ বছরের। ১৮৭৭ সালে ইতিহাসের প্রথম টেস্টে যে এ দুটি দলই মুখোমুখি হয়েছিল। কিন্তু অস্ট্রেলিয়া টেস্টে সাড়ে চার লাখ রানও তুলতে পারেনি। ইংল্যান্ডের তুলনায় ২১৪টি টেস্ট কমও খেলেছে অস্ট্রেলিয়া। খেলোয়াড়সংখ্যায় ইংল্যান্ডের চেয়ে ২৫০ জন কম খেলেছেন অস্ট্রেলিয়ার হয়ে। তবে শুধু ইংল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটসম্যানেরাই ২ হাজারের বেশিবার অপরাজিত থেকেছেন।
৮৬৮ টেস্ট খেলা অস্ট্রেলিয়ার হয়ে এই সংস্করণে খেলেছেন ৪৬৭ জন। ইনিংস–সংখ্যার (১৫১৮৫) তালিকায় দুইয়ে অস্ট্রেলিয়া। ২০২৬ বার অপরাজিত থেকেছেন অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটসম্যানেরা। টেস্ট রান তোলার গড়ে অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটসম্যানেরা অবশ্য এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত সবার ওপরে (৩২.৬০)। সেঞ্চুরি (৮৯৩) ও ফিফটি সংখ্যায় (১৯১৮) ইংল্যান্ডের পরই অস্ট্রেলিয়া। ১৫১৯ বার শূন্য রানে আউট হয়েছেন অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটসম্যানেরা।
অ্যাডিলেড টেস্টের দ্বিতীয় দিন পর্যন্ত ভারতের ব্যাটসম্যানদের রান। ইংল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়ার পর তৃতীয় সর্বোচ্চ টেস্ট খেলেছে ভারত। সংখ্যাটা সাড়ে পাঁচ শর ওপারে, ছয় শর কাছাকাছি। চলতি অ্যাডিলেড টেস্টে ভারতের প্রথম ইনিংস পর্যন্ত তাদের রান তোলার গড়—৩১.৭৭, যা অস্ট্রেলিয়ার পরই দ্বিতীয়। সেঞ্চুরিসংখ্যায় ইংল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়ার পর শুধু ভারতই সাড়ে পাঁচ শ পার হতে পেরেছে।
অ্যাডিলেড টেস্টে পর্যন্ত ম্যাচ খেলেছে ৫৮৬টি ও ৩১৬ জন খেলোয়াড় টেস্ট খেলেছেন ভারতের হয়ে। ইনিংস–সংখ্যা ১০১২৬। অপরাজিত (১৩৪৯) থাকায় ভারতের ব্যাটসম্যানেরা তৃতীয়। সেঞ্চুরি ৫৫২টি এবং ফিফটি ১৩০৪টি। ১০৭৩ বার শূন্য রানে আউট হয়েছেন ভারতের ব্যাটসম্যানেরা।
ওয়েস্ট ইন্ডিজের টেস্ট অভিষেক (১৯২৮) ভারতের চেয়ে ৪ বছর আগে। ম্যাচসংখ্যায়ও তাঁরা ভারতের চেয়ে ৪ টেস্ট ব্যবধানে পিছিয়ে। তবে চতুর্থ দল হিসেবে পাঁচ শর বেশি টেস্ট খেলেছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। ইংল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া ও ভারতের পর শুধু ওয়েস্ট ইন্ডিজের ইনিংস–সংখ্যাই ১০ হাজার পেরিয়েছে। ইংল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া ও ভারতের পর শুধু ওয়েস্ট ইন্ডিজের ব্যাটসম্যানেরাই ১৩ শর বেশিসংখ্যকবার অপরাজিত থেকেছেন। টেস্টে সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত রানের ইনিংসটি অবশ্য ওয়েস্ট ইন্ডিজ দলের একজনের। কার আপনার জানা (ব্রায়ান লারা)। ওপরের চারটি দলের পর চতুর্থ দল হিসেবে শুধু ওয়েস্ট ইন্ডিজের সেঞ্চুরিসংখ্যাই ৫০০ পেরিয়েছে।
৫৮২ টেস্টে ৩৪০ জন খেলোয়াড় মাঠে নামিয়েছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। ইনিংস–সংখ্যা ১০৪৫০। অপরাজিত থেকেছে ১৩১৪ বার। সেঞ্চুরিসংখ্যা ৫০২, ফিফটি ১২৩১। ১১৯৫ বার শূন্য রানে আউট হয়েছেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের ব্যাটসম্যানেরা।
টেস্টে গতকাল পর্যন্ত দক্ষিণ আফ্রিকার ব্যাটসম্যানদের রানসংখ্যা। ম্যাচসংখ্যায় পিছিয়ে থাকলেও ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও ভারতের চেয়ে বেশিসংখ্যক খেলোয়াড় টেস্ট খেলেছেন দক্ষিণ আফ্রিকার হয়ে। ইনিংস–সংখ্যায় ও অপরাজিত থাকায় তারা পাকিস্তানের চেয়ে এগিয়ে। দক্ষিণ আফ্রিকার খেলোয়াড়দের সেঞ্চুরি ও ফিফটিসংখ্যা বিশেষ এক অবস্থানে দাঁড়িয়ে। চলতি গেবাখা টেস্টে তৃতীয় দিন পর্যন্ত এই হিসাব করা হয়েছে। আরও একটি বিষয়—টেস্টে দক্ষিণ আফ্রিকার অভিষেক ১৮৮৯ সালে হলেও বর্ণবাদের কারণে মাঝে ২২ বছর নিষিদ্ধ ছিল দক্ষিণ আফ্রিকা।
৪৭০ টেস্টে খেলেছেন ৩৬৭ জন খেলোয়াড়। ইনিংস–সংখ্যা ৮৩৭৯, অপরাজিত ১০৮৭ বার। সেঞ্চুরিসংখ্যা ৪০০, ফিফটি ১০০২টি। ৮৭৮ বার শূন্য রানে আউট হয়েছেন দক্ষিণ আফ্রিকার ব্যাটসম্যানেরা।
টেস্টে পাকিস্তানের ব্যাটসম্যানদের রানসংখ্যা। ভারতের (১৯৩২) চেয়ে কুড়ি বছর পরে টেস্ট অভিষেক পাকিস্তানের। কিন্তু টেস্ট ম্যাচ খেলার দৌড়ে ভারতের চেয়ে খুব একটা পিছিয়ে নেই পাকিস্তান। অভিষেকের পর ৯২ বছরে ভারত যেখানে প্রতি বছর গড়ে ৬.৩৬টি করে টেস্ট খেলেছে, পাকিস্তান সেখানে ৭২ বছরে গড়ে প্রতি বছর ৬.৪০টি করে টেস্ট খেলেছে।
৪৬১ টেস্টে ২৫৭ জন খেলেছেন। ইনিংস–সংখ্যা ৮০২৫, অপরাজিত থেকেছেন ১০৬৭ বার। সেঞ্চুরি ৪৩৩, ফিফটি ৯৭৭টি। ৮৬৪ বার শূন্য রানে আউট হয়েছেন পাকিস্তানের ব্যাটসম্যানরা।
টেস্টে নিউজিল্যান্ডের ব্যাটসম্যানদের রানসংখ্যা। নিউজিল্যান্ডের টেস্ট অভিষেক ভারতের দুই বছর আগে (১৯৩০)। কিন্তু ভারতের চেয়ে কম খেলোয়াড় টেস্ট খেলেছেন নিউজিল্যান্ডের হয়ে। ম্যাচসংখ্যায়ও ভারতের চেয়ে পিছিয়ে নিউজিল্যান্ড। পঞ্চম দল হিসেবে নিউজিল্যান্ডের ব্যাটসম্যানেরা অন্তত হাজারবার শূন্য রানে আউট হয়েছেন।
নিউজিল্যান্ডের ৪৭৭টি টেস্ট খেলেছেন ২৮৮ জন খেলোয়াড়। ইনিংস–সংখ্যা ৮৬৬৭, অপরাজিত ১১১৬ বার। সেঞ্চুরি ৩৩২টি, ফিফটি ৯৭৪টি। নিউজিল্যান্ডের ব্যাটসম্যানেরা ১০০৬ বার শূন্য রানে আউট হয়েছেন। চলতি ওয়েলিংটন টেস্টে দ্বিতীয় দিন পর্যন্ত এই হিসাব।
টেস্টে শ্রীলঙ্কার ব্যাটসম্যানদের রানসংখ্যা। আশির দশক থেকে যতগুলো দেশের টেস্ট অভিষেক হয়েছে, তাঁদের মধ্যে শ্রীলঙ্কাই প্রথম। ১৯৮২ সালে টেস্ট অভিষেকের পর এই ৪২ বছরে শ্রীলঙ্কার টেস্টসংখ্যা তিন শ পেরিয়ে গেছে। উপমহাদেশের অন্য দুটি বড় দল ভারত ও পাকিস্তানের তুলনায় প্রতি বছর গড়ে বেশি টেস্ট খেলেছে শ্রীলঙ্কা (৭.৬৯টি করে)।
শ্রীলঙ্কার ৩২৩ টেস্টে খেলেছেন ১৬৭ জন ক্রিকেটার। ৫৭৮৮ ইনিংসে ৭৪২বার অপরাজিত থেকেছেন ব্যাটসম্যানেরা। সেঞ্চুরি ৩০৭টি, ফিফটি ৬৯৫টি। ৬৫৭বার শূন্য রানে আউট হয়েছেন শ্রীলঙ্কার ব্যাটসম্যানরা।
টেস্টে বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানদের রানসংখ্যা।টেস্টে বাংলাদেশের বয়স ২৪ বছর। এ সময়ে বছর প্রতি টেস্ট খেলার গড়ে জিম্বাবুয়ের চেয়ে এগিয়ে বাংলাদেশ (৬.২৫টি করে)। ব্যাটসম্যানদের রানসংখ্যায় যে চারটি দলের মোট রান এখনো লাখ পার হয়নি, বাংলাদেশের রান তাদের মধ্যে সর্বোচ্চ। তবে জিম্বাবুয়ে বাদে অন্য দুটি দল এই হিসাবে পিছিয়ে থাকবে অনেক পরে টেস্টে অভিষিক্ত হওয়ায়। সেঞ্চুরিসংখ্যায় বাংলাদেশ এই চারটি দলের মধ্যে এগিয়ে থাকলেও এখানেই একই ব্যাপার খাটে।
বাংলাদেশের ১৫০ টেস্টে খেলেছেন ১০৬ জন খেলোয়াড়। ইনিংস–সংখ্যা ৩০৭৭, অপরাজিত থেকেছেন ৩৩২বার। সেঞ্চুরি ৮২টি, ফিফটি ২৯৫টি। ৪০৪ বার শূন্য রানে আউট হয়েছেন বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানেরা।
টেস্টে জিম্বাবুয়ের ব্যাটসম্যানদের মোট রানসংখ্যা। জিম্বাবুয়ের টেস্ট অভিষেক ৩২ বছর আগে। মাঝে ২০০৫ সালে সেপ্টেম্বরের পর থেকে ২০১১ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত এই সংস্করণে খেলেনি তাঁরা। টেস্টে এক শ এর বেশি ম্যাচ খেলার তালিকায় জিম্বাবুয়েই সবচেয়ে কম ম্যাচ খেলেছে।
জিম্বাবুয়ের হয়ে ১১৮ টেস্টে খেলেছেন ১২৯ জন। ইনিংস–সংখ্যা ২৩৪৬, অপরাজিত থেকেছেন ২৬৪ বার। ৬৪ সেঞ্চুরি, ২৪৮ ফিফটি। ৩২৪বার শূন্য রানে আউট হয়েছেন জিম্বাবুয়ের ব্যাটসম্যানরা।
আয়ারল্যান্ড ও আফগানিস্তান
টেস্ট ক্রিকেটে এ দুটি দল নবীনতম সদস্য। ২০১৮ সালে অভিষেক। ৯টি করে টেস্ট খেলেছে তারা। আফগানিস্তানের হয়ে খেলেছেন ৩২ জন, আয়ারল্যান্ডের হয়ে ২৯ জন। ১৯০ ইনিংসে আইরিশ ব্যাটসম্যানরা অপরাজিত থেকেছেন ২১ বার।
আয়ারল্যান্ডের ব্যাটসম্যানদের মোট রানসংখ্যা ৩৭৬৯। সেঞ্চুরি ৪টি, ফিফটি ১৯টি। ২৮ বার শূন্য রানে আউট হয়েছেন আইরিশ ব্যাটসম্যানরা। আফগানিস্তানের রানসংখ্যা ৩৪৭৭। সেঞ্চুরি ৪টি, ১৮ ফিফটি। ৩১বার শূন্য রানে আউট হয়েছেন আফগান ব্যাটসম্যানেরা।