গতকালই জানা গিয়েছিল দলের নাম। তারও আগে ঘোষণা আসে আজ শুক্রবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) আত্মপ্রকাশ করবে নয়া রাজনৈতিক দল। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শক্তি থেকে আসতে যাওয়া দলটির আত্মপ্রকাশের স্থান হিসেবে বেছে নেয়া হয় জাতীয় সংসদ ভবনের মানিক মিয়া অ্যাভিনিউকে। আন্দোলন থেকে গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে মূলধারার রাজনীতিতে আসা ছাত্র-তরুণ-জনতারা যেন এর মাধ্যমে বলে দিচ্ছিল, ভোটের রাজনীতিতে নিজেদের অবস্থান জানান দিয়ে তারা সংসদে যেতে চায়।
নয়া এ দলের আত্মপ্রকাশকে কেন্দ্র করে সকাল থেকে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে আসতে থাকেন ছাত্র-জনতা। শুক্রবার জুমার নামাজের পর লোকজন আসার হার তা আরও বাড়ে। বিকেল হতেই লোকে লোকারণ্য হয়ে যায় মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ।
বিকেল সোয়া ৪টার পর নয়া এ রাজনৈতিক দলের আত্মপ্রকাশের অনুষ্ঠান শুরু হয়। শুরুতে কোরআন, গীতা, বাইবেল, ত্রিপিটক থেকে কিছু অংশ পাঠ করা হয়। এরপর সবাই একসঙ্গে জাতীয় সংগীতের সাথে গলা মেলান। পরে জুলাই অভ্যুত্থানের নিহতদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।
তারপর দলটির নেতার মঞ্চে এসে প্রবেশ করেন। একে একে আসেন সাবেক উপদেষ্টা ও ছাত্রনেতা নাহিদ ইসলাম, হাসনাত আবদুল্লাহ, সারজিস আলম, সামান্তা শারমিন ও নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারীসহ অন্যান্যরা। তবে আখতার হোসেন উপস্থিত হন বেশ কিছুক্ষণ পর। নেতার মঞ্চে উপস্থিত হওয়ার পর তারা ও শহীদ পরিবারের সদস্যরা বক্তৃতা শুরু করেন।
মাগরিবের আজানের পর আসে সেই মাহেন্দ্রক্ষণ। উপস্থাপক ডাকলেন মিম আক্তারকে, যিনি জুলাই আন্দোলনের শহীদ ইসমাইল হোসেন রাব্বীর বোন।
ডায়াসে এসে মীম আক্তার বললেন, আপনাদের হয়তো মনে আছে, গত ৫আগস্টে দুই বোনের কাঁদে ভাইয়ের লাশের সেই ছবি, তার মধ্যে আমি একবোন মিম আক্তার।
মিম আক্তারই নতুন দলের নাম এবং দলটির আহ্বায়ক হিসেবে নাহিদ ইসলাম ও সদস্য সচিব পদে আখতার হোসেনের নাম ঘোষণা করেন।
তারপর বক্তৃতা ও আংশিক কমিটি ঘোষণা দেন আখতার দেন। সুপার টেন বা শীর্ষ পদে দায়িত্ব পাওয়া নেতারা হচ্ছেন— আহ্বায়ক পদে নাহিদ ইসলাম, জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক পদে যথাক্রমে সামান্তা শারমিন ও আরিফুল ইসলাম আদীব, আখতার হোসেন সদস্য সচিব, জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সদস্য সচিব পদে যথাক্রমে তাসনিম জারা ও নাহিদা সারওয়ার (নিভা)। হাসনাত আব্দুল্লাহ দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক, সারজিস আলম উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক, নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী মূখ্য সমন্বয়ক এবং আবদুল হান্নান মাসউদ যুগ্ম সমন্বয়ক হয়েছেন।
ডাকসুর সাবেক নেতা আখতার হোসেন তার বক্তব্যে যুগ্ম আহ্বায়ক, যুগ্ম সদস্য সচিব, দফরের দায়িত্ব পাওয়া নেতাদের নাম ঘোষণা করেন। জানান, ১৫১ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ কমিটির তালিকা সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানানো হবে।
এরপর ও সর্বশেষ বক্তা হিসেবে আসেন একদফার ঘোষক ও নয়া দলের আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। তিনি নতুন রাজনৈতিক দল জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আত্মপ্রকাশের ঘোষণা দিয়ে বলেন, তারা সামনের কথা বলতে চান, স্বপ্ন আর সম্ভাবনার বাংলাদেশের কথা বলতে চান।
নাহিদ ইসলাম তার বক্তব্যে স্পষ্ট ভাষায় বলে দেন, বাংলাদেশকে আর কখনো বিভাজিত করা যাবে না। বাংলাদেশ ভারতপন্থী, পাকিস্তানপন্থী কোনো রাজনীতির ঠাঁই হবে না।
তিনি আরও বলেন, এখনই সময়— নতুন স্বপ্ন দেখার, নতুন পথচলার এবং একটি নতুন বাংলাদেশ গড়ার। তাই আসুন, প্রত্যেকে যার-যার অবস্থান থেকে শপথ করি। ঐক্যবদ্ধ হই। এবং আমাদের কাঙ্ক্ষিত সেকেন্ড রিপাবলিক প্রতিষ্ঠার লড়াইয়ে দৃঢ়চিত্তে এগিয়ে যাই। আমাদের দেশ, আমাদের অধিকার, আমাদের ভবিষ্যৎ— আমাদের সেকেন্ড রিপাবলিক অধরা কোন স্বপ্ন নয়, এটি আমাদের প্রতিজ্ঞা!
এই অনুষ্ঠানে বিএনপি, জামায়াতসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা, ঢাকায় নিযুক্ত বিভিন্ন দেশের কূটনীতিকরা যোগ দিয়েছিলেন।