দ্যা নিউ ভিশন

এপ্রিল ৩, ২০২৫ ১৩:৫৪

ট্রেনের যাত্রীরা যাচ্ছেন বিআরটিসি বাসে, তাতেই স্বস্তি

রেলের যাত্রীদের বিআরটিসি বাসে তোলা হচ্ছে। আজ বেলা সাড়ে ১১টায় চট্টগ্রাম রেল স্টেশনে

রেলওয়ের রানিং স্টাফদের কর্মবিরতির কারণে ট্রেন চলাচল বন্ধ হওয়ায় বিকল্প হিসেবে বিআরটিসি বাস চালু করা হয়েছে। আজ মঙ্গলবার বেলা দেড়টা পর্যন্ত চট্টগ্রাম রেলস্টেশন এলাকা থেকে ছয়টি বিআরটিসি বাস যাত্রী নিয়ে বিভিন্ন গন্তব্যে রওনা দিয়েছে। এসব যাত্রী ট্রেনের টিকিট কেটেছিলেন। সেই টিকিটেই বিআরটিসি বাসে করে গন্তব্যে যাওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন। এতে দুর্ভোগ কমায় যাত্রীদের মধ্যে স্বস্তি ফিরেছে।

বিআরটিসির তথ্য অনুযায়ী, চট্টগ্রামে সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত ব্রাহ্মণবাড়িয়া যাওয়ার জন্য দুটি, ঢাকার জন্য একটি এবং সিলেটের জন্য তিনটি বাসের ব্যবস্থা করা হয়েছে। মূলত ট্রেনের সময়সূচি মেনে এসব বাসের গন্তব্য ঠিক করা হয়েছে। বাসগুলোর মাধ্যমে যাত্রীরা নির্ধারিত গন্তব্যে নামার সুযোগ পাবেন।

রেলের রানিং স্টাফদের কর্মবিরতির কারণে সোমবার মধ্যরাত থেকে ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। তবে চট্টগ্রাম থেকে ট্রেন চলাচল বন্ধ হয় মঙ্গলবার সকাল থেকে। সকালে ঢাকাগামী চট্টলা এক্সপ্রেস, সুবর্ণ এক্সপ্রেস ও কর্ণফুলী কমিউটার, দুপুরে মহানগর গোধূলি ও মহানগর এক্সপ্রেসের যাত্রা বাতিল করা হয়। এ ছাড়া সিলেটগামী পাহাড়িকা এক্সপ্রেস এবং কক্সবাজারগামী কক্সবাজার এক্সপ্রেস ও কক্সবাজার ঈদ স্পেশাল ট্রেনও চলাচল করেনি। কর্মবিরতির কারণে চট্টগ্রাম গুডস পোর্ট ইয়ার্ড (সিজিপিওয়াই) থেকে সারা দেশে পণ্যবাহী ট্রেন চলাচলও বন্ধ রয়েছে।

কর্মবিরতির কারণে ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সকালে স্টেশনে এসে বিপাকে পড়েন যাত্রীরা। এসব যাত্রীর জরুরি প্রয়োজন, পারিবারিক কাজ, ব্যবসায়িক কাজ, চিকিৎসা, পরীক্ষাসহ নানা কাজে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু ট্রেন না পেয়ে তাঁদের অনেককে ফিরে যেতে হয়েছে। পরে বিআরটিসির বাসের ব্যবস্থা করা হয়।

রেলওয়ের রানিং স্টাফ বলতে ট্রেনের চালক, সহকারী চালক, গার্ড ও টিকিট পরিদর্শকদের (টিটিই) বোঝানো হয়। তাঁরা ১৬০ বছর ধরে মাইলেজ সুবিধা পাচ্ছিলেন। অর্থাৎ দৈনিক আট ঘণ্টার বেশি কাজ করলে বেসিকের (মূল বেতন) হিসেবে বাড়তি অর্থ পেতেন। এ ছাড়া অবসরের পর বেসিকের সঙ্গে এর ৭৫ শতাংশ অর্থ যোগ করে অবসরকালীন অর্থের হিসাব হতো। তবে ২০২১ সালের ৩ নভেম্বর এই সুবিধা সীমিত করে অর্থ মন্ত্রণালয়।

রানিং স্টাফ সংগঠনের নেতারা জানান, সুবিধা সীমিত করায় ২০২২ সালের ১৩ এপ্রিলও ট্রেন ধর্মঘট কর্মসূচি পালন করেছিলেন তাঁরা। রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের আশ্বাসে ওই কর্মসূচি প্রত্যাহার করা হয়েছিল। একই দাবি আদায়ে আবার নতুন করে কর্মসূচি ঘোষণা করেছেন তাঁরা। কর্মসূচির অংশ হিসেবে গতকাল মধ্যরাত থেকে ট্রেন চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

বিআরটিসির চট্টগ্রামের ব্যবস্থাপক মো. জুলফিকার আলী মঙ্গলবার দুপুরে প্রথম আলোকে বলেন, চট্টগ্রাম থেকে বিভিন্ন রুটে বিআরটিসির ৪২টি বাস নিয়মিত চলাচল করে। রেলের রানিং স্টাফদের ধর্মঘটের কারণে ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনায় ট্রেনের বিকল্প হিসেবে বিআরটিসি বাসের ব্যবস্থা করা হয়েছে। রেলের নিয়মিত সময়সূচি অনুযায়ী যে সময়ে যে ট্রেন ছাড়ার কথা, তখন একই গন্তব্যের উদ্দেশে বিআরটিসির বাস ছাড়া হচ্ছে। যাতে যাত্রীদের স্টেশনে এসে ফেরত যেতে না হয়।

মো. জুলফিকার আলী বলেন, আপাতত ট্রেনের টিকিটধারীদের বাসে করে যাতায়াতের সুযোগ দেওয়া হচ্ছে। যাঁদের টিকিট নেই, তাঁদের এ সুযোগ দেওয়া হচ্ছে না। যতক্ষণ পর্যন্ত ধর্মঘটের পরিস্থিতির সমাধান হবে না, কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুযায়ী বাস চলাচল অব্যাহত রাখা হবে। বিকেল ও রাতের পালায়ও বাস যাবে চট্টগ্রাম রেলস্টেশন থেকে।

রানিং স্টাফদের কর্মবিরতির কর্মসূচি এবং ট্রেন চলাচল বন্ধের কথা জানতেন না ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাসিন্দা বাহার মিয়া। তিনি বলেন, ব্রাহ্মণবাড়িয়া যেতে অনলাইনে মহানগর এক্সপ্রেসের টিকিট কেটেছিলেন। দুপুর সাড়ে ১২টায় এই ট্রেন ছাড়ার কথা। কিন্তু স্টেশন এসে শোনেন, ট্রেন চলবে না। তখন দুশ্চিন্তায় পড়ে গিয়েছিলেন। পরে রেলের কর্মকর্তারা জানান বিকল্প হিসেবে বাসের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। এখন বাসে করেই বাড়ি যাবেন।

আরেক যাত্রী মো. আবুল হক বলেন, অনলাইনেই টিকিট কেটেছিলেন। কিন্তু ট্রেনের অবরোধ চলছে। এখন বিআরটিসির বাসে করে বাড়ি যাচ্ছেন। তেমন কোনো অসুবিধা হবে না। বাড়ি যেতে পারলেই হলো।

এদিকে সিজিপিওয়াই থেকে সারা দেশে পণ্যবাহী ট্রেন চলাচলও বন্ধ হয়ে গেছে। মঙ্গলবার নগরের হালিশহরের এই স্টেশন থেকে চারটি ট্রেন যাওয়ার কথা। এর মধ্যে সোমবার রাত ২টায় এবং মঙ্গলবার দুপুর সাড়ে ১২টায় ও বেলা ২টায় কনটেইনারবাহী ট্রেন ছেড়ে যাওয়ার কথা ছিল। আর সকাল সাড়ে ৯টায় একটি তেলবাহী ট্রেন ছাড়ার সময়সূচি ছিল। সিজিপিওয়াইর স্টেশন মাস্টার আবদুল মালেক প্রথম আলোকে বলেন, সোমবার রাত আটটায় গম নিয়ে একটি ট্রেন ছেড়ে গেছে। এরপর মঙ্গলবার চারটি ট্রেন যাওয়ার কথা। কিন্তু রানিং স্টাফদের কারণে কোনো ইঞ্জিন স্টেশনে আসেনি। এ জন্য ট্রেন চালানো সম্ভব হয়নি।

Related News

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

সর্বশেষ

ছাত্রদলের অনুষ্ঠানে শিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি, ঐক্যবদ্ধভাবে দেশকে এগিয়ে নেওয়ার আশা

ছাত্রশিবির, ছাত্রদলসহ যাঁরা ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে ভূমিকা রেখেছেন, তাঁরা ঐক্যবদ্ধভাবে আগামী