সাতক্ষীরার কালীগঞ্জে বিএনপির বিবদমান দুই পক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি ধাওয়া, ইটপাটকেল নিক্ষেপ ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উপজেলা যুবদলের সদস্যসচিব আব্দুল আজিজসহ উভয় পক্ষের অন্তত ১৪ জন আহত হয়েছেন। ভাঙচুর করা করা হয়েছে বেশ কয়েকটি মোটরসাইকেল।
আজ সোমবার বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে উপজেলার তারালী মোড়ে এ সংঘর্ষ ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট অনুজা মণ্ডল আজ সন্ধ্যা ৬টা থেকে উপজেলা সদরে ১৪৪ ধারা জারি করেছেন। কালীগঞ্জ সহকারী কমিশনার (ভূমি) অমিত কুমার বিশ্বাস প্রথম আলোকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
বিএনপির স্থানীয় নেতা-কর্মীরা জানান, পূর্বঘোষিত কর্মসূচি পালনে আজ বিকেল ৪টায় বিএনপির পৃথক দুই পক্ষ মিছিল ও সমাবেশ শুরু করে। উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক শেখ এবাদুল ইসলাম ও সদস্যসচিব শফিকুল ইসলামের নেতৃত্বে একটি পক্ষ কাকশিয়ালী সেতুর পশ্চিম পাশে মিছিলসহকারে জমায়েত হয়ে তারালী মোড়ে সমাবেশ করতে থাকেন। উপজেলা বিএনপির সাবেক ছাত্রবিষয়ক সম্পাদক ও বিষ্ণুপুর ইউপি চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আলম, উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম সম্পাদক ও বর্তমান আহ্বায়ক কমিটির সদস্য শেখ নূরুজ্জামান পক্ষের নেতা-কর্মীরা উপজেলা বিএনপি কার্যালয় থেকে মিছিলসহকারে বাস টার্মিনালের দিকে যাচ্ছিলেন। পথে তারালী মোড়ে তাঁদের মিছিলে অপর পক্ষের নেতা-কর্মীরা ইটপাটকেল ছোড়েন। উপজেলা যুবদলের সদস্যসচিব আব্দুল আজিজের মাথায় ইট লেগে তিনি আহত হন। ওই পক্ষের ক্ষুব্ধ নেতা-কর্মীরা এ সময় পাল্টা এবাদুল ও শফিকুল ইসলাম পক্ষের নেতা-কর্মীদের ওপর ইটপাটকেল ছোড়েন। সেই সঙ্গে শেখ এবাদুল পক্ষের ৮-১০টি মোটরসাইকেল ভাঙচুর করেন। এ সময় পাল্টাপাল্টি ধাওয়া ও সংঘর্ষে উভয় গ্রুপের ১৪ জন আহত হন।
খবর পেয়ে কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অনুজা মণ্ডল ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) অমিত কুমার বিশ্বাস ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। থানার পরিদর্শক (তদন্ত) হারুন অর রশিদ মৃধাসহ সঙ্গীয় ফোর্স ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা তাঁদের সঙ্গে ছিলেন। তাঁরা বিবদমান উভয় পক্ষকে বুঝিয়ে শান্ত করার চেষ্টা করেন। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সন্ধ্যা ৬টা থেকে উপজেলা সদরে ১৪৪ ধারা জারি করেন ইউএনও। পরবর্তী ঘোষণা না দেওয়া পর্যন্ত ১৪৪ ধারা বলবৎ থাকবে বলে তিনি জানান। ১৪৪ ধারা চলাকালে কালীগঞ্জ সদরে সব ধরনের সভা, সমাবেশ ও মিছিল বন্ধ থাকবে।
বিএনপির নেতা-কর্মীরা আরও জানান, ৭ জানুয়ারি উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক শেখ এবাদুল ইসলাম ও সদস্যসচিব শফিকুল ইসলাম স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে তারালী ও চাম্পাফুল ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করা হয়। ওই কমিটি বিলুপ্তির দাবিতে প্রতিবাদ ও বিক্ষোভ মিছিল করতে থাকেন ওই দুই ইউনিয়ন বিএনপির একটি অংশ। তাঁদের অভিযোগ, ওই কমিটিতে আওয়ামী লীগের দোসরকে পদ দেওয়া হয়েছে।
উপজেলা বিএনপির সাবেক ছাত্রবিষয়ক সম্পাদক ও বিষ্ণুপুর ইউপি চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আলম বলেন, তাঁদের শান্তিপূর্ণ মিছিলে শেখ এবাদুল ইসলামের নেতৃত্বে হামলা করা হয়েছে। এতে উপজেলা যুবদলের সদস্যসচিব আব্দুল আজিজসহ চারজন আহত হয়েছেন।
কালীগঞ্জ উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক শেখ এবাদুল ইসলাম বলেন, উপজেলা বিএনপির নেতাদের সংবর্ধনা দেওয়ার জন্য তারালী ও চাম্পাফুল ইউনিয়নে বিএনপির সদ্য গঠিত আহ্বায়ক কমিটি তারালী মোড়ে একটি অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। সেখানে তাঁদের প্রতিপক্ষ বিষ্ণুপুর ইউপি চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আলম, বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য শেখ নূরুজ্জামানের নেতৃত্বে তাঁদের ওপর হামলা হয়। এতে তাঁদের ১০ জন আহত হন। তাঁদের ৮-১০টি মোটরসাইকেল ভাঙচুর করা হয়। এর মধ্যে ছয়জন বিভিন্ন ক্লিনিকে চিকিৎসা নিয়েছেন।