দ্যা নিউ ভিশন

এপ্রিল ৪, ২০২৫ ১০:৪১

৪৩তম বিসিএসের ২২৭ জনের প্রজ্ঞাপন হয়নি এখনো, রোববারের মধ্যে প্রজ্ঞাপনের দাবি

২২৭ জনের প্রজ্ঞাপন হয়নি এখনো। রোববারের মধ্যে প্রজ্ঞাপনের দাবি- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় লাইব্রেরির সামনে

৪৩তম বিসিএস এ দ্বিতীয় গেজেট থেকে বাদ পড়া ২২৭ জনের প্রজ্ঞাপন এখনো হয়নি। এ নিয়ে শুক্রবার সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় লাইব্রেরির সামনে সমবেত কর্মসূচি পালন করেছেন তাঁরা। এ সময় তাঁরা তাঁদের হতাশা ও মানসিক পীড়নের কথাও তুলে ধরেন।

তাঁদের দাবি হলো আগামী রোববার অর্থাৎ ২৬ জানুয়ারির মধ্যেই একটি প্রজ্ঞাপন দিতে হবে, যেন ফেব্রুয়ারির প্রথম সপ্তাহে তাঁরা চাকরিতে যোগদান করতে পারেন।

লাইব্রেরির সামনে তাঁদেরই একজন শিক্ষা ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্ত শাহ মোহাম্মাদ রায়হান। নিজের হতাশা ব্যক্ত করে তিনি বলেন, ‘আমাদের ফাইল ১৯ জানুয়ারি রোববার থেকে প্রধান উপদেষ্টার দপ্তরে আছে। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে সিনিয়র সচিব মোখলেসুর রহমান স্যার স্বাক্ষর করে আমাদের প্রজ্ঞাপনের সামারি প্রধান উপদেষ্টার দপ্তরে পাঠিয়েছেন।’

তিনি বলেন, ‘প্রধান উপদেষ্টা তাঁর ব্যস্ততার কারণে স্বাক্ষর করে যেতে পারেননি, উনি দেশে ফিরবেন আজ। তাই আমাদের যেন এই রোববারের মধ্যেই প্রজ্ঞাপন দেওয়া হয়।’
৪৩তম বিসিএস সাধারণ শিক্ষা ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্ত মো. মতিউর রহমান বলেন, ‘কঠোর পরিশ্রম করে মেধায় চাকরি পেলাম, অথচ আজ সেই চাকরিতেই যোগ দিতে পারছি না। ৪৩তম বিসিএস সহকর্মীগণ যোগ দিয়েছেন ১৫ জানুয়ারি। কিন্তু আজও আমাদের অপেক্ষার দিন গুনতে হচ্ছে।’

তিনি বলেন, ‘আমাদের মানসিক যন্ত্রণাটি একবার বোঝার চেষ্টা করুন আপনারা। চাকরি পেয়েও আজ আমাদের বাবা, মা মানসিক বিষণ্নতা ও হতাশায় ভুগছেন।’
শিক্ষা ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্ত মাসুমা আক্তার মিনি নিজের দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, ‘৪৩তম বিসিএসে বাদ পড়ে যাওয়া আমাদের এই ২২৭ জনের সুখের দুয়ারে এমন দুঃখের অনল আজ আমাদের বাস্তুহারা করেছে। আমাদের দেওয়া আশ্বাসে আমরা আশ্বস্ত হয়েছিলাম, কিন্তু আজও ঘরে ফিরতে পারিনি।’

কর ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্ত আরমান হোসেন বলেন, ‘আমার কাছের মানুষজন ট্যাক্সের প্রায় ৯০ জন যোগ দিয়েছেন, পদায়ন পেয়েছেন বিষয়টা সুখকর। পরক্ষণেই বুকটা মোচড় দিয়ে উঠছে আমারও তো সেখানে থাকার কথা, অথচ আমি নেই। আমার কোনো রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা ক্যাম্পাসে বা এলাকার কোথাও ছিল না। আমি দ্রুত প্রজ্ঞাপন চাই, আর ফেব্রুয়ারির শুরুতেই নিয়োগ চাই। অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ও প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস স্যারের কাছে সবার পক্ষ থেকে আবেদন করছি দেশে আসার পরপরই যাতে এই বিষয়টা দেখেন। প্রধান উপদেষ্টার দপ্তরে থাকা প্রজ্ঞাপনের ফাইল যাতে স্বাক্ষর হয়ে প্রজ্ঞাপন পাই আমরা।’

উল্লেখ্য, ৪৩তম বিসিএসে নিয়োগের জন্য জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় গত বছরের ১৫ অক্টোবরের প্রজ্ঞাপন বাতিল করে নতুন প্রজ্ঞাপন জারি করে গত ৩০ ডিসেম্বর। সব মিলিয়ে ৪৩তম বিসিএস থেকে বাদ পড়েন মোট ২৬৭ জন। ২৬৭ জনের মধ্যে স্বাস্থ্য পরীক্ষায় অনুপস্থিত ছিলেন ৪০ জন। ফলে এখন গেজেটবঞ্চিত প্রার্থীর সংখ্যা ২২৭।

গেজেট থেকে বাদ না পড়লে এই ২২৭ জন প্রার্থী ৪৩তম বিসিএসের অন্য প্রার্থীদের সঙ্গে ১৫ জানুয়ারি বিভিন্ন ক্যাডারে চাকরিতে যোগ দিতে পারতেন। কিন্তু সেটি না হওয়ায় আজ লাইব্রেরির সামনে এক জমায়েতে আগামী রোববারের মধ্যেই প্রজ্ঞাপন জারির দাবি জানিয়ে দিনব্যাপী সমবেত কর্মসূচি পালন করেছেন তাঁরা। আগামী ফেব্রুয়ারির মধ্যেই তাঁরা চাকরিতে যোগ দিতে চান।

Related News

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

সর্বশেষ

ছাত্রদলের অনুষ্ঠানে শিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি, ঐক্যবদ্ধভাবে দেশকে এগিয়ে নেওয়ার আশা

ছাত্রশিবির, ছাত্রদলসহ যাঁরা ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে ভূমিকা রেখেছেন, তাঁরা ঐক্যবদ্ধভাবে আগামী