একটা ড্রেসিং টেবিল হয়তো আপনার খুব পছন্দ হয়েছে। কিন্তু শোবার ঘরে সেটা পাতলে আর খালি জায়গা থাকে না। সে ক্ষেত্রে ঘরের মাপ বুঝে একই রকম নকশার আসবাব তৈরি করে নিতে পারেন। মাপ বুঝে আসবাব তৈরির আর কী কী সুবিধা, জানালেন সৃষ্টি আর্কিটেকচার অ্যান্ড কনসালট্যান্সির স্বত্বাধিকারী স্থপতি তাসনিম কবীর
আসবাব ছাড়া অন্দরসজ্জা অসম্পূর্ণ। আবার মনমতো বাড়ি সাজাতে চাইলে সঠিক জায়গায় ঠিক ফার্নিচারটাই রাখা চাই। তাই বাড়ির আকার-আয়তন বুঝে আসবাব কেনা বা তৈরি করে নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।
জায়গা বুঝে আসবাব বানানো জরুরি; কারণ, তাহলে বাড়ির প্রতিটি কোণকেই কার্যকরভাবে ব্যবহার করা যায়। একই সঙ্গে এটা বাড়িতে দৃষ্টিনন্দন আরামদায়ক পরিবেশও তৈরি করে।
জায়গা বুঝে আসবাব বানানো কেন গুরুত্বপূর্ণ
১. যদি আসবাব বাড়ির লেআউট দেখে মাপ অনুযায়ী তৈরি হয়, তাহলে বাড়ির প্রতিটি ইঞ্চি সঠিকভাবে ব্যবহার করা যায়। ছোট বাড়িতে যেখানে জায়গা এমনিতেই কম, সেখানে জায়গা বাঁচাতে কাস্টমাইজড ফার্নিচার রাখা ভালো। যেমন ফোল্ডিং টেবিল, মডিউলার সোফা, সোফা কাম বেড, হিডেন কম্পার্টমেন্ট ইত্যাদি। এতে বাড়ির অভ্যন্তরীণ জায়গা কম হলেও সেটার সুষম ও সুষ্ঠু ব্যবহার নিশ্চিত হয়।
২. ঘরের স্থাপত্যের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে আসবাব তৈরি করলে অন্দরে একটি আরামদায়ক পরিবেশ তৈরি হয়। ঘরের মাপ ও নকশার সঙ্গে সঠিক আসবাব থাকলে ঘরটি আধুনিক নকশায় সাজানো সহজ হয়।
৩. সঠিক মাপ ও আকারের আসবাব ঘরের মধ্যে সহজ চলাচল নিশ্চিত করে। যেসব বাড়িতে অভ্যন্তরীণ স্থান সীমিত, সেখানে বড় আকারের আসবাব চলার পথে বাধা তৈরি করে। স্থান অনুপাতে বেঢপ আসবাব যে কেবল চলাচলেই বিঘ্ন ঘটায়, তা নয়; দেখতেও লাগে অসামঞ্জস্য। আবার বড় বাসাবাড়িতে আনুপাতিক হারে আসবাব বসানো না হলে সেখানেও নান্দনিকতার অভাব দেখা দেয়।
৪. অনেক ক্ষেত্রেই দেখা যায়, ঘরের কিছু নির্দিষ্ট কোণ বা কলামের পাশ ফাঁকা। এসব স্থানে চাইলে সাইজ অনুযায়ী ফিটিং ক্যাবিনেট কিংবা স্টোরেজ বানানো যায়। এ রকম ওয়াল ফিটেড আসবাবে স্টোরেজ–সুবিধা যেমন বাড়ে, তেমনি বাঁচে জায়গা।
৫. অনেক বাড়িতেই দেখা যায়, মাপ বুঝে আসবাব না বানানোয় ঘরের দরজা অর্ধেক মোটে খোলা যায়। কারও বাড়িতে চার হাত জানালার দুই হাত মাত্র খোলা যায়, বাকি দুই হাত ক্যাবিনেটে ঢাকা পড়ে থাকে। বাড়ির জায়গা বুঝে আসবাব বানানো হলে দরজা-জানালার সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করা যায়। ঘরে আলো ঢোকার পথেও বাধা সৃষ্টি করে অপরিকল্পিত আকারের আসবাব। কিন্তু মাপমতো আসবাব হলে ঘরে পর্যাপ্ত প্রাকৃতিক আলো ও বাতাস প্রবেশ করতে পারে, যা কেবল ঘরকে আলোকিতই করে না, বসবাসকারীদের জন্য স্বাস্থ্যকর পরিবেশ সৃষ্টি করে, রোগজীবাণু প্রতিরোধে সাহায্য করে।
৬. যদি বাড়ির সদস্যদের বিশেষ চাহিদা থাকে, যেমন হোম অফিস, পড়ার ঘর, লাইব্রেরি বা শিশুদের খেলার জায়গা, তবে সে অনুযায়ীও ফার্নিচার কাস্টমাইজ করা যায়। এতে পরিবারের সবার জন্য বাড়িটি আরও কার্যকর ও ব্যবহারযোগ্য হয়ে ওঠে।
৭. সঠিক মাপের আসবাব দুর্ঘটনার শঙ্কা কমায়। যেমন খুব বড় আসবাবে হোঁচট খাওয়া বা তীক্ষ্ণ প্রান্তের সঙ্গে ধাক্কা লাগা। এ ভাবনা বিশেষভাবে শিশু বা বয়স্ক ব্যক্তিদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। অন্দরে নিরাপদ ও স্বচ্ছন্দ চলাচলের জন্য জায়গা বুঝে আসবাব বানানোর কোনো বিকল্প নেই।
৮. যদি ভবিষ্যতে ঘরে কোনো কিছু পরিবর্তনের প্রয়োজন হয়, তখন ফ্লেক্সিবল ডিজাইন এবং মডিউলার আসবাব ব্যবহার করে সহজেই পুনর্বিন্যাস করা যায়।