গত কয়েকদিন ধরেই চলছিল নাটকীয়তা। সোমবার ইসরায়েলের বিরুদ্ধে চুক্তি লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলে হামাস জিম্মি মুক্তি অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত করে। অন্যদিকে, শনিবার দুপুরের মধ্যে বন্দিদের মুক্তি না দিলে যুদ্ধবিরতি বন্ধের ঘোষণা দিয়ে ফের যুদ্ধের হুমকি দেয় ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী। এতেই আবারও অনিশ্চয়তায় পড়ে ফিলিস্তিনিদের ভবিষ্যৎ। যদিও পরে নিজেদের অবস্থান থেকে সরে এসেছে হামাস। আর তাতেই আপাতত উপত্যকায় স্বস্তি ফিরেছে।
গাজায় যুদ্ধবিরতি চুক্তির শর্ত অনুযায়ী আজ আরও তিনজন ইসরায়েলি জিম্মিকে মুক্তি দিয়েছে ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাস। শনিবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) আন্তর্জাতিক সংস্থা রেডক্রসের মাধ্যমে তাদের ইসরায়েলের হাতে তুলে দেয়া হয়। এর বিনিময়ে ইসরায়েলের দুই কারাগার থেকে ৩৬৯ জন ফিলিস্তিনি বন্দিকে মুক্তি দেয়া হয়েছে।
তিন ইসরায়েলি জিম্মিকে রেডক্রসের হাতে তুলে দেয়ার আগে আজ গাজার খান ইউনিস শহরে একটি মঞ্চের দিকে তাদের নিয়ে যেতে দেখা যায় হামাস যোদ্ধাদের। সেখানে জমায়েত হওয়া লোকজনের উদ্দেশে তিনজনকে ভাষণ দিতে বলা হয়। তারা যুদ্ধবিরতি চুক্তির আওতায় বাকি জিম্মি ও বন্দি বিনিময় শেষ করার আহ্বান জানান। এরপর তাদের রেডক্রসের সদস্যদের হাতে তুলে দেয়া হয়।
এদিকে, উৎসবের আমেজ ছিল ফিলিস্তিনিদের মধ্যেও। এই ধাপে মুক্তি পেয়েছেন ইসরায়েলের কারাগারে বন্দি থাকা ৩৬৯ ফিলিস্তিনি। প্রথম দফায় রামাল্লায় পৌঁছেছে কারাবন্দিদের বহনকারী একটি বাস। পরে কারমুক্ত ৩৩৩ জনকে পৌঁছে দেয়া হয় গাজা উপত্যকায়। তাদের বরণে নামে ফিলিস্তিনিদের ঢল। মুক্তি পাওয়া ফিলিস্তিনি আর আত্মীয়-স্বজনদের আনন্দ অশ্রুতে তৈরি হয় আবেগঘন পরিস্থিতি।
এর আগে, যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে চারদফায় ৫ থাই নাগরিকসহ ২১ জিম্মিকে মুক্তি দিয়েছে হামাস। বিনিময়ে কারামুক্ত হয়েছেন ৭৬৬ ফিলিস্তিনি।