দ্যা নিউ ভিশন

এপ্রিল ৪, ২০২৫ ১১:১৮

ইউক্রেনের ভেতর দিয়ে ইউরোপে রাশিয়ার গ্যাস সরবরাহ বন্ধে কার বেশি ক্ষতি

ইউক্রেনের ভেতর দিয়ে ৪০ বছরের বেশি সময় ধরে ইউরোপে রাশিয়ার গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছিল। ইউক্রেনের জাতীয় তেল-গ্যাস কোম্পানি নাফটোগাজ ও রাশিয়ার রাষ্ট্রায়ত্ত জ্বালানি কোম্পানি গাজপ্রমের মধ্যে চুক্তির ভিত্তিতে এ গ্যাস সরবরাহ করা হতো। এই দুই কোম্পানির সর্বশেষ পাঁচ বছরের চুক্তির মেয়াদ গতকাল বুধবার (১ জানুয়ারি) শেষ হয়েছে। কিয়েভ চুক্তি নবায়ন করতে রাজি না হওয়ায় গতকাল থেকে পাইপলাইনে ইউক্রেনের ভেতর দিয়ে ইউরোপে রাশিয়ার গ্যাস সরবরাহ বন্ধ হয়ে গেল।

দুই দেশের মধ্যে যুদ্ধ সত্ত্বেও গত ১৯ ডিসেম্বর ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বলেন, যুদ্ধ শেষ হওয়া পর্যন্ত যদি মস্কোর মূল্য পরিশোধ আটকে রাখা হয়, তাহলে রাশিয়ার গ্যাস সরবরাহের অনুমতির কথা বিবেচনা করা যেতে পারে।

জেলেনস্কির মন্তব্যের এক সপ্তাহ পর রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন বলেন, চলতি বছর নতুন চুক্তি করার সময় নেই।

কী পরিমাণ গ্যাস সরবরাহ করা হতো

২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে ইউক্রেনে হামলা চালানোর পর থেকে ইউরোপে রাশিয়ার গ্যাস রপ্তানি কমেছে। এই হামলার পর থেকে রাশিয়ার গ্যাসের ওপর নির্ভরশীলতা কমানোর জন্য ইউরোপীয় ইউনিয়নে (ইইউ) চাপ বাড়তে থাকে।

প্রায় অর্ধশত বছর ধরে তিলে তিলে ইউরোপে নিজেদের গ্যাসের বাজারে তৈরি করেছিল রাশিয়া। একটা সময় পর্যন্ত ইউরোপের প্রয়োজনীয় মোট গ্যাসের প্রায় ৩৫ শতাংশ সরবরাহ করত মস্কো। কিন্তু বর্তমানে তা কমে প্রায় ৮ শতাংশে নেমে এসেছে।

২০২৪ সালের ১ ডিসেম্বর পর্যন্ত পূর্ববর্তী ১১ মাসে ইউক্রেনের ভেতর দিয়ে ইউরোপে সরবরাহ করা রাশিয়ায় গ্যাসের পরিমাণ ছিল ১ হাজার ৪০০ কিউবিক মিটার। আগের বছরে তা ছিল ৬ হাজার ৫০০ কিউবিক মিটার। ইউরোপে গ্যাস পাঠানোর বিষয়ে মস্কো ও কিয়েভের মধ্যে সর্বশেষ পাঁচ বছর মেয়াদি চুক্তি হয়েছিল ২০২০ সালে।

ইউরোপীয় কমিশন বলেছে, তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) ও রাশিয়া ছাড়া অন্যান্য দেশের পাইপলাইনের গ্যাস দিয়ে তারা নিজেদের প্রয়োজন মেটাতে পারবে।

রাশিয়ার হাতছাড়া হয়ে ইউরোপের গ্যাসের বাজার এখন নরওয়ে, যুক্তরাষ্ট্র ও কাতারের কাছে চলে গেছে।

রয়টার্সের হিসাবমতে, রুশ সরকারের গ্যাসের দামের পূর্বাভাস অনুযায়ী প্রতি ১ হাজার কিউবিক মিটার গ্যাসের দাম ৩৩৯ ডলার হলে গত বছর ইউক্রেন দিয়ে গ্যাস সরবরাহ করে মস্কোর প্রায় ৫০০ কোটি ডলার আয় করার সম্ভাবনা ছিল।

রাশিয়ার পাইপলাইনের ট্রানজিট ফি বাবদ বছরে ইউক্রেনের আয় ছিল ৮০ থেকে ১০০ কোটি ডলার।

রাশিয়ার সরবরাহ কমায় ২০২২ সালে ইইউতে গ্যাসের দাম রেকর্ড পরিমাণ বেড়েছিল। এখন ইউক্রেন দিয়ে রাশিয়ার গ্যাস সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় জরুরি সেবাটির দাম ২০২২ সালের মতো বাড়বে না বলে মনে করেন ইইউর কর্মকর্তা ও ব্যবসায়ীরা। কারণ, ব্লকটিতে রাশিয়ার গ্যাসের সরবরাহ যুদ্ধ শুরু হওয়ার পরপরই কমে এসেছিল।

কে ক্ষতিগ্রস্ত হবে

ইউক্রেনের পাইপলাইন দিয়ে অস্ট্রিয়া ও স্লোভাকিয়ায় রাশিয়ার গ্যাস যেত। অস্ট্রিয়ার অধিকাংশ গ্যাসই যেত ইউক্রেন হয়ে। ইউক্রেন হয়ে স্লোভাকিয়ায় বছরে গাজপ্রমের প্রায় ৩০০ কোটি কিউবিক মিটার গ্যাস যেত, যা দেশটির প্রয়োজনের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ।

অস্ট্রিয়ার তেল, গ্যাস ও পেট্রোকেমিক্যাল কোম্পানি ওএমভির কাছে গত বছরের নভেম্বরের মাঝামাঝি থেকে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ করে দেয় গাজপ্রম। ওএমভির সঙ্গে চুক্তিসংক্রান্ত মতবিরোধের কারণে অস্ট্রিয়ায় গ্যাসের সরবরাহ বন্ধ করেছিল রাশিয়া। কিন্তু দেশটির অন্যান্য কোম্পানির সঙ্গে চুক্তি হলে আবার কিছু কিছু গ্যাস সরবরাহ শুরু করেছিল গাজপ্রম।

রাশিয়ার গ্যাস সরবরাহ বন্ধ হওয়ায় নিজেদের কোনো সমস্যা হবে না বলে জানিয়েছে স্লোভাকিয়া। দেশটি অন্যান্য দেশের সঙ্গে নতুন সরবরাহ চুক্তি করেছে। তাদের মূল গ্যাস আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান এসপিপি রাশিয়ার বাইরে গ্যাস সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান বিপি, ইএনআই.এমআই, এক্সনমবিল, আরডব্লিউই (আরডব্লিউইজি.ডিই), শেলের সঙ্গে চুক্তি করেছে।

ক্রেতাদের কী কী বিকল্প আছে

ইউরোপে রাশিয়ার গ্যাস সরবরাহের অন্যান্য রুটের একটি ইয়ামাল-ইউরোপ পাইপলাইন। এটি গেছে বেলারুশ হয়ে। আরেকটি হলো, বাল্টিক সাগরের তলদেশ দিয়ে যাওয়া নর্ড স্ট্রিম গ্যাস পাইপলাইন।

অস্ট্রিয়ার জ্বালানি নিয়ন্ত্রক সংস্থা ই-কন্ট্রোলের মতে, এখন স্লোভাকিয়ার কিছু গ্যাস আসতে পারে হাঙ্গেরি থেকে। দেশটির প্রায় এক-তৃতীয়াংশ গ্যাস আসতে পারে অস্ট্রিয়া থেকে। বাকি গ্যাস আসতে পারে চেক প্রজাতন্ত্র ও পোল্যান্ড থেকে।

এরই মধ্যে নিজেদের সরবরাহব্যবস্থা ঢেলে সাজিয়েছে অস্ট্রিয়া। তাই রাশিয়ার গ্যাস সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় তাদের কোনো সমস্যা হবে বলে জানিয়েছে দেশটির নিয়ন্ত্রক সংস্থা।

চেক প্রজাতন্ত্র পাইপলাইন দিয়ে জার্মানি থেকে এখন আগের চেয়ে বেশি গ্যাস আমদানি করবে। গতকাল থেকে বিশেষ বিবেচনায় জার্মানি থেকে গ্যাস আমদানির সুযোগ তৈরি হয়েছে দেশটির।

Related News

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

সর্বশেষ

ছাত্রদলের অনুষ্ঠানে শিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি, ঐক্যবদ্ধভাবে দেশকে এগিয়ে নেওয়ার আশা

ছাত্রশিবির, ছাত্রদলসহ যাঁরা ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে ভূমিকা রেখেছেন, তাঁরা ঐক্যবদ্ধভাবে আগামী