ডায়াবেটিক রোগীদের একটি অবহেলিত কিন্তু অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ হলো পা। ডায়াবেটিক রোগীদের পা কাটা পড়ার ঝুঁকি নন-ডায়াবেটিক রোগীদের তুলনায় ২৫ গুণ বেশি। এই ঝুঁকির পেছনে সংক্রমণের পাশাপাশি স্নায়ু দুর্বলতা, পায়ে অনুভূতিহীনতা, রক্তপ্রবাহের সমস্যা, সহজে জখম হওয়া, সংক্রমণ এবং ক্ষত সৃষ্টি—সব কিছুই দায়ী। এই কারণে চিকিৎসাবিজ্ঞানে ডায়াবেটিক রোগীদের পায়ের বিশেষ নাম ‘ডায়াবেটিক ফুট’।
**ঝুঁকি:**
পায়ের ত্বক ফাটলে, শালগড়া, পুড়ে যাওয়া, আঁটসাঁট জুতার কারণে পা ছিলে যাওয়া অথবা ধারালো কিছুতে কাটলে জীবাণুর সংক্রমণ হতে পারে, যা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। ব্যথাহীনতার কারণে অনেক রোগী দেরিতে চিকিৎসকের কাছে যান, যা কখনো জীবনের জন্য危 সংকট তৈরি করে। বয়স, দীর্ঘদিনের ডায়াবেটিস, অপুষ্টি, দারিদ্র্য, একাকিত্ব, ধূমপান, দৃষ্টিক্ষীণতা এবং কিডনি রোগ রোগীদের জন্য ডায়াবেটিক ফুটের ঝুঁকি বাড়ায়।
**করনীয়:**
ডায়াবেটিক ফুটের ঝুঁকি কমাতে নিয়মিত পায়ের যত্ন নেওয়া প্রয়োজন। যেমন:
– পা পরিষ্কার ও ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করা,
– খালি পায়ে না হাঁটা,
– নখের যত্ন নেয়া এবং
– সঠিক জুতা নির্বাচন করা।
পায়ের রক্ত চলাচল এবং অনুভূতি সম্পর্কে নিয়মিত চিকিৎসকের কাছে পরামর্শ নিন। যে কোনো ক্ষুদ্র সমস্যা যেমন পা ফাটা, রঙের পরিবর্তন, কাটার বা পোড়ার ক্ষত, ছত্রাক সংক্রমণ বা ঘা দেখা দিলে চিকিৎসকের কাছে দ্রুত যান।
রক্ত চলাচল ব্যাহত হলে পায়ের ধমনি পরীক্ষা করে বা কালার ডপলার আলট্রাসাউন্ডের মাধ্যমে সঠিক ধারণা পাওয়া যায়। কিছু ওষুধের মাধ্যমে রক্ত চলাচলের উন্নতি সম্ভব, তবে অনেক সময় এনজিওগ্রাফি, বেলুন এনজিওপ্লাস্টি, স্টেন্টিং বা বাইপাস অপারেশনের মাধ্যমে পা কাটা থেকে রক্ষা পাওয়া যেতে পারে।
**লেখক:** সহযোগী অধ্যাপক, এন্ডোক্রাইনোলজি বিভাগ, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়।