বাংলার ঐতিহ্যবাহী একটি খাবার ছাতু। এই পুষ্টিকর খাবার দীর্ঘ সময় ক্ষুধা নিবারণ করে। তাই ওজন কমানো থেকে শুরু করে শরীর সুস্থ রাখতে ছাতুর তুলনা নেই। ‘খেটে খাওয়া মানুষের’ খাবার হিসেবে পরিচিত ছাতুর কদর এখন স্বাস্থ্যসচেতন মানুষের কাছেও। জেনে নিন ছাতুর পুষ্টিগুণ।
প্রোটিনে ভরপুর
ছাতু তৈরি হয় ছোলার ডাল থেকে। ডাল ছাড়া যব, ছোলা, বার্লি, বাজরা দিয়েও ছাতু বানানো যায়। যে শস্যদানা থেকেই তৈরি হোক না কেন, ছাতু শরীরের প্রোটিনের চাহিদা মিটিয়ে পেশির শক্তি বাড়াতে বেশ কার্যকর। ছাতুতে শস্যদানার অন্য গুণাগুণও অক্ষুণ্ন থাকে।
ডায়াবেটিস ও ওজন নিয়ন্ত্রণ করে
ছাতুর গ্লাইসেমিক ইনডেক্স খুব কম। তাই ছাতু খেলে পেট অনেকক্ষণ ভরা থাকে। ওজন নিয়ন্ত্রণের জন্য ক্যালরির ভারসাম্য রক্ষায়ও সুবিধা হয়। আর এ জন্য ছাতুকে স্লো ফুডও বলা হয়ে থাকে।
রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা
ছাতুতে প্রচুর পরিমাণ অ্যান্টি–অক্সিডেন্ট থাকে। যা রক্তের অতিরিক্ত চাপ নিয়ন্ত্রণ করে হৃৎপিণ্ড ও মস্তিষ্ককে সুস্থ রাখে। এ ছাড়া ছাতু শরীরে পর্যাপ্ত পানির পরিমাণও নিয়ন্ত্রণ করে, যা রক্তের স্বাভাবিক চলাচল নিশ্চিত করে। যে কারণে পুরো শরীরে রক্ত চলাচলও ঠিক থাকে।
মস্তিষ্কের কার্যকারিতা বৃদ্ধি করে
ছাতুতে আছে পর্যাপ্ত খনিজ ও ভিটামিন, যা মস্তিষ্কের দক্ষতা বাড়ায়। এ ছাড়া মস্তিষ্ক ঠান্ডা ও সচল রাখার জন্য সঠিক মাত্রায় রক্ত সঞ্চালন নিশ্চিত করে ছাতু। আর মস্তিষ্কের এই কার্যকারিতা ধরে রাখতে প্রতিদিন সকালে চিনি না মিশিয়ে ছাতু খাওয়া বেশ উপকারী।
ত্বকের সজীবতায়
ছাতুতে প্রচুর প্রোটিন, ভিটামিন ও খনিজ যেমন থাকে, তেমনি থাকে ভালো পরিমাণ আঁশ। ভিটামিন বি, সি, ফলিক অ্যাসিড ও ফসফরাস, ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেশিয়াম ও আয়রনের মতো খনিজ পদার্থ ছাতুতে পাওয়া যায়। আর সব গুণসমৃদ্ধ উপাদান বজায় রাখে ত্বকের সজীবতা।
হজমে সহায়তা
ছাতুতে থাকা আঁশ, ম্যাঙ্গানিজ, আয়রন, ম্যাগনেশিয়াম অন্য খাবার হজমে দারুণ ভূমিকা রাখে।
রক্তের কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে
ধমনিতে রক্ত সঞ্চলন বাধা পেলে হার্ট অ্যাটাক হয়। তবে ছাতুর আঁশ রক্তের খারাপ কোলেস্টেরলকে বাড়তে দেয় না। রক্তে খারাপ কোলেস্টেরল বাড়লে হৃদ্রোগের আশঙ্কা বাড়ে। তাই ছাতু খেলে রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে থাকে। ফলে রক্তে খারাপ কোলেস্টেরলও বাড়তে পারে না।
ছাতু খাওয়ার নিয়ম
ছাতু নানাভাবেই খাওয়া যায়। তবে সবচেয়ে প্রচলিত পদ্ধতি হলো, পানিতে ভিজিয়ে খাওয়া। বাটি বা থালায় পরিমাণমতো ছাতু নিয়ে তা কতটা শক্ত বা নরম করে খাবেন, সে অনুযায়ী পানি নিয়ে ভিজিয়ে ফেলুন। ভেজানো ছাতু স্বাদহীন হয়ে যায়। তাই সামান্য লবণ মিশিয়ে খেতে পারেন।
ছাতুর অপকারিতা
তবে অত্যধিক ছাতু খেলে পেটে গ্যাস হতে পারে। যাঁরা পাথরের সমস্যায় ভুগছেন, তাঁদের একেবারেই ছাতু খাওয়া উচিত নয়।