মানবদেহের প্রধান উপাদানগুলোর মধ্যে রয়েছে হাড়, মাংস, চামড়া, এবং বিভিন্ন অঙ্গ যেমন হৃদপিণ্ড, ফুসফুস, মস্তিষ্ক, কিডনি, এবং নাড়িভুঁড়ি। মানুষের পেটে কিছু পরিমাণ চর্বি স্বাভাবিক বিষয় হলেও, যারা অতিরিক্ত খাদ্য গ্রহণ করেন, তাদের দেহে অতিরিক্ত চর্বি জমা হয়। যখন খাদ্য পরিমাণে বেশি হয়, তা হজম না হয়ে চর্বিতে পরিণত হয়ে দেহে জমা হয়। অসুস্থতা, অরুচি, বা খাদ্যাভাবের কারণে খাদ্য গ্রহণ না করতে পারলে এই জমা চর্বি শক্তিতে রূপান্তরিত হয়ে জীবন বাঁচিয়ে রাখতে সাহায্য করে।
মেদভুঁড়িসম্পন্ন ব্যক্তিরা হালকা-পাতলা ব্যক্তিদের তুলনায় দীর্ঘ সময় বাঁচতে সক্ষম হন কারণ তাদের শরীরের মজুদ চর্বি শক্তির উৎস হিসেবে কাজ করে। মস্তিষ্ক ছাড়া মানবদেহের অন্যান্য অঙ্গে চর্বি জমা হতে পারে। চর্বি জমার জন্য শুধু অতিরিক্ত খাদ্যই দায়ী নয়; বংশগত প্রবণতা, শারীরিক কার্যকলাপের হার, এবং হরমোনের প্রভাবও ভূমিকা রাখে। তবে মেদভুঁড়ির প্রধান কারণ হলো অলস জীবনযাপন এবং অতিরিক্ত তেল-চর্বি ও মিষ্টিজাতীয় খাবার।
বয়স এবং লিঙ্গ অনুযায়ী চর্বি জমার স্থান ও প্রবণতা আলাদা। শিশুদের চামড়ার নিচে এবং পেটে চর্বি জমার প্রবণতা বেশি থাকে, ছেলেদের পেটে এবং বুকে, মেয়েদের তলপেট, নিতম্ব, ও ঊরুতে চর্বি জমে। বয়স্কদের নতুন করে চর্বি জমার প্রবণতা কমে যায়।
মেদভুঁড়ি হৃদরোগের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে সম্পর্কিত। মেদভুঁড়ির কারণে হার্টের রক্তনালির সমস্যার ঝুঁকি বৃদ্ধি পায়, যা সাধারণত ব্লক হিসেবে পরিচিত। এর ফলে হার্ট অ্যাটাক, এনজিনা, এবং হার্ট ফেইলিউর হতে পারে। মেদভুঁড়ির কারণে শরীরের ওজন বৃদ্ধি পায়, যা হৃদপিণ্ডের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করে। ফলে ডায়াবেটিস, উচ্চরক্তচাপ, উচ্চ কোলেস্টেরল, এবং শ্বাসকষ্টজনিত রোগের ঝুঁকি বাড়ে।
মেদভুঁড়িসম্পন্ন ব্যক্তিরা অল্প পরিশ্রমে হাঁপিয়ে যেতে পারেন, শ্বাসকষ্ট, বুকের চাপ অনুভব করতে পারেন, পেটে গ্যাস এবং বদহজম হতে পারে। রাতে খাওয়ার পর শ্বাসকষ্ট দেখা দিতে পারে বা মাঝরাতে শ্বাসকষ্টে আক্রান্ত হতে পারেন। হার্টের রক্তনালি ব্লক এবং উচ্চরক্তচাপের কারণে হৃদপিণ্ডের মাংসপেশি দুর্বল হয়ে পড়লে হার্ট অ্যাটাকের সম্ভাবনা থাকে। তাই সতর্ক থাকা জরুরি।
লেখক: চিফ কনসালটেন্ট, শমশের হার্ট কেয়ার, শ্যামলী, ঢাকা