‘ডিরেক্টরস গিল্ড নিয়ে প্রতিবার একই রকম স্বপ্ন দেখি। এবারও তেমনই প্রত্যাশা। আমি মনে করি এবার যাঁরা দায়িত্বে এসেছেন, তাঁরা চাইলে অনেক কিছু করতে পারবেন, যেগুলো এর আগে হয়নি। বেশির ভাগই দেখা যায় গৎবাঁধা, গড্ডলিকার মতো কিছু কাজ হয় প্রতিবার। কিন্তু জরুরি বা সৃজনশীল প্রতিষ্ঠান হিসেবে যে কাজ করা দরকার, সেগুলো হয় না।’ ছোট পর্দার নির্মাতাদের সংগঠন ডিরেক্টরস গিল্ড নিয়ে আক্ষেপ করে কথাগুলো বললেন গুণী অভিনেতা ও পরিচালক আবুল হায়াত।
গুণী এই অভিনেতা আরও জানান, ডিরেক্টরস গিল্ড নির্বাচনের আগে ও পরে প্রতিবারই তিনি আশায় বুক বাঁধেন। কিন্তু পরে তাঁকে বেশির ভাগই হতাশ হতে হয়। তাঁর মতে, একটি সৃজনশীল সংগঠনে যেগুলো বেশি গুরুত্ব পাওয়ার কথা, সেগুলো গুরুত্ব পাচ্ছে না।
এই অভিনেতা বলেন, ‘প্রতিবারই দেখা যায় সংগঠনের পক্ষ থেকে পিকনিক হচ্ছে। এখানে স্পনসর নিয়ে আসা হচ্ছে। কিছু চাঁদা ওঠানো হচ্ছে। এখানে চা–নাশতা খাওয়া হয়। এসব করে কল্যাণ কমিটি কিছু টাকা আনছে বা ফান্ডে কিছু টাকা আসছে। এগুলো হতে পারে; একটা গেট টুগেদার। কিন্তু এগুলো তো মূল বিষয় হতে পারে না। আমাদের তো টেকনিক্যাল অনেক কাজ রয়েছে, সেগুলো করতে হবে। এগুলো নিয়ে তরুণদের উদ্বুদ্ধ করতে হবে। সংগঠনকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে। সেই কাজ কোথায়?’
‘সংগঠনের নবীন প্রবীণ নির্মাতাদের নিয়ে অনেক কিছু করার আছে সংগঠনের’ এমনটাই মনে করেন গুণী অভিনেতা আবুল হায়াত। ‘পুরোনো ডিরেক্টর যারা ভালো কাজ করেছেন তাদের কাজগুলো দেখানোর ব্যবস্থা করা উচিত। প্রতি মাসে শো করা উচিত। যারা ভালো ডিরেক্টর তাদের নিয়ে এসে ওয়ার্কশপ করা উচিত। নতুন ডিরেক্টরস আছে, তারা যেন কিছু শিখতে পারে সেই ব্যবস্থা করা উচিত। এ ছাড়া যাঁরা একেবারেই নতুন, পরিচালনা শিখতে এসেছেন, তাঁদের শেখানোর জন্য সেমিনার, ওয়ার্কশপ হতে পারে। শিল্পচেতনার নানা বিষয় নিয়ে তাঁদের সঙ্গে কথা হতে পারে। এমন অনেক কাজ রয়েছে, যেগুলো নিয়মিত না করলে ক্রিয়েটিভ একটা সংগঠন চলবে কীভাবে?’ বলেন আবুল হায়াত।
গুণী এই প্রবীণ অভিনেতা আরও জানান, সুজনশীল মানুষেরা স্বপ্ন নিয়ে এই পেশায় আসেন। তাঁদের স্বপ্নকে আরও বাড়িয়ে দিতে হবে। যেটা তাঁদের নির্মাণে প্রভাব রাখবে। এমন পথে না হাঁটলে সংগঠনের প্রয়োজনীয়তা তেমন একটা থাকবে না। এ সময় তিনি আরও বলেন, ‘একজন নির্মাতা একটা স্বপ্ন দেখেন, সেটা তাঁরা তৈরি করেন। এসব সৃজনশীল মানুষের জন্য শুধু পিকনিক করার জন্য একটা অ্যাসোসিয়েশন হবে, এটা ভালো লাগে না। সৃজনশীল, স্বপ্ন দেখা মানুষদের নিয়ে মূল কাজ পিকনিক হতে পারে না। আমার বিশ্বাস, এই জিনিসটি এবার বদলাবে। বর্তমান সময়ের পরিপ্রেক্ষিতে সবাই অন্তত বুঝতে পারবে, কিছু করার আছে। কিছু করা না হলে সদস্যরাও বুঝে ফেলবে সংগঠন করে লাভ নাই। এতে সামনে আরও নিরুৎসাহিত হবে তরুণেরা।’