‘অগ্নি’তে প্রতীক গান্ধী, দিব্যেন্দু শর্মার মতো অভিনেতাদের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে অভিনয় করে দর্শকের প্রশংসা কুড়িয়েছেন সায়ামি খের। রাহুল ঢোলাকিয়া পরিচালিত ছবিটি প্রসঙ্গে অভিনেত্রী বলেন, ‘ছবিটির মাধ্যমে এমন সব মানুষের গল্প আমরা বলতে পেরেছি, যাঁদের কথা এত দিন সেভাবে বলা হয়নি। আর এ জন্য আমরা সত্যি লজ্জিত।
সিনেমাটি আমাকে মানসিক ও শারীরিকভাবে প্রভাবিত করেছে। অগ্নির জন্য আমাকে অন্য এক চ্যালেঞ্জের মোকাবিলা করতে হয়েছে। তবে আমি খুশি যে সেই সব চ্যালেঞ্জ আমি উতরে যেতে পেরেছি।’
শুধু অভিনয় নয়, খেলাধুলায়ও সায়ামি সমান পারদর্শী। গত বছর সম্মানীয় ‘আয়রনম্যান ট্রায়াথলন’ সম্পূর্ণ করেছেন সায়ামি, প্রথম ভারতীয় অভিনেত্রী হিসেবে ‘আয়রনম্যান’ হয়ে সৃষ্টি করেছেন ইতিহাস।
মুম্বাইয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এ প্রসঙ্গে অভিনেত্রীর ভাষ্য, ‘গত বছর আয়রনম্যান ৭০ দশমিক ৩ সম্পন্ন করা আমার জীবনের অন্যতম সেরা সুখকর অনুভূতি। এর মাধ্যমে আমি নিয়মানুবর্তিতা, মানসিক শক্তি কীভাবে বাড়াতে হয়, অধ্যবসায়ের মূল্য ইত্যাদি শিখেছি।’ এ বছর আবার ‘আয়রম্যান’ হওয়ার দৌড়ে শামিল হবেন সায়ামি। ‘এ বছর আরও কঠিন পথ নির্বাচন করেছি। নিজেকে আমি নিজেই ক্রমাগত তৈরি করছি। আমার হাতে মাত্র পাঁচ মাস সময় আছে। এর মধ্যেই দুটো ছবির শুটিং করছি। আর আমি এ–ও জানি যে ২৪ ঘণ্টা কেউ যদি সঠিকভাবে কাজে লাগাতে জানেন, তাহলে তা যথেষ্ট সময়।’
‘অগ্নি’ ছবিতে ফায়ার ফাইটার হয়ে উঠতে ক্রীড়া কি কোথাও সাহায্য করেছিল? অভিনেত্রীর জবাব, ‘কিছুটা হয়তো। তবে এই ছবির জন্য আমাকে আলাদাভাবে প্রশিক্ষণ নিতে হয়েছে। আমরা সবাই “অগ্নি”র জন্য প্রচুর পরিশ্রম করেছি। মই বেয়ে কীভাবে ওঠানামা করতে হয়, আরও নানান কিছু আমাদের শিখতে হয়েছে।’
নানা ব্যতিক্রম প্রকল্পে ভিন্ন স্বাদের চরিত্রে সায়ামিকে দেখা যাচ্ছে। ‘ঘুমর’ ছবিতে যেমন তাঁকে ক্রিকেটারের ভূমিকায় দেখা গিয়েছিল। অভিনেত্রী জানান, ‘আমি নিজেকে নিজে চ্যালেঞ্জ জানাতে ভালোবাসি। আমি মনে করি, বিনোদন দুনিয়ায় টিকে থাকা খুব কঠিন। অভিনেত্রী হিসেবে দর্শককে নতুন নতুন স্বাদ দেওয়া আমাদের দায়িত্ব। এখানে স্বীকৃতি পাওয়ার চেয়ে বেশি আমাদের সমালোচনার মুখোমুখি হতে হয়। আমার সঙ্গেও তা–ই ঘটেছে। তাই মনোবল না থাকলে এখানে হারিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা প্রবল। আর আমার বিশ্বাস, পরিবারের মানুষ পাশে থাকলে যেকোনো ধরনের মানসিক অবসাদ থেকে আমরা বের হয়ে আসতে পারব।’
প্রায় ১০ বছরের অভিনয়জীবনে বড় বড় পরিচালকের সঙ্গে কাজ করার সুযোগ পেয়েছেন সায়ামি। তাঁর ইচ্ছার ঝুলিতে আর কী কী আছে? অভিনেত্রী জানান, ‘আমার মনে হয় যে আমাকে আমার পছন্দের চরিত্র পেতে হলে আরও সফলতা অর্জন করতে হবে। আমি সত্যি ভাগ্যবতী যে নীরজ পাণ্ডে, অনুরাগ কাশ্যপ, রাহুল ঢোলাকিয়া, আর বালকির মতো পরিচালকদের সঙ্গে কাজ করার সুযোগ পেয়েছি। কিন্তু অভিনেত্রী হিসেবে আমি লোভী। আমার ইচ্ছার ঝুলিতে আরও ভালো ভালো চরিত্র আর ভালো ভালো পরিচালকের নাম লুকিয়ে আছে।’