তিনি আমির, শাহরুখ বা সালমান খান নন। হিন্দি সিনেমার বড় তিন তারকার মতো জনপ্রিয়তাও নেই তাঁর। তবে তিনি নিজেকে যেভাবে বারবার ভেঙেছেন, নানা ধরনের চরিত্রে অভিনয়ের ঝুঁকি নিয়েছেন; প্রথম সারির কম অভিনেতাই সেটা করেছেন। হচ্ছিল সাইফ আলী খানের কথা; হামলার ঘটনার পর যিনি এই মুহূর্তে অন্যতম আলোচিত বলিউড তারকা।
শর্মিলা ঠাকুর ও মনসুর আলী পতৌদির ছেলে সিনেমায় আসবেন অনুমিতই ছিল। ১৯৯৩ সালে ‘পরম্পরা’ দিয়ে বড় পর্দায় পা রাখেন সাইফ। ছবিটি বক্স অফিসে ফ্লপ হয়। নব্বইয়ের দশকে বেশ কয়েকটি সিনেমা করলেও সাইফকে দর্শক আসলে মনে রেখেছেন ‘হাম সাথ-সাথ হ্যায়’-এর জন্য। যৌথ পরিবারের প্রেক্ষাপটে নির্মিত পারিবারিক ড্রামা সিনেমাটি বেশ আলোচিত হয়। তবে সাইফের অভিনেতা হিসেবে উত্থান পরের দশকে। ২০০০ সাল থেকে পরের এক দশক বেশ কয়েকটি ব্যবসাসফল সিনেমায় দেখা যায়, করেন কয়েকটি নিরীক্ষাধর্মী সিনেমাও। যার শুরুটা ‘দিল চ্যাহতা হ্যায়’ দিয়ে।
২০০০ সালে মুক্তি পাওয়া সাইফ, আমির ও অক্ষয় অভিনীত সিনেমাটি তরুণদের কাছে যেন ছিল তাজা হাওয়ার মতোই। প্রচলিত বলিউডি ঢঙের বাইরে গিয়ে এই সিনেমায় বন্ধুত্বের গল্প বলেছেন ফারহান আখতার। এরপর ‘কাল হো না হো’ সাইফের ক্যারিয়ার আরও এক ধাপ এগিয়ে দেয়। তাঁকে দেখা যায় ‘হাম তুম’, ‘পরিণীতা’, ‘সালাম নমস্তে’, ‘তারা রাম পাম’-এর মতো রোমান্টিক সিনেমায়। সাধারণ দর্শকের কাছে অবশ্য রোমান্টিক নায়ক হিসেবেই সাইফের পরিচিতি ছিল, রানী মুখার্জির সঙ্গে তাঁর জুটি পছন্দ করতেন দর্শকেরা।
বাণিজ্যিক সিনেমা করলেও ক্যারিয়ারজুড়েই ঝুঁকি নিয়েছেন তিনি। ‘এক হাসিনা থি’র মতো ভিন্নধর্মী সিনেমা করেন তিনি, ইংরেজি সিনেমা ‘বিয়িং সাইরাস’ করেন। তাঁকে দেখা যায় বিশাল ভরদ্বাজের ‘ওমকারা’তেও। পরের দিকে ‘লা আজ কাল’, ‘ককটেল’-এর রোমান্টিক সিনেমাও করেন তিনি।
তবে ২০১০ সালে পর থেকে সাইফের ক্যারিয়ারে ছিল ভাটার টান। বিশেষ করে ‘ককটেল’-এর তাঁর কাছ থেকে ভালো কিছু পাওয়া যায়নি।
সাইফ প্রবলভাবে ফেরেন নেটফ্লিক্সের সিরিজ ‘সেক্রেড গেমস’ দিয়ে। অনুরাগ কাশ্যপ ও বিক্রমাদিত্য মোতওয়ানির সিরিজটি ভারত তো বটেই, বিদেশেও ব্যাপক জনপ্রিয়তা পায়। ২০১৮ সালে সিরিজটি মুক্তির আগে দেওয়া সাক্ষাৎকারে সাইফ বলেছেন, এ সিরিজটিতে সুযোগ দিয়ে বিক্রমাদিত্য কার্যন্ত তাঁকে নতুন জীবন দিয়েছেন।
এরপর সাইফ আলী আব্বাস জাফসের ওয়েব সিরিজ ‘তাণ্ডব’-এ অভিনয় করেন। তবে অ্যামাজন প্রাইমে মুক্তি পাওয়া সিরিজটি নিয়ে প্রবল বিতর্ক হয়, সে জন্যই কিনা আর ওটিটিমুখী হননি অভিনেতা। ২০২২ সালে পুষ্কর ও গায়েত্রীর ‘বিক্রম বেদা’ করেন।
এ ছবিতে আবার তাঁকে পুরোপুরি দেখা যায় অ্যাকশন অবতারে। এরপর সাইফের ক্যারিয়ারে আসে নতুন পর্যায়, দক্ষিণি ছবিতে যুক্ত হন অভিনেতা। ওম রাউতের ‘আদি পুরুষ’-এর প্রধান খল চরিত্রে অভিনয় করেন।
গত বছর কোরাতলা শিবা পরিচালিত ‘দেবারা: পার্ট ১’ ছবিতেও জুনিয়র এনটিআর ও জাহ্নবীর সঙ্গে দেখা যায় তাঁকে।
সর্বশেষ গত সোমবার এসেছে ‘দ্য জুয়েল থিফ’ ছবিতে অভিনয়ের খবর। সিদ্ধান্ত আনন্দের ছবিটি তৈরি হয়েছে চুরি নিয়ে।
তিন দশকের ক্যারিয়ারের শুরুতে রোমান্টিক নায়ক হিসেবে পরিচিতি পান সাইফ, পরে ডাঁকে থ্রিলার বা ডার্ক ঘরানার কনটেন্টে দেখা গেছে। এখন আবার নিয়মিত করছেন অ্যাকশন সিনেমাও। বাণিজ্যিক সিনেমার পাশাপাশি ভারতের বিভিন্ন ভাষার একটি ভিন্নধর্মী প্রকল্পেও কাজ করেছেন সাইফ। তিন খানের মতো জনপ্রিয় না হলেও নিজের কাজ দিয়ে ভক্তদের মনে যে আলাদা জায়গা করে নিয়েছেন সাইফ, সে কথা বলাই বাহুল্য।