অভিনেত্রী শাহনাজ খুশি সকালে রমনা পার্কে হাঁটতে বের হন। গত মঙ্গলবারও বের হয়েছিলেন। সেদিন হাঁটাহাঁটি শেষে ফিরছিলেন ইস্কাটনের বাসায়। এমন সময় নিউ ইস্কাটনের রাস্তায় পেছন দিকে থেকে আসা একটি ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা শাহনাজ খুশিকে ধাক্কা দেয়। এতে তিনি রাস্তায় পড়ে যান। চোখ, কপালসহ শরীরে আঘাত পান। হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসক চোখের ঠিক ওপরে ১০টি সেলাই দিয়েছেন। প্রথম আলোকে আজ শুক্রবার সন্ধ্যায় খবরটি জানিয়েছেন শাহনাজ খুশির ছেলে অভিনয়শিল্পী দিব্য জ্যোতি।
দিব্য জ্যোতি জানালেন, ‘মা সব সময় সকালে রমনা পার্কে হাঁটতে বের হন। ওই দিনও গিয়েছিলেন। আমরা তখন ঘুমে। হঠাৎ দেখি মা ডান চোখের ওপরে ওড়না চেপে ঘরে ঢোকেন। সবাইকে ডাকছেন। দেখি মায়ের পুরো মুখ রক্তে ভেসে যাচ্ছে। অনর্গল রক্ত ঝরছে। ওই সময় ড্রাইভারও নাই। কী করব বুঝে উঠতে পারছিলাম না। কোথায় নিয়ে যাব এত সকালে। এরপর আমি নিজে গাড়ি চালিয়ে মাকে নিয়ে হাসপাতালে যাই। চিকিৎসকও মায়ের এমন অবস্থা দেখে ঘাবড়ে যান। মাকে ১০টি সেলাই দেওয়া লাগে।’
দিব্য জ্যোতি আরও জানান, তাঁর মায়ের সিটিস্ক্যান করাতে হবে কিন্তু এখনো চোখের ওপর মারাত্মক আঘাত পাওয়ায় সেটা সম্ভব হচ্ছে না।
দিব্য জ্যোতি বলেন, ‘মায়ের ডান চোখের পাশে এখনো কোনো অনুভূতি নেই। চোখে চশমা ছিল। চশমার ফ্রেম ভেঙে ঢুকে যায় ডান চোখের ভ্রুর ভেতরে। ভ্রুর ওপরে যে আর্টারি রয়েছে, সেটা মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এমনভাবে পড়েছে, ভাগ্য ভালো যে চশমার গ্লাস ভেঙে চোখে ঢোকেনি! ডাক্তার আমাদের বললেন, গ্লাস ঢুকলে সর্বনাশ হয়ে যেত।’ দিব্য জানালেন, মায়ের উন্নত চিকিৎসারও প্রয়োজন পড়তে পারে।
দিব্য জ্যোতি জানালেন, শাহনাজ খুশির শুধু চোখে নয়, হাতের কনুইয়েও আঘাত লেগেছে। তিনি হাঁটুতে আঘাত পেয়েছেন। উপুড় হয়ে পড়াতে বুকেও আঘাত লেগেছে। কোমরেও আঘাতপ্রাপ্ত হয়েছেন।
এদিকে দুর্ঘটনার খবর নিয়ে শাহনাজ খুশির ফেসবুকে একটি পোস্ট দেওয়া হয়েছে। সন্ধ্যায় দেওয়া সেই পোস্টে লেখা হয়েছে, ‘বেশি না, মাত্র ১০টা সেলাই পড়েছে। এ আর এমন কী বলেন? চোখটা অন্ধ হয় নাই, হয় নাই ব্রেইন হ্যামারেজের মতো অবস্থা! সেটাই তো অনেক বেশি পাওয়া! এ তেমন কিছু না, চোখের ওপরের সেনসিটিভ জায়গায় মাত্র ১০টি সেলাই লেগেছে!’
ক্ষুব্ধ খুশি জানান, ব্যাটারিচালিত যানবাহন নিয়ে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেন। তিনি লিখেছেন, ‘যদিও আমি গলির ভেতরের রাস্তায়, অতি সতর্কতার সাথেই একেবারে কিনার দিয়ে হেঁটে ফিরছিলাম! ধাক্কা দিয়ে ফেলে দিয়ে বীরদর্পে চলে গেছে! ওরা মেধাবী যানচালক, কারও তোয়াক্কা করে না!’
অটোরিকশার ধাক্কায় আহত অভিনেত্রী নিজের বর্তমান অবস্থার কথা জানিয়ে লেখেন, ‘আজ চার দিন পরও মাথার অর্ধেকে কোনো বোধশক্তি নাই! জানি না স্বাভাবিক চেহারায় ফিরব কি না, সেটা যদিও ফিরি, রক্তাক্ত সেই পথে পড়ে থাকা সকালের ট্রমা অনেক কাল ভুলব না! সবার জীবন সংকটহীন, মঙ্গলময় হোক।’
সবাইকে সতর্ক করে শাহনাজ খুশির পোস্টে লেখা হয়েছে, ‘আমি যে প্রাণে বেঁচে আছি, এ জন্য মহান সৃষ্টিকর্তার কাছে শুকরিয়া আদায় করছি! কিচ্ছু চাই না, শুধু যে মায়েরা/ বাবারা ছোট্ট বাচ্চাটার হাত ধরে রাস্তা পার হয়ে স্কুলে আসেন অথবা নানা প্রয়োজনে রাস্তায় যান, তাঁদের সতর্ক করতে পোস্টটা দিলাম। আপনার এবং আপনার সন্তানের দায়িত্ব একান্তই আপনার।’