ভিকি জাহেদ ডার্ক ঘরানার কনটেন্ট বানান। গত কয়েক বছরে টিভি ও ওটিটির জন্য নানা স্বাদের থ্রিলার বানিয়েছেন। কোনোটি ব্যাপক সাড়া ফেলেছে, কোনোটি ততটা নয়। তাঁর নতুন প্রকল্প ‘অন্ধকারের গান’। ৯ জানুয়ারি মুক্তি পায় ওয়েব ফিল্মটি।
একনজরে
সিনেমা: ‘অন্ধকারের গান’
পরিচালক: ভিকি জাহেদ
ধরন: থ্রিলার, ড্রামা
স্ট্রিমিং: বিঞ্জ
অভিনয়ে: আবুল হায়াত, মোশাররফ করিম, জাকিয়া বারী মম, শাহনাজ সুমি, রাশেদ মামুন অপু।
এর আগে মুক্তি পাওয়া সিনেমাটির ট্রেলার সাড়া ফেলেছিল। রহস্যের আভাস দেওয়া ট্রেলার বেশ ভালো হয়েছিল। কিন্তু মুক্তির পর ট্রেলারে দেওয়া প্রতিশ্রুতি মিলল কি?
ট্রেলার দেখে যা বোঝা গিয়েছিল, গল্প ঠিক তেমনই। মুকুল (মোশাররফ করিম) শহরে এক বাড়িতে কেয়ারটেকারের কাজ করে। রুমালী (জাকিয়া বারী মম) গ্রামের গৃহবধূ। অভাবের সংসার, বিছানায় শষ্যশায়ী শাশুড়ির দেখভাল করতে হয়।
স্বামী শহরে কাজ করে, নিয়ম করে টাকা পাঠায়। হঠাৎই স্বামী যোগাযোগ বন্ধ করে দেয়। স্বামীর খোঁজ নিতে রুমালী ভাবে শহরে যাবে। এদিকে গার্মেন্টসের শ্রেষ্ঠ কর্মীর পুরস্কার পাওয়া শাপলার (শাহনাজ সুমি) জগৎটা মা-ভাইকে নিয়ে। হঠাৎ দেখায় শাপলাকে পছন্দ করে ফেলে মুকুল। কিন্তু ঘটনাচক্রে নিয়তি তাঁদের ঠেলে দেয় অন্ধকারে।
‘অন্ধকারের গান’-এ প্রথমবারের মতো জুটি বেঁধেছিলেন মোশাররফ করিম ও ভিকি জাহেদ। তাই প্রত্যাশা ছিল আরও বেশি। কিন্তু সেটা মেটানো তো দূর, ধারেকাছেও যেতে পারেনি ছবিটি। শেষ করার পর ‘ক্ষমতাবানদের সঙ্গে বন্ধুত্ব যেমন মিঠা, শত্রুতা অনেক বেশি’—এমন কয়েকটি সংলাপ ছাড়া আর কিছুই মনে থাকে না।
‘অন্ধকারের গান’-এ মূলত তিনজনের বেঁচে থাকার গল্প আমাদের চেনা নানা ঘটনার প্রেক্ষাপটে তুলে ধরতে চেয়েছেন নির্মাতা। কিন্তু সেটা একেবারেই ছাপ ফেলতে পারেনি। চিত্রনাট্য সেই দম নেই—না আছে ভিকির সিগনেচার রোমাঞ্চ; সাধারণ পারিবারিক ড্রামা হিসেবেও তেমন জুতসই নয় সিনেমাটি। পারিবারিক অনেক আবেগ আছে কিন্তু মনে দাগ কাটে না।
সিনেমার একেবারে শেষে একটা চমক রেখেছেন নির্মাতা, কিন্তু সেটা পুরো সিনেমা নিয়ে ধারণা বদলাতে পারে না। ‘অন্ধকারের গান’-এর একমাত্র ভালো দিক অভিনয়।
পুরো সিনেমাটিই দাঁড়িয়ে আছে মোশাররফ করিমের ওপর। মুকুল চরিত্রে তিনি যথাযথ। কিন্তু চরিত্রে সেভাবে লেখা না হলে তাঁর আর কী করার আছে। মম ও সুমির স্বল্প সময়ের উপস্থিতি, তবে যেটুকু সময় পেয়েছেন দুজনেই কাজে লাগিয়েছেন। সুমি অভিনীত চরিত্রটির পরিণতি বড্ড বেশি অনুমানযোগ্য।
পুরো সিনেমাটিই দাঁড়িয়ে আছে মোশাররফ করিমের ওপর। মুকুল চরিত্রে তিনি যথাযথ। কিন্তু চরিত্রে সেভাবে লেখা না হলে তাঁর আর কী করার আছে। মম ও সুমির স্বল্প সময়ের উপস্থিতি, তবে যেটুকু সময় পেয়েছেন দুজনেই কাজে লাগিয়েছেন। সুমি অভিনীত চরিত্রটির পরিণতি বড্ড বেশি অনুমানযোগ্য।