সাম্প্রতিক সময়ে বলিউডের সবচেয়ে আলোচিত ঘটনা সাইফ আলী খানের ওপর হামলা। ১৬ জানুয়ারি গভীর রাতে এ ঘটনা অবাক করে সবাইকে। হামলার পর সাইফকে ভর্তি করা হয় লীলাবতী হাসপাতালে, ইতিমধ্যেই সেখান থেকে বাসায় ফিরেছেন তিনি। তবে ঘটনার দিন গুরুতর আহত অভিনেতার সঙ্গে হাসপাতালে যাননি স্ত্রী কারিনা কাপুর খান। আর তাতেই অভিনেত্রীকে নিয়ে নানা গুজব ছড়াতে থাকে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকেই বলতে থাকেন, এদিন রাতে মাতাল মদ্যপ ছিলেন কারিনা, তাই তিনি হাসপাতালে যাননি। বিষয়টি নিয়ে কারিনা কথা না বললেও, এটিকে ‘হাস্যকর গুজব’ বলেছেন অক্ষয়পত্নী আরেক বলিউড তারকা টুইঙ্কেল খান্না।
যখন বিটলসে ভাঙন ধরল, তখন সবাই দায়ী করল ইয়কো ওনোকে। বিরাট কোহলির খারাপ পারফরম্যান্সে আনুশকাকে দোষারোপ, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কারণে স্ত্রী মেলানিয়া ট্রাম্পকে কথা শোনানো হয়।’
টাইমস অব ইন্ডিয়াতে লেখা তাঁর সর্বশেষ কলামে বিষয়টি সামনে এনেছেন অভিনেত্রী। সেখানে স্বামীর কর্মকাণ্ডে স্ত্রীকে দোষারোপের সংস্কৃতি থেকে বের হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন সবাইকে।
কারিনা কাপুরকে নিয়ে গুজবের উদাহরণ টেনে টুইঙ্কেল লেখেন, ‘যখন একজন অভিনেতাকে ছুরিকাঘাত করা হয়, তখন হাস্যকর কিছু গুজব ছড়িয়ে পড়ে। অনেকে বলতে থাকেন, হামলার সময় তাঁর স্ত্রী বাড়িতে ছিলেন না। কিংবা হামলার সময় তাঁকে সাহায্য করার পরিস্থিতি তাঁর ছিল না। কারণ, তিনি মাতাল ছিলেন। আসলে বউয়ের ওপর দোষ চাপিয়ে লোকে আনন্দ পায়। এটা খুব পরিচিত একটি বিষয়।’
লেখায় শুধু কারিনা কাপুরের প্রসঙ্গ টানেননি টুইঙ্কেল। আরও কয়েকজন তারকার উদাহরণ টেনে তিনি লেখেন, ‘যখন বিটলসে ভাঙন ধরল, তখন সবাই দায়ী করল ইয়কো ওনোকে। বিরাট কোহলির খারাপ পারফরম্যান্সে আনুশকাকে দোষারোপ, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কারণে স্ত্রী মেলানিয়া ট্রাম্পকে কথা শোনানো হয়।’
টুইঙ্কলের অভিযোগ, স্বামীদের সব ভুলের জন্য সব সময় স্ত্রীদেরই দোষারোপ করা হয়। টুইঙ্কেল লেখেন, ‘যদি আপনার স্বামীর ওজন খুব বেশি বেড়ে যায়, তাহলে বলা হবে আপনি তার স্বাস্থ্যের যত্ন নিচ্ছেন না। যদি সে খুব বেশি রোগা হয়ে যায়, তাহলে লোকে বলবে, আপনি তাকে ঠিকমতো খাওয়াচ্ছেন না।’
নিজের জীবনের এক ঘটনার উদাহরণ দিয়ে সর্বশেষ টুইঙ্কেল লেখেন, ‘গত সপ্তাহে আমি একটা ছোট পারিবারিক অনুষ্ঠানে অংশ নিয়েছিলাম। সেখানে এক আত্মীয় মন্তব্য করেন, দেখো, আমার পাঁচ চাচার মাথায় টাক পড়েছে, আর যার এখনো চুল আছে, একমাত্র তিনিই বিবাহিত নন। আপাতদৃষ্টিতে, তাই টাকের জন্যও স্ত্রীদেরও দায়ী করা যেতে পারে। এ প্রসঙ্গে একটা কথা বলা খুব প্রয়োজন, প্রত্যেক পুরুষ, তিনি পরাজিত হন কিংবা জয়ী, তাঁদের সকলের পেছনেই কিন্তু একজন নারী রয়েছেন। আর যা–ই ঘটুক, তাঁর নিন্দা হবেই।’
উল্লেখ্য, ভারতীয় গণমাধ্যম হিন্দুস্তান টাইমস জানায়, সেদিন রাতে এক অনুষ্ঠানে হাজির ছিলেন কারিনা। তিনি তাঁর বোন কারিশমা কাপুর, অভিনেত্রী সোনম কাপুর, রিয়া কাপুরসহ অন্য বন্ধুদের সঙ্গে একটি আয়োজনে উপস্থিত ছিলেন। তবে ঘটনার সময় তিনি বাড়িতে ছিলেন কি না, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। এদিকে ঘটনার পরদিন পুরো ঘটনা নিয়ে প্রথম আলোকে বিবৃতি পাঠান কারিনা কাপুরের জনসংযোগ কর্মকর্তা।
বিবৃতিতে জানানো হয়, ‘সাইফ হাতে আঘাত পেয়েছেন। আর তাই হাসপাতালে তাঁর চিকিৎসা চলছে। পরিবারের অন্য সদস্যরা ভালো আছেন। পুলিশ এরই মধ্যে তদন্তের কাজ শুরু করে দিয়েছে। আমরা মিডিয়া আর ভক্তদের ধৈর্য রাখার জন্য আবেদন জানাচ্ছি। অনুগ্রহ করে এ নিয়ে কেউ কোনো গুজব ছড়াবেন না। এ ঘটনায় আপনারা সবাই যে উদ্বেগ প্রকাশ করছেন ও দুশ্চিন্তায় আছেন, এ কারণে আপনাদের ধন্যবাদ।’