তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা মো. নাহিদ ইসলাম বলেছেন, চলচ্চিত্রশিল্পের উন্নয়নে সরকার পৃষ্ঠপোষকতা করবে। চলচ্চিত্র জগতের দীর্ঘদিনের স্থবিরতা দূর করতেও সরকার কাজ করছে। আজ শুক্রবার শাহবাগের জাতীয় জাদুঘরের প্রধান মিলনায়তনে ১৭তম ‘বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক স্বল্পদৈর্ঘ্য ও মুক্ত চলচ্চিত্র উৎসব’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপদেষ্টা এ কথা বলেন। জুলাই গণ–অভ্যুত্থানের ঘটনাপ্রবাহ নিয়ে চলচ্চিত্র নির্মাণের ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, এই অভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপট ও প্রকৃত ঘটনার আলোকে চলচ্চিত্র নির্মাণ করতে হবে। এ ধরনের চলচ্চিত্র নির্মাণে যেন ইতিহাস বিকৃত করা না হয়, সে বিষয়ে তিনি সংশ্লিষ্ট সবাইকে সচেতন থাকার আহ্বান জানান।
উপদেষ্টার ভাষ্যে, ‘আমাদের সমাজে এখনো নানা ধরনের ফ্যাসিবাদী প্রবণতা ও ফ্যাসিবাদী কাঠামো রয়েছে। ব্যক্তি ও সমাজকে ফ্যাসিবাদী প্রবণতা থেকে মুক্ত করতে হলে শক্তিশালী সাংস্কৃতিক আন্দোলনের প্রয়োজন।’ জুলাই গণ–অভ্যুত্থানের পর মানুষ নতুন করে স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছে উল্লেখ করে উপদেষ্টা বলেন, ‘দেশের মানুষের স্বপ্ন ও সম্ভাবনাকে সংস্কৃতিতে রূপান্তর করা আমাদের দায়িত্ব। এটি করা সম্ভব হলে জুলাই গণ–অভ্যুত্থানের চেতনা দীর্ঘস্থায়ী হবে।’ নাহিদ ইসলাম বলেন, জুলাই গণ–অভ্যুত্থান ও বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে নানা ধরনের অপপ্রচার হচ্ছে। এ ধরনের অপপ্রচার প্রতিরোধে তিনি সাংস্কৃতিক অঙ্গনের ব্যক্তিদের দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান।
বাংলাদেশ শর্ট ফিল্ম ফোরামের সভাপতি জহিরুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তৃতা দেন আলোকচিত্রী নাসির আলী মামুন, চলচ্চিত্র উৎসব পরিষদের পরিচালক সৈয়দ ইমরান হোসেন কিরমানী ও সিটি ব্যাংকের কান্ট্রি বিজনেস ম্যানেজার আশানুর রহমান। আয়োজনে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে নিহত-আহত ব্যক্তিদের স্মরণে এক মিনিট দাঁড়িয়ে নীরবতা পালন করা হয়।
শতাধিক দেশের ২৭৬টি চলচ্চিত্র নিয়ে আয়োজিত এবারের উৎসবটি জুলাই-আগস্ট গণ-অভ্যুত্থানের শহীদদের প্রতি এবং শিল্পী এস এম সুলতানের জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে উৎসর্গ করা হয়েছে। এবারের আসরের কান্ট্রি ফোকাস নির্বাচিত হয়েছে ফিলিস্তিন। ২৫ ডিসেম্বর বেলা ৩টা থেকে বিকেল ৫টায় জাতীয় জাদুঘরের সুফিয়া কামাল মিলনায়তনে ফিলিস্তিনের আটটি ফিকশন চলচ্চিত্র প্রদর্শিত হবে।
আঞ্চলিক ফোকাস হিসেবে বিভিন্ন আরব দেশগুলো নির্বাচন করা হয়েছে এবার। ২৬ ডিসেম্বর জাতীয় জাদুঘরের সিনেপ্লেক্স মিলনায়তনে বেলা ১১টা থেকে ১টা এবং বেলা ৩টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত ৯টি ফিকশন ও একটি প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শিত হবে। জুলাই-আগস্ট গণ-অভ্যুত্থান নিয়ে নির্মিত চলচ্চিত্র দ্য ড্রিম, দ্য ফাইট, দ্য ভিক্টরি প্রদর্শিত হবে ২৩ ডিসেম্বর।
এর বাইরেও একাধিক সেশন রয়েছে। এসব সেশনে নুরুল রাশেদ চৌধুরী, জহিরুল ইসলাম, রফিকুল আনোয়ার, তারেক আহমেদ, নাঈম মোহায়মেনসহ অনেকে উপস্থিত থাকবেন।
২৭ ডিসেম্বর বিকেল পাঁচটায় জাতীয় জাদুঘরের প্রধান মিলনায়তনে সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণীর আয়োজন থাকবে। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, ফোরামেরই একটি অংশ উৎসবটি বর্জন করেছে। সাত দিনের এ উৎসব সবার জন্য উন্মুক্ত।