দ্যা নিউ ভিশন

এপ্রিল ৩, ২০২৫ ১৬:১৪

“সংকটের মধ্যে কারিগরি শিক্ষা”

**এক যুগে লক্ষ্যমাত্রার অর্ধেকও অর্জিত হয়নি**

উন্নত বিশ্বে যেখানে মোট শিক্ষার্থীর ৭০ শতাংশই কারিগরিতে থাকে, সেখানে বাংলাদেশে এই হার মাত্র ১৬ শতাংশ। দেশের কারিগরি শিক্ষা সংকটের মুখে পড়েছে, যেখানে শিক্ষক পদগুলোর ৭০ শতাংশ শূন্য, শ্রেণিকক্ষ ও ল্যাবের অভাব মারাত্মক। ২০১২ সালে সরকার ২০২০ সালের মধ্যে কারিগরি শিক্ষার্থী সংখ্যা ২০ শতাংশ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করলেও, এখন পর্যন্ত তা অর্জিত হয়নি। ২০২৪ সালে এসে শিক্ষার্থীর হার ১৬ শতাংশের কাছাকাছি, তবে বাস্তবতা আরো উদ্বেগজনক। আন্তর্জাতিক মান ও বাংলাদেশ শিক্ষা তথ্য ও পরিসংখ্যান ব্যুরোর (ব্যানবেইস) তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, প্রকৃত শিক্ষার্থীর হার ৯ শতাংশের নিচে। এক যুগে লক্ষ্যমাত্রার অর্ধেকও পূর্ণ হয়নি।

 

এছাড়া, বিভিন্ন পলিটেকনিক, মনোটেকনিক, এবং কারিগরি স্কুল ও কলেজে শিক্ষক পদের ৭০ শতাংশই খালি রয়েছে। আরও উদ্বেগজনক হলো, প্রায় ৬০ শতাংশ শিক্ষক পদ খালি জনশক্তি ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান ব্যুরোর অধীন কারিগরি প্রতিষ্ঠানে। অধিকাংশ প্রতিষ্ঠান এক শিফটের শিক্ষক দিয়ে দুই শিফটে পাঠদান চালাচ্ছে, এবং অনেক প্রতিষ্ঠানে ল্যাবরেটরি সংকট দেখা দিয়েছে। ল্যাব থাকলেও যন্ত্রপাতির অভাব মারাত্মক।

 

বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের অবস্থা আরো নাজুক। ৩৮৭টি বেসরকারি পলিটেকনিকের মধ্যে মাত্র ২০-২৫টি প্রতিষ্ঠানে কার্যক্রম চলমান, বাকি প্রতিষ্ঠানগুলো মূলত নামসর্বস্ব হয়ে গেছে। মালিকরা এসব প্রতিষ্ঠানকে সার্টিফিকেট বিক্রির দোকানে পরিণত করেছেন। পুরোনো কারিকুলাম ও অনুন্নত কোর্সের কারণে অনেক শিক্ষার্থী পড়ালেখা শেষ করেও চাকরির বাজারে বঞ্চিত হচ্ছেন।

 

শিক্ষাবিদদের মতে, দেশের কারিগরি শিক্ষা ব্যবস্থাকে ঢেলে সাজানো প্রয়োজন। তারা উদাহরণ হিসেবে বলেন, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে ধ্বংস হওয়া জাপান ও জার্মানির বর্তমান উন্নতির প্রধান কারণ তাদের কারিগরি শিক্ষা ব্যবস্থা। জাপানে কারিগরি শিক্ষার হার ৭৩ শতাংশ এবং জার্মানিতে ৭১ শতাংশ। সেই তুলনায় বাংলাদেশের কারিগরি শিক্ষার হার খুবই কম।

 

একটি সুসংহত কারিগরি শিক্ষাব্যবস্থা দেশে দক্ষ জনশক্তি তৈরির জন্য অপরিহার্য। উন্নত দেশের আদলে আমাদেরও কারিগরি শিক্ষাকে আধুনিকায়ন এবং মান উন্নয়ন করতে হবে, আর প্রয়োজনীয় ল্যাব ও শিক্ষক সংখ্যা বৃদ্ধি করতে হবে। সিপিডির এক গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কারিগরি শিক্ষার মানে সন্তুষ্টির হার মাত্র ১৩ শতাংশ, এবং সাবেক শিক্ষার্থীদের ৬৩ শতাংশের মাসিক আয় ১০ হাজার টাকার নিচে।

 

এছাড়া, কারিগরি শিক্ষায় মেয়েদের অংশগ্রহণও কমছে, যা উদ্বেগের বিষয়। সরকারি হিসাবে, বর্তমানে দেশে ৬ হাজার ৮৬৫টি কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রয়েছে, যার মধ্যে সরকারি প্রতিষ্ঠান ৮৬৬টি এবং বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ৫ হাজার ৯৯৯টি। তবে, বিভিন্ন সমস্যা সত্ত্বেও, কারিগরি শিক্ষায় শিক্ষার্থীর সংখ্যা ১৬ শতাংশের কাছাকাছি পৌঁছেছে বলে সরকারি কর্মকর্তারা দাবি করেছেন।

 

তবে, এতে সংশ্লিষ্টদের মতে, দেশের কারিগরি শিক্ষাব্যবস্থা আরো শক্তিশালী করতে, আধুনিক কোর্স ও কারিকুলাম এবং প্রয়োজনীয় শিক্ষাক্রম প্রণয়ন করতে হবে।

Related News

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

সর্বশেষ

ছাত্রদলের অনুষ্ঠানে শিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি, ঐক্যবদ্ধভাবে দেশকে এগিয়ে নেওয়ার আশা

ছাত্রশিবির, ছাত্রদলসহ যাঁরা ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে ভূমিকা রেখেছেন, তাঁরা ঐক্যবদ্ধভাবে আগামী