দ্যা নিউ ভিশন

এপ্রিল ৪, ২০২৫ ১৮:২৮

রোজার আগেই বেক্সিমকোর শ্রমিকেরা পাওনা পাবেন: শ্রম উপদেষ্টা

পবিত্র রমজান শুরুর আগেই বেক্সিমকো গ্রুপের শ্রমিক-কর্মচারীদের পাওনা পরিশোধ করা হবে বলে জানিয়েছেন শ্রম ও কর্মসংস্থান উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এম সাখাওয়াত হোসেন। আগামী ১ মার্চ রমজান শুরু হতে পারে। তবে পাওনা পরিশোধের জন্য টাকার সংস্থান কোথা থেকে এবং কীভাবে হবে, তা পরিষ্কার করে জানাতে পারেননি তিনি।

সচিবালয়ে আজ বুধবার ‘বেক্সিমকো শিল্পপার্কের প্রতিষ্ঠানগুলোর শ্রম ও ব্যবসায় পরিস্থিতি পর্যালোচনা–সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটি’র সপ্তম বৈঠক শেষে শ্রম উপদেষ্টা সাংবাদিকদের এ কথা জানান। কমিটির প্রধান শ্রম উপদেষ্টা। এ সময় বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন ও শ্রমসচিব এ এইচ এম সফিকুজ্জামান উপস্থিত ছিলেন। তাঁরা দুজন বৈঠকেও অংশ নেন।

বৈঠকে অন্যদের মধ্যে ছিলেন গৃহায়ণ ও গণপূর্ত উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান, বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) চেয়ারম্যান খন্দকার রাশেদ মাকসুদ, আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব নাজমা মোবারেক ও বিভিন্ন ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তারা।

এম সাখাওয়াত হোসেন বলেন, ‘আমরা গত বৈঠকে (২৮ জানুয়ারি) বলেছিলাম, চলতি ফেব্রুয়ারি মাসের বেক্সিমকোর লে-অফ কোম্পানিগুলোর শ্রমিক-কর্মচারীদের পাওনা পরিশোধ করা হবে। ওই সিদ্ধান্তের অগ্রগতি জানতেই আজ বৈঠক ডাকা হয়।’

শ্রম উপদেষ্টা বলেন, ‘ভালো অগ্রগতি হয়েছে। বেক্সিমকোর শ্রমিক-কর্মচারীদের পাওনাগুলো চলতি মাসের মধ্যেই পরিশোধ করা হবে। সমস্যা সমাধানে যে টাকা দরকার, তার ব্যবস্থা হচ্ছে। এসব নিয়ে ১৮ ফেব্রুয়ারি আমরা আবার বসব। আশা করি, তখন এটা চূড়ান্ত হবে। যাঁর যে পাওনা রয়েছে, তা তাঁদের ব্যাংক হিসাবে চলে যাবে। রোজা শুরু হওয়ার আগেই আমরা পাওনাগুলো দিয়ে দিতে চাই।’

হিসাব করে প্রত্যেকের পাওনা বুঝিয়ে দেওয়ার কথা জানিয়ে শ্রম উপদেষ্টা বলেন, ‘ভেবেছিলাম, বিষয়টা আজই চূড়ান্ত হয়ে যাবে। কিন্তু হলো না।’

কত টাকা লাগতে পারে এবং পাওনাদার শ্রমিক-কর্মচারীর সংখ্যাই–বা কত, এমন প্রশ্নের জবাবে সাখাওয়াত হোসেন বলেন, টাকার পরিমাণ আন্দাজে বলা যাচ্ছে না। আর শ্রমিক-কর্মচারীর সংখ্যা আগেই জানানো হয়েছিল। এ সংখ্যা ২৭ হাজারের বেশি। নতুন প্রশাসক মাত্র ৫ ফেব্রুয়ারি বসেছেন। এখনো পুরো বিষয়টা তাঁর আয়ত্তে আসেনি।

বেক্সিমকো গ্রুপের চালু দুই কোম্পানিতে (বেক্সিমকো ফার্মা ও শাইনপুকুর সিরামিকস) থাকা উদ্যোক্তাদের শেয়ার বিক্রির টাকা, নাকি অর্থ বিভাগের মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে টাকা নিয়ে শ্রমিক-কর্মচারীদের পাওনা পরিশোধ করা হবে, এমন প্রশ্নের জবাবে শ্রম উপদেষ্টা বলেন, বিষয়টা ১৮ তারিখেই জানা যাবে। অনেক বিকল্প আছে। অর্থ বিভাগ থেকে হতে পারে। শেয়ার বিক্রি নিয়ে কিছু ঝামেলা আছে, সেগুলো দূর করা যায় কি না, দেখা হচ্ছে। এর মধ্যেই জানা যাবে মোট কত টাকা লাগবে।

শ্রমিকদের বিকল্প চাকরির ব্যবস্থাবিষয়ক এক প্রশ্নের জবাবে শ্রম উপদেষ্টা বলেন, ‘তাঁরা এখনো বেক্সিমকোর শ্রমিক। আমি তো বলতে পারি না ১০০ জন এখানে যান, ৫০০ জন ওখানে যান। তবে তাঁরা সবাই দক্ষ। তাঁদের বেকার থাকার আশঙ্কা নেই।’

সাখাওয়াত হোসেন বলেন, ‘আমরা কোনোভাবেই এতগুলো লোককে বেকার থাকতে দিতে পারি না। তাঁরা কেউ নতুন শ্রমিক নন। একটা ব্যবস্থা হবেই। চাকরি হারিয়ে তাঁরা বাড়ি চলে যাক, এটা সরকারের নীতি নয়।’ পোশাক খাতে জনবলের ৫ থেকে ৭ শতাংশ ঘাটতি রয়েছে জানিয়ে শ্রম উপদেষ্টা বলেন, কিছু না কিছু একটা ব্যবস্থা হবে। এটা নিয়েও কাজ চলছে। ইপিজেড (রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল) আছে, বিডা (বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ) আছে। তাদের মাধ্যমে কাজ হচ্ছে।

বেক্সিমকো শিল্পপার্কের আওতায় থাকা ৩১ প্রতিষ্ঠানের ব্যাংকঋণ ২৮ হাজার ৬০৭ কোটি টাকা। এ ঋণের বিপরীতে জমি, ভবন, যন্ত্রপাতি, শেয়ার, ব্যাংকে স্থায়ী আমানত (এফডিআর) ইত্যাদি মিলে বন্ধক রয়েছে ৪ হাজার ৯৩২ কোটি টাকার সম্পদ। বন্ধক থাকা সম্পদ মোট ঋণের ১৭ দশমিক ২৪ শতাংশ। বন্ধ কোম্পানিগুলোর মধ্যে ১২টির অস্তিত্ব নেই বলে চিহ্নিত করা হয়েছে, যার বিপরীতে ঋণ রয়েছে ১২ হাজার কোটি টাকা। অস্তিত্বহীন ঋণের প্রায় পুরোটাই জনতা ব্যাংক থেকে নেওয়া।

Related News

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

সর্বশেষ

ছাত্রদলের অনুষ্ঠানে শিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি, ঐক্যবদ্ধভাবে দেশকে এগিয়ে নেওয়ার আশা

ছাত্রশিবির, ছাত্রদলসহ যাঁরা ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে ভূমিকা রেখেছেন, তাঁরা ঐক্যবদ্ধভাবে আগামী