বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর জানিয়েছেন, ‘মোবাইলে আর্থিক সেবার (এমএফএস) আন্তলেনদেন পরিচালনার জন্য ‘বিনিময়’ নামে যে প্ল্যাটফর্ম করা হয়েছিল, সেটি ছিল সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়ের শেল কোম্পানি। এমএফএসে আন্তলেনদেনব্যবস্থা এগোতে না পারার একটা বড় কারণ, এটি আইসিটি মন্ত্রণালয়ের অধীনে দেওয়া হয়েছিল।’
বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে জানা যায়, ন্যাশনাল পেমেন্ট সুইচ বাংলাদেশের (এনপিএসবি) মাধ্যমে ব্যাংক ও বিকাশ–নগদ–রকেটের মতো সেবার মধ্যে আন্তলেনদেন চালু করার সময় নির্ধারণ করেছিল। এতে গ্রাহকের কোনো খরচ হবে না বলে জানানো হয়েছিল। ২০২০ সালের অক্টোবরে এক প্রজ্ঞাপনে কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানিয়েছিল, সফলভাবে পাইলট টেস্টিং সম্পন্নকারী ব্যাংক ও এমএফএস প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে ওই বছরের ২৭ অক্টোবর থেকে ইন্টার-অপারেবিলিটি বা পারস্পরিক (লাইভ) লেনদেন–সুবিধা চালু করা হবে।
তবে তখন সরকারের উচ্চপর্যায়ের নির্দেশে এ সিদ্ধান্ত থেকে পিছিয়ে আসে বাংলাদেশ ব্যাংক। পরে তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি বিভাগ একটি প্রকল্প হাতে নেয়। এতে খরচ হয় প্রায় ১৫০ কোটি টাকা। তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি বিভাগের উদ্ভাবন ও উদ্যোক্তা উন্নয়ন একাডেমি প্রতিষ্ঠাকরণ (আইডিয়া) প্রকল্প বিনিময় সেবা তৈরি করে। পরে বাংলাদেশ ব্যাংককে এটি বুঝিয়ে দেওয়া হয়, যা পরে চালু করা হয়। তবে এতে লেনদেন তেমন হচ্ছে না। কারণ, সেবাগ্রহীতা সবাইকে পৃথকভাবে বিনিময়ে নিবন্ধন করতে হয়। পাশাপাশি এতে মাশুলও দিতে হয়। বিনিময় অ্যাপের কাজের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপুর ছেলে জারেফ হামিদ।