দ্যা নিউ ভিশন

এপ্রিল ৪, ২০২৫ ২২:১৫

‘মনুমেন্ট প্রজেক্টের’ দিকে আমরা যাব না: অর্থ উপদেষ্টা

অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেছেন, বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার কোনো ‘মনুমেন্ট প্রজেক্ট’ করার উদ্যোগ নেবে না। তবে বন্দর উন্নয়নসহ প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নির্মাণের উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে। পাশাপাশি নতুন কর্মসংস্থান বৃদ্ধির দিকেও সরকারের প্রচেষ্টা থাকবে।

আজ রোববার রাজধানীর গুলশানের একটি হোটেলে আয়োজিত এক সংলাপে এ কথা বলেন তিনি। ‘দেশে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বৃদ্ধিতে নীতি সমন্বয়’ শীর্ষক এ সংলাপের আয়োজন করে আমেরিকান চেম্বার অব কমার্স ইন বাংলাদেশ (অ্যামচেম)।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খান। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বেসরকারি সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) নির্বাহী পরিচালক ফাহমিদা খাতুন। এ ছাড়া অনুষ্ঠানে দেশি-বিদেশি বিভিন্ন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের শীর্ষ নির্বাহীরাও উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে অর্থ উপদেষ্টা জানান, অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পরে ছয় মাস পার হয়েছে। এ সময়ে সরকার বেশ কিছু সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর মধ্যে কিছু বিষয় নিয়ে ভুল–বোঝাবুঝি হতে পারে। তবে সরকারের উদ্দেশ্য ভালো, খারাপ কোনো এজেন্ডা নেই।

সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘যখন দায়িত্ব নিয়েছি, অনেক ধরনের চ্যালেঞ্জ ছিল। ইতিমধ্যে কিছু জায়গায় স্থিতিশীলতা এসেছে। তবে মূল্যস্ফীতি এখনো বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে রয়ে গেছে। মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে সরকার সংকোচনমূলক মুদ্রানীতি নিয়েছে। এতে আবার ব্যাংক ও বেসরকারি খাতে সমস্যা তৈরি হয়েছে। ব্যবসায়ীদের জন্য কার্যক্রম পরিচালনা কঠিন হয়েছে। এটি আমরা স্বীকার করে নিচ্ছি।’

দেশ থেকে অর্থ পাচারের ঘটনা ক্ষমার যোগ্য নয় উল্লেখ করে অর্থ উপদেষ্টা বলেন, বড় ব্যবসায়ী গোষ্ঠীর একটা অংশ এখন দেশে নেই। তারা বিপুল পরিমাণে অর্থ–সম্পদ বাইরে নিয়ে গেছে। ব্যাংকগুলো এখন খালি রয়েছে কেন? প্রায় সব দুর্বল ব্যাংক থেকে আমানতকারীদের বিপুল পরিমাণ টাকা বাইরে নিয়ে গেছে। এটা ক্ষমার যোগ্য নয়।

বেসরকারি খাতকেও প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরে সুশাসন প্রতিষ্ঠা, প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বৃদ্ধি ও উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধির পরামর্শ দেন অর্থ উপদেষ্টা। তিনি বলেন, এগুলো না করলে পরিস্থিতি কঠিন হয়ে যাবে। এর ক্ল্যাসিক উদাহরণ হচ্ছে বেক্সিমকো গ্রুপ। প্রতিষ্ঠানটি তার কর্মীদের কোনো বেতন দিতে পারছে না, কিন্তু এটা তো সরকারের দায়িত্ব না।

দেশে একক ভ্যাট পদ্ধতি চালু হওয়া উচিত বলে মনে করেন অর্থ উপদেষ্টা। তিনি বলেন, একেক পণ্যে একেক ধরনের ভ্যাট প্রচলন রয়েছে। একক ভ্যাট পদ্ধতি চালু করা গেলে সেটি বেশ কার্যকর হবে বলে জানান তিনি। ভ্যাটের বিষয়টি পর্যালোচনা করা হচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে এ বিষয়ে তাঁরা একটি সিদ্ধান্তে আসবেন। এ সময়ের মধ্যে নতুন করে ভ্যাট কমানোর আর কোনো দাবি নিয়ে না আসার জন্য ব্যবসায়ীদের অনুরোধ জানান তিনি।

সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘শেয়ারবাজারে জেড শ্রেণির কোম্পানির শেয়ারের অনেক লেনদেন হয়। দেখা গেছে, কিছু কারখানায় গরু-ছাগল চড়ে বেড়ায়, কিন্তু শেয়ারের দর বাড়ছেই। কয়েক মাস আগে আমাকে এক অনুষ্ঠানে (পার্টি) আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। আমি তাদের জিজ্ঞেস করলাম, পার্টি কিসের জন্য। তারা জানাল যে তাদের প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দাম বাড়ছে। কিন্তু আমি বললাম, তোমাদের কোম্পানি তো বন্ধ। তারা বলল, সেটি বিষয় না। এই হলো অবস্থা। শেষ পর্যন্ত আমি সেখানে যাইনি।’

অর্থ উপদেষ্টা বলেন, ‘বিনিময় হার, শুল্ক-কর, নীতিমালা প্রভৃতি দিক দিয়ে আমাদের দেশে ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ এখনো তৈরি হয়নি। তবে আমরা চেষ্টা করে যাচ্ছি। অতীতে দেখা গেছে, বাজেটকে কেন্দ্র করে একদম শেষ মুহূর্তে অংশীজনদের মতামত নেওয়ার জন্য ডাকা হতো। এখন এ প্রক্রিয়া এগিয়ে আনা হয়েছে। এখন থেকে অংশীজনদের মতামতকে গুরুত্ব দেওয়া হবে।’

Related News

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

সর্বশেষ

ছাত্রদলের অনুষ্ঠানে শিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি, ঐক্যবদ্ধভাবে দেশকে এগিয়ে নেওয়ার আশা

ছাত্রশিবির, ছাত্রদলসহ যাঁরা ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে ভূমিকা রেখেছেন, তাঁরা ঐক্যবদ্ধভাবে আগামী