দ্যা নিউ ভিশন

এপ্রিল ৪, ২০২৫ ১০:৩৯

সুতা আমদানি দ্রুত বাড়ছে, সাত বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ

বাংলাদেশে তুলা উৎপাদিত হয় না। ফলে পণ্যটি আমদানির বিকল্প নেই। তুলা আমদানি করে তৈরি করা হয় পোশাকের সুতা। এ কারণে তৈরি পোশাকের রপ্তানি বাড়লে তুলা আমদানিও বাড়ে, কিন্তু এখন সুতা আমদানি বাড়তে শুরু করেছে। দেশে ৪৫০ সুতার কল বা স্পিনিং মিল থাকার পরও সুতার আমদানি দ্রুত বাড়ছে। গত বছর যে পরিমাণ সুতা আমদানি হয়েছে, তা গত সাত বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। এতে ডলারের ওপরও চাপ বাড়ছে।

জানা যায়, গত বছর প্রায় ১২ লাখ টন সুতা আমদানি করেছেন দেশের তৈরি পোশাক ও বস্ত্র খাতের উদ্যোক্তারা। এ আমদানি ২০২৩ সালের তুলনায় ৩১ দশমিক ৪৫ শতাংশ বেশি। আমদানি হওয়া সুতার বড় অংশই আসছে ভারত থেকে।

সুতা আমদানি বেড়ে যাওয়ার পেছনে একাধিক কারণকে দায়ী করছেন বস্ত্র খাতের উদ্যোক্তারা।

সুতা আমদানি বেড়ে যাওয়ার পেছনে একাধিক কারণের কথা বলছেন বস্ত্র খাতের উদ্যোক্তারা। তাঁরা বলছেন, গ্যাস-বিদ্যুতের সংকটের কারণে অনেক দিন ধরেই অধিকাংশ স্পিনিং মিল উৎপাদন সক্ষমতার প্রায় ৫০ শতাংশ ব্যবহার করতে পারছে না। অথচ নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহের কথা বলে দুই বছর আগে গ্যাসের দাম ১৫০-১৭৮ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছিল।

গ্যাস না পাওয়া ও মূল্যবৃদ্ধি—এই দুই কারণে সুতার উৎপাদন খরচ ৩০ শতাংশ বেড়েছে। রপ্তানিমুখী তৈরি পোশাক কারখানা দেশি বস্ত্রকলের সুতা ব্যবহারে যে নগদ সহায়তা পেত, সেটিও কমানো হয়েছে। এসব কারণে দেশি সুতা ভারতীয় সুতার সঙ্গে প্রতিযোগিতায় পারছে না। ফলে পাশের দেশটি থেকে সুতা আমদানি বাড়ছে।

বস্ত্রকলের মালিকদের সংগঠন বিটিএমএর তথ্যানুযায়ী, দেশের ৫১৯টি স্পিনিং মিল রয়েছে। তার মধ্যে কিছু মিল বন্ধ রয়েছে। এসব স্পিনিং মিল নিট কাপড়ের ৮৫-৯০ শতাংশ এবং ওভেন কাপড়ের প্রায় ৪০ শতাংশ সুতা সরবরাহ করে থাকে।

তৈরি পোশাক রপ্তানি বাড়লে তুলা ও সুতা—দুটির আমদানিই বাড়ে। গত বছরও তৈরি পোশাকের রপ্তানি বেড়েছে। এ সময়ে তুলা আমদানি বাড়লেও পরিমাণের দিক থেকে তা ২০২১ সালের চেয়ে এক লাখ টন কম। অন্যদিকে গত বছর যে পরিমাণ সুতা আমদানি হয়েছে, তা ২০২১ সালের তুলনায় ১ লাখ ৪১ হাজার টন বেশি।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডে (এনবিআর) তথ্যানুযায়ী, বস্ত্র খাতের ব্যবসায়ীরা গত বছর ১৮ লাখ ৮৯ হাজার টন তুলা আমদানি করে, যা আগের বছরের তুলনায় ৩৯ শতাংশ বেশি। এতে ব্যয় হয়েছে ৪৫ হাজার ৩৭৪ কোটি টাকা। এ ছাড়া সুতা আমদানি হয় ১২ লাখ টন। এতে ব্যয় হয়েছে ৪৫ হাজার ৭১৩ কোটি টাকা।

দেশি সুতা ব্যবহার বৃদ্ধিতে দীর্ঘদিন ধরে নগদ সহায়তা দিয়ে আসছে সরকার। তবে বাংলাদেশ স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে উত্তরণের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার অংশ হিসেবে গত বছর দুই দফায় নগদ সহায়তা কমায় ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকার। গত জুলাইয়ের আগে দেশি সুতা ব্যবহার করে উৎপাদিত তৈরি পোশাক নতুন বাজারে রপ্তানি করলে একটি কারখানা সর্বোচ্চ ৯ দশমিক ১ শতাংশ নগদ সহায়তা পেত। এখন সেটি কমে ৫ দশমিক ৯ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। এর মধ্যে দেশি সুতা ব্যবহারে প্রণোদনা মাত্র দেড় শতাংশ।

জানতে চাইলে বিটিএমএর পরিচালক মোহা. খোরশেদ আলম প্রথম আলোকে বলেন, গ্যাস–সংকটে মিলের উৎপাদন সক্ষমতার অর্ধেকই ব্যবহার করা যাচ্ছে না। নগদ সহায়তাও কমানো হয়েছে। ব্যাংকঋণের সুদের হারও বেড়ে গেছে অস্বাভাবিক। অন্যদিকে ভারতের ব্যবসায়ীরা দেশে উৎপাদিত সুতার চেয়ে ১৫ শতাংশ কম দামে সুতা বিক্রির অফার করছেন। এমনকি তাঁরা ক্রয়াদেশ পাওয়ার এক দিনের মধ্যেও সুতা সরবরাহ করছেন। এ জন্য দেশের মিলের উৎপাদন কমছে, অন্যদিকে আমদানি বাড়ছে।

খোরশেদ আলম আরও বলেন, দেশি বস্ত্রকলগুলোকে বাঁচাতে হলে গ্যাস-বিদ্যুতের সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে। সেটি না হলে দাম কমাতে হবে। এ ছাড়া নগদ সহায়তা বাড়িয়ে ১০ শতাংশ করা দরকার। তা না হলে দেশি স্পিনিং মিলগুলো ধীরে ধীরে রুগ্‌ণ হবে।

Related News

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

সর্বশেষ

ছাত্রদলের অনুষ্ঠানে শিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি, ঐক্যবদ্ধভাবে দেশকে এগিয়ে নেওয়ার আশা

ছাত্রশিবির, ছাত্রদলসহ যাঁরা ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে ভূমিকা রেখেছেন, তাঁরা ঐক্যবদ্ধভাবে আগামী