আসন্ন রমজান মাস উপলক্ষে ঢাকার ১০০টি স্থানে ন্যায্যমূল্যে ডিম, মুরগি ও কৃষিপণ্য বিক্রির উদ্যোগ নিয়েছেন প্রান্তিক খামারিরা। ১২ জানুয়ারি থেকে ঢাকার ২০টি স্থানে সীমিত পরিসরে বিক্রি শুরু হবে। পরবর্তী সময়ে পর্যায়ক্রমে ১০০টি স্থানে এ কার্যক্রম বাড়ানো হবে।
সাশ্রয়ী দামে ডিম, মুরগি ও অন্যান্য কৃষিপণ্য বিক্রির এ কার্যক্রমে সার্বিক সহযোগিতা করবে প্রান্তিক খামারিদের সংগঠন বাংলাদেশ পোলট্রি অ্যাসোসিয়েশন বা বিপিএ। সংগঠনটি বলেছে, রমজানে ডিম ও মুরগির দাম নিয়ন্ত্রণে রাখা ও ভোক্তাদের স্বস্তি দিতে তারা এ উদ্যোগ নিয়েছে। এ জন্য সরকারের কাছে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা চেয়েছে সংগঠনটি।
আজ শনিবার রাজধানীর পল্টনে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান বিপিএর সভাপতি সুমন হাওলাদার।
সংবাদ সম্মেলনে সুমন হাওলাদার বলেন, ‘এই উদ্যোগ সফলভাবে বাস্তবায়িত হলে ডিম, মুরগির বাজারে স্বস্তি নিশ্চিত করা যাবে। পাশাপাশি দেশের কৃষক ও ভোক্তাদের জন্য সঠিক দাম নিশ্চিত করা যাবে। এ জন্য আমরা সরকারের সহযোগিতা কামনা করছি।’
বর্তমানে পোলট্রি খাতের করপোরেট প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে প্রান্তিক খামারিরা প্রতিযোগিতায় পারছেন না বলে জানান সুমন হাওলাদার। তিনি বলেন, করপোরেট প্রতিষ্ঠানগুলো খাদ্য ও বাচ্চার পাশাপাশি ডিম ও মুরগি উৎপাদন করছে। ফলে ছোট খামারিরা বাজারে প্রতিযোগিতা করতে পারছেন না। এ জন্য করপোরেট প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যক্রম ফিড ও বাচ্চার উৎপাদনেই সীমাবদ্ধ রাখা উচিত। এতে প্রান্তিক খামারিরা তাঁদের উৎপাদন চালিয়ে যেতে পারবেন।
সুমন হাওলাদার বলেন, সিন্ডিকেটের মাধ্যমে ফিড ও মুরগির বাচ্চার অযৌক্তিক মূল্য বাড়ানো হয়। এ কারণে প্রান্তিক খামারিরা তাঁদের উৎপাদন খরচ সামাল দিতে পারছেন না। এ সিন্ডিকেট বন্ধ করে খামারিদের জন্য সাশ্রয়ী মূল্যে খাদ্য ও বাচ্চা সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে।
এ ছাড়া উৎপাদন বাড়াতে খামারিদের জন্য ঋণ ও ভর্তুকির ব্যবস্থা চালুর দাবি জানান সুমন হাওলাদার। পাশাপাশি তিনি খামারিদের জন্য সহজ শর্তে ঋণ ও ভর্তুকি দেওয়ারও দাবি জানান।
সংবাদ সম্মেলনে বিপিএর সহসভাপতি বাপ্পি কুমার দে, সাধারণ সম্পাদক মো. ইলিয়াস খন্দকার, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. কাউছার আহমেদ, সাংগঠনিক সম্পাদক মো. ইকবাল হোসেন, দপ্তর সম্পাদক মো. মেজবাউল হক প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।