২০২৪ সালের শেষে চীনের বৈদ্যুতিক গাড়ি কোম্পানি বিওয়াইডির বিক্রি বেড়েছে। ফলে গাড়ি বিক্রিতে যুক্তরাষ্ট্রের কোম্পানি টেসলার কাছাকাছি চলে গেছে বিওয়াইডি।
বিবিসির সংবাদে বলা হয়েছে, ডিসেম্বর মাসে ২ লাখ ৭ হাজার ৭৩৪টি গাড়ি বিক্রি হয়েছে বিওয়াইডির। ফলে ২০২৪ সালে গাড়ি বিক্রি হয়েছে মোট ১ দশমিক ৭৬ মিলিয়ন বা ১৭ লাখ ৬০ হাজার। কোম্পানিটি ভর্তুকি ও ছাড় দিয়ে বিক্রি চাঙা করেছে। আজ বৃহস্পতিবার গত বছরের শেষ প্রান্তিকের বিক্রয় পরিসংখ্যান প্রকাশ করার কথা। তার আগেই বিবিসি এ তথ্য প্রকাশ করে দিয়েছে।
সামগ্রিকভাবে বৈদ্যুতিক গাড়ি বিক্রিতে বিওয়াইডির চেয়ে এগিয়ে আছে টেসলা। যদিও বিওয়াইডির সঙ্গে টেসলার ব্যবধান কমে আসছে।
২০২৪ সালে বিওয়াইডির গাড়ি বিক্রি বেড়েছে ৪১ শতাংশ। যদিও ঠিক বৈদ্যুতিক গাড়ি নয়, বিওয়াইডির এই বিক্রয় বৃদ্ধির মূল চালিকা শক্তি ছিল হাইব্রিড গাড়ি।
বিওয়াইডির গাড়ি বিক্রি বেড়েছে মূলত চীনের মূল ভূখণ্ডে। দেশের ভেতরে প্রতিযোগিতা বেড়ে যাওয়ায় দাম কমেছে। সেই সঙ্গে সরকার পুরোনো গাড়ির বদলে নতুন বৈদ্যুতিক গাড়ি কেনায় প্রণোদনা দেওয়ায় গাড়ি বিক্রিতে গতি এসেছে।
বিবিসির সংবাদে বলা হয়েছে, বিওয়াইডির মোট গাড়ির ৯০ শতাংশ বিক্রি হয়েছে চীনের মূল ভূখণ্ডে। দেশের ভেতরের বাজারে ফক্সওয়াগন ও টয়োটার চেয়ে তাদের গাড়ি বেশি বিক্রি হচ্ছে।
বিওয়াইডিসহ চীনের অন্যান্য বৈদ্যুতিক গাড়ি বিক্রি বেড়ে যাওয়ায় প্রতিষ্ঠিত পশ্চিমা গাড়ি কোম্পানিগুলো বিপদে পড়েছে। সম্প্রতি হোন্ডা ও নিশান একীভূত হওয়ার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছে। চীনের গাড়ি কোম্পানিগুলোর বাড়বাড়ন্তের বিরুদ্ধে কৌশল হিসেবে তারা এই একীভূত হওয়ার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছে।
এমনকি খরচ কমাতে ফক্সওয়াগনকে কারখানা বন্ধ করতে হবে—এমন পরিস্থিতিও সৃষ্টি হয়েছিল। শেষমেশ জার্মানির এক শ্রমিক ইউনিয়নের সঙ্গে চুক্তি করে এই কারখানা বন্ধের পরিকল্পনা থেকে বেরিয়ে এসেছে তারা।
মাসের শুরুর দিকে গাড়ি কোম্পানি স্টেলানটিসের প্রধান নির্বাহী কার্লোস তাভারেস পর্ষদের সঙ্গে দ্বন্দ্বের জেরে পদত্যাগ করেন। কোম্পানিটি মুনাফা নিয়ে সতর্কবার্তা দেওয়ার পর এ পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়।
২০২৪ সালের তৃতীয় প্রান্তিকে এই প্রথম বিওয়াইডির রাজস্ব আয় টেসলাকে ছাড়িয়ে যায়। জুলাই-সেপ্টেম্বর প্রান্তিকে তাদের রাজস্ব আয় হয় ২৮ দশমিক ২ বিলিয়ন বা ২ হাজার ৮২০ কোটি ডলার, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ২৪ শতাংশ বেশি।
চীনের গাড়ি কোম্পানিগুলো অন্যান্য দেশের বাজারে বৈদ্যুতিক গাড়ির বিক্রি বাড়াতে চাইছে, যদিও তারা চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ছে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে চীনের তৈরি বৈদ্যুতিক গাড়িতে শুল্ক বৃদ্ধির জেরে এ পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে।
এ ছাড়া বিওয়াইডি ব্রাজিলের বাজারে বিক্রি বাড়াতে চাইছে। কিন্তু সেখানকার কারখানায় কাজের পরিবেশ খারাপ হওয়ায় কর্তৃপক্ষ উৎপাদন বন্ধ রেখেছে। বিওয়াইডি বলেছে, তারা ব্রাজিলের আইন পরিপালনে ইচ্ছুক। ইতিমধ্যে নির্মাণ কোম্পানির সঙ্গে তারা সম্পর্ক ছিন্ন করেছে।