দ্যা নিউ ভিশন

এপ্রিল ৫, ২০২৫ ০৫:২৪

২০২৫ সালে বৈশ্বিক পণ্যবাজার অস্থিতিশীল হতে পারে: রয়টার্স

২০২৫ সালে বৈশ্বিক পণ্যবাজার অস্থিতিশীল থাকতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স। তারা বলেছে, ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘোষিত নীতি বাস্তবায়িত হলে বৈশ্বিক পণ্যবাজারের গতি ব্যাহত হতে পারে।

নির্বাচনী প্রচারণা থেকেই ট্রাম্প বলে আসছেন, ক্ষমতায় বসার পর চীনসহ বিশ্বের বিণিন্ন দেশ থেকে পণ্য আমদানির ক্ষেত্রে শুল্ক বৃদ্ধি করা হবে। অন্যদিকে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতির দেশ চীনের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা আছে। এসব কারণে ২০২৫ সালে অস্থিতিশীল থাকতে পারে বৈশ্বিক পণ্যবাজার। গতকাল সোমবার এক প্রতিবেদনে বিভিন্ন তথ্য–উপাত্ত বিশ্লেষণ করে এ তথ্য জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।

খাতসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা রয়টার্সকে জানিয়েছেন, ট্রাম্প আমদানিতে শুল্ক আরোপ করে বৈশ্বিক বাণিজ্যপ্রবাহ ব্যাহত করতে পারেন। তবে শুল্ক আরোপ করা হলে সাধারণত বৃহৎ বাণিজ্যিক অংশীদার দেশ ও কোম্পানিগুলো পণ্য বেচাকেনায় যথেষ্ট ছাড় দেয়। এ সময় বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক নেতৃত্ব বজায় রাখে যুক্তরাষ্ট্র; এ পরিস্থিতি বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধি বৃদ্ধিতে সহায়ক। এমন পরিস্থিতি তৈরি হলে মূল্যস্ফীতি কমে যাওয়াসহ আর্থিক নীতি প্রণয়ন সহজ হয়।

এদিকে চীন সরকার অর্থনীতি চাঙা করতে বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়ে যাচ্ছে। নতুন বছরেও বড় ধরনের প্রণোদনা দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে তারা। এসব প্রণোদনা কার্যকর হলে চীনের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির পালে হাওয়া লাগবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিশ্ববাজারে পণ্যবাজারে তার প্রভাব পড়তে পারে। তা সত্ত্বেও অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম নিম্নমুখী থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে; কারণ যুক্তরাষ্ট্র থেকে সরবরাহ বৃদ্ধির সম্ভাবনা।

ডোনাল্ড ট্রাম্পের আরেকটি অঙ্গীকার হলো রাশিয়া–ইউক্রেন যুদ্ধের সমাপ্তি টানা। সেটা হলে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির ধারা বজায় থাকতে পারে। লাভবান হবে তামার মতো ধাতব পণ্যের বাজার, যদিও রাশিয়া থেকে সরবরাহ বাড়লে জ্বালানি তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাসের বাজার আবার চাপের মুখে পড়তে পারে।

এই ইতিবাচক বাস্তবতার বিপরীতমুখী পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার সম্ভাবনাও আছে। ট্রাম্প প্রশাসন প্যারিস জলবায়ু চুক্তি ও ন্যাটো থেকে বেরিয়ে আসার মতো অঙ্গীকার বাস্তবায়ন করলে বাণিজ্যপ্রবাহ ব্যাহত হবে। এমন পরিস্থিতিতে বিশ্বব্যাপী মূল্যস্ফীতি বেড়ে যেতে পারে। ফলে আর্থিক নীতির রাশ টানতে পারে অনেক দেশ। এ কারণে তামা ও লোহার মতো বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধির সঙ্গে সম্পর্কিত পণ্যের দাম আরও নিম্নমুখী হয়। এ ছাড়া জ্বালানি তেল ও এলএনজির চাহিদায়ও প্রভাব পড়ে।

বিশ্লেষকেরা বলেন, সরকারি প্রণোদনার কারণে চলতি বছরের শেষের দিকে চীনের অর্থনৈতিক সংকট আগের তুলনায় কিছুটা কমেছে। নির্মাণ খাতের কার্যক্রমও বেড়েছে। ২০২৫ সালে এ ধারা বজায় থাকলে ভোক্তা ব্যয় বাড়তে পারে। এর মধ্যে ট্রাম্পের নীতির সঙ্গে সফলভাবে মানিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি ইউরোপ ও গ্লোবাল সাউথের দেশগুলোর সঙ্গে ভালো সম্পর্ক বজায় রাখলে চীনের তামা, আকরিক লোহা ও এলএনজির মতো পণ্যগুলোর চাহিদা বাড়তে পারে। তবে বিদ্যুচ্চালিত যানবাহনের ব্যবহার বাড়লে জ্বালানি তেলের চাহিদা কমতে পারে।

এদিকে ওপেক প্লাস (ওপেক ও অন্যান্য সহযোগী দেশ নিয়ে গঠিত) জ্বালানি তেল উৎপাদন কমিয়ে দাম হ্রাসের ধারায় থামাতে পেরেছে। দুই বছর ধরে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি প্রায় ৭৫ ডলার। তবে চাহিদার দুর্বলতা ও অন্যান্য দেশে উত্তোলন বৃদ্ধির কারণে এই সংস্থার ঐক্যে চিড় ধরার মতো পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে। অর্থাৎ তেলের উৎপাদন বাড়তে পারে; সেটা হলে বিশ্ববাজারে তেলের দাম আরও কমতে পারে।

বাজার–বিশ্লেষকরা আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য বিরোধ মোকাবিলায় চীন জ্বালানি রূপান্তরের দিকে মনোযোগ দিলে ২০২৫ সালে তামা, লিথিয়াম ও রুপার মতো ধাতুর বাজার ঊর্ধ্বমুখী হতে পারে।

Related News

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

সর্বশেষ

ছাত্রদলের অনুষ্ঠানে শিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি, ঐক্যবদ্ধভাবে দেশকে এগিয়ে নেওয়ার আশা

ছাত্রশিবির, ছাত্রদলসহ যাঁরা ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে ভূমিকা রেখেছেন, তাঁরা ঐক্যবদ্ধভাবে আগামী