গত নভেম্বরে কোচের সঙ্গে বিরোধে জড়িয়ে ফ্লুমিনেন্সের সঙ্গে চুক্তি বাতিল করেন মার্সেলো। এরপর থেকে ক্লাবহীন ছিলেন ৩৬ বছর বয়সী এই ব্রাজিলিয়ান ডিফেন্ডার। সেই ঘটনার তিন মাস পর এক ভিডিও বার্তায় আনুষ্ঠানিকভাবে ফুটবলকে বিদায়ই বলে দিলেন এই রিয়াল মাদ্রিদ কিংবদন্তি।
বিদায়ের ঘোষণা দিয়ে দেওয়া পোস্টে মার্সেলো বলেছেন, ‘খেলোয়াড় হিসেবে আমার গল্পটা এখানেই শেষ হচ্ছে। তবে ফুটবলকে দেওয়ার মতো অনেক কিছুই আমার মধ্যে আছে।’ সেই ভিডিও বার্তায় মার্সেলোর ফুটবল ক্যারিয়ারের উল্লেখযোগ্য মুহূর্তগুলোও দেখানো হয়।
২০০২ সালে ফ্লুমিনেন্সের বয়সভিত্তিক দলের হয়ে শুরু মার্সেলোর। ২০০৫ সালে একই ক্লাবের হয়ে পেশাদার ফুটবলে অভিষেক। দুই বছর পর অর্থাৎ ২০০৭ সালে মার্সেলোকে কিনে নেয় স্প্যানিশ পরাশক্তি রিয়াল মাদ্রিদ। এরপর আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি এই ৩৬ বছর বয়সী লেফট–ব্যাককে।
নিজের সময়ের অন্যতম সেরা এই লেফট–ব্যাক রিয়ালের জার্সিতে একের পর এক শিরোপা জিতছেন। রিয়ালের হয়ে ৬টি লিগ শিরোপা ও ৫টি চ্যাম্পিয়নস লিগসহ মোট ২৫টি ট্রফি জয়ের অংশ তিনি। একপর্যায়ে তো মার্সেলোই ছিলেন ক্লাবের হয়ে সবচেয়ে বেশি ট্রফি জেতা ফুটবলার।
পরে অবশ্য মার্সেলোকে পেছনে ফেলেন নাচো, লুকা মদরিচ ও দানি কারভাহাল। রিয়ালের ইতিহাসের সফলতম ফুটবলারদের একজন হলেও জাতীয় দলের জার্সিতে অবশ্য মার্সেলোর তেমন কোনো সাফল্য নেই। ২০১৩ সালে জেতা ফিফা কনফেডারেশনস কাপই তাঁর একমাত্র অর্জন। ব্রাজিলের জার্সিতে সব মিলিয়ে ৫৮ ম্যাচ খেলে ৬টি গোলও আছে এই ডিফেন্ডারের।
রিয়ালে ১৫ বছর কাটানোর পর ২০২২ সালে মার্সেলো পাড়ি জমান গ্রিসের ক্লাব অলিম্পিয়াকোসে। সেই ক্লাবে অবশ্য এক বছরের বেশি থাকা হয়নি তাঁর। ২০২৩ সালে মার্সেলো ফিরে যান ব্রাজিলে শৈশবের ক্লাব ফ্লুমিনেন্সে। তবে গত নভেম্বরেই হয় ছন্দপতন।
গ্রেমিওর বিপক্ষে ম্যাচে নির্ধারিত সময়ের শেষ দিকে বদলি হিসেবে নামার জন্য সাইডলাইনে এসে দাঁড়ান মার্সেলো। তখন কাঁধে হাত রেখে তাঁর পাশে দাঁড়িয়ে ছিলেন ফ্লুমিনেন্স কোচ মানো মেনেজেস। মাঠে নামার আগমুহূর্তে মেনেজেসকে উদ্দেশ করে কিছু একটা বলতে দেখা যায় মার্সেলোকে। সে কথা শুনেই খেপে যান মেনেজেস।
এরপর উত্তেজিত মেনেজেসকে মার্সেলোর উদ্দেশে কিছু বলতে দেখা যায়। একপর্যায়ে ধাক্কা দিয়ে মার্সেলোকে সরিয়েও দেন মেনেজেস এবং অন্য একজন খেলোয়াড়কে (জন কেনেডি) ইশারায় ডাক দেন। কোচের এমন প্রতিক্রিয়ার পর মার্সেলো গিয়ে বসে পড়েন বেঞ্চে।
এ ঘটনার জেরেই ফ্লুমিনেন্সের সঙ্গে মার্সেলোর চুক্তি বাতিল হয়ে যায়। চুক্তি বাতিলের পর থেকে ফ্রি এজেন্ট ছিলেন তিনি। এখন অবশ্য আর কোনো ক্লাব না গিয়ে অবসরের ঘোষণাই দিলেন মার্সেলোর।