১৯৬০-এর দশকের প্রখ্যাত ব্রিটিশ সংগীতশিল্পী ও অভিনেত্রী মারিয়ান ফেইথফুল মারা গেছেন। গতকাল লন্ডনে ৭৮ বছর বয়সী তারকার মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছেন তাঁর মুখপাত্র। ‘আ টিয়ার্স গো বাই’ গানের জন্য তিনি সবচেয়ে বেশি পরিচিতি। ‘দ্য গার্লস অন আ মোটরসাইকেল’-এর মতো সিনেমাতেও দেখা গেছে তাঁকে।
মারিয়ানের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করে তাঁর মুখপাত্র এএফপিকে পাঠানো বিবৃতিতে বলেন, ‘গভীর দুঃখের সঙ্গে জানাচ্ছি গায়িকা, গীতিকার ও অভিনেত্রী মারিয়ান ফেইথফুল মারা গেছেন। তাঁর পরিবার আর বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে থাকা ভক্তরা মারিয়ানকে মিস করবেন। ’
১৯৬৪ সালে গানের ক্যারিয়ার শুরু করেন মারিয়ান। প্রখ্যাত ব্যান্ড দ্য রোলিং স্টোনের ম্যানেজার অ্যান্ড্রু লুং ওল্ডহ্যাম তাঁকে খুঁজে পেয়েছিলেন। মারিয়ানের তুমুল জনপ্রিয় ‘আ টিয়ার্স গো বাই’ গানটি ছিল রোলিং স্টোনের দুই সদস্য মিক জ্যাগার ও কেই থ রিচার্ডসেরই লেখা। আলোচিত এ গানটি ছাড়া মারিয়ানের আরও দুটি আলোচিত গান হলো ‘কাম অ্যান্ড স্টে উইথম মি’ ও ‘দ্য লিটল বার্ড অ্যান্ড সামার নাইটস’। ষাটের দশকে মিক জ্যাগারের সঙ্গে মারিয়ানের প্রেমের সম্পর্কেও ছিলেন মারিয়ান।
শিল্পীর মৃত্যুতে শোক জানিয়েছেন জ্যাগার। ইনস্টাগ্রামে পোস্ট করা এক বার্তায় তিনি লিখেছেন, ‘মারিয়ান ফেইথফুলের মৃত্যুতে খুবই মন খারাপ। অনেক দিন সে আবার জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল। সে ছিল খুব ভালো বন্ধু, দারুণ গায়িকা আর দুর্দান্ত অভিনেত্রী। তাঁকে ভোলা যাবে না।’
১৯৪৬ সালের ২৯ ডিসেম্বর লন্ডনের হ্যাম্পসটেডের জন্ম মারিয়ানের। ১৯৬৪ সালে দ্য রোলিং স্টোনের সঙ্গে কাজ করতে শুরু করেন। নিজের নামে তাঁর প্রথম অ্যালবাম মুক্তি পায় ১৯৬৫ সালে। এরপর আরও ২১ অ্যালবাম আসে, সর্বশেষ ‘শি ওয়াকস ইন বিউটি’ মুক্তি পায় ২০২১ সালে।
শোনা যায়, ১৯৬৬ থেকে ১৯৭০ সাল পর্যন্ত মিক জ্যাগারের সঙ্গে সম্পর্ক ছিল তাঁরা। সুরেলা কণ্ঠস্বরের জন্য পরিচিত ছিলেন মারিয়ান।
১৯৬৭ সালে অন্তন চেখভের গল্প অবলম্বনে একটি মঞ্চ নাটক দিয়ে অভিনয়ে অভিষেক হয় মারিয়ানের। তবে বড় পর্দায় তাঁকে আগেই দেখা গেছে। ১৯৬৬ সালে মুক্তি পাওয়া জঁ-লুক গদারের ‘মেড ইন ইউএসএস’ ছবির একটি একটি গানের দৃশ্যে হাজির হয়েছিলেন তিনি।
‘দ্য গার্লস অব আ মোটরসাইকেল’ ছাড়াও ‘ঘোস্ট স্টোরি’, ‘হ্যামলেট’, ‘শপিং’ ইত্যাদি সিনেমায় অভিনয় করেছেন।
১৯৬৫ সালে ম্যাক্সিকান-ব্রিটিশ শিল্পী জন ডানবারকে বিয়ে করেন মারিয়ান তবে সে সংসার টিকেছিল মোটে এক বছর। এরপর আরও দুইবার বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়েছিলেন, কোনো সংসারই টেকেনি।
১৯৮১ একবার গ্র্যামি মনোনয়ন পেলেও পুরস্কার পাননি।