পরিকল্পনা ও শিক্ষা উপদেষ্টা ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ বলেছেন, বাংলাদেশ ইচ্ছা করলেও বোধ হয় স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকায় থাকতে পারবে না। এটা হয়তো অনেকে জানেন না। বাংলাদেশ এলডিসি থেকে উত্তরণের তিনটি সূচকেই দুবার উত্তীর্ণ হয়েছে। এর আগে মালদ্বীপ ও কয়েকটি ক্ষুদ্র দ্বীপদেশ এলডিসি থেকে উত্তরণ হতে চায়নি। এটা একধরনের অবনমন।
আজ শনিবার রাজধানীর একটি হোটেলে বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠান (বিআইডিএস) আয়োজিত বার্ষিক উন্নয়ন সম্মেলনের প্রথম দিনের প্রথম অধিবেশনে ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ এসব কথা বলেন।
ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ বলেন, গত সরকারের আমলে যেসব প্রকল্প নেওয়া হয়েছিল, তার মধ্যে পদ্মা সেতুসহ বেশ কয়েকটি ভালো প্রকল্প আছে; কিন্তু ওই সব প্রকল্পের মধ্যে অনেকগুলোই ‘প্রেস্টিজ প্রকল্প’ বা সুখ্যাতি অর্জনের জন্য নেওয়া হয়েছিল। এসব নিয়ে কী করা যায়, তা ভেবে দেখা হচ্ছে।
ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর বাংলাদেশ কীভাবে সমতামূলক সমাজ নির্মাণ করতে পারে—এ প্রসঙ্গে ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ বলেন, অন্তর্বর্তী সরকার বড় ধরনের সম্পদের স্বল্পতায় আছে। অনেক টাকা দেশের বাইরে পাচার হয়েছে; মানুষের টাকা ব্যাংকে আছে; কিন্তু ব্যাংকের টাকা বাইরে চলে গেছে। বেক্সিমকোর মতো বড় শিল্পপ্রতিষ্ঠানের স্থিতিপত্রে অনেক টাকা থাকলেও বাস্তবে দেশের মধ্যে নেই। তাদের ৩০-৪০ হাজার শ্রমিকের মজুরি দিতে হয়; কিন্তু টাকা আসবে কোথা থেকে।
বর্তমান বাস্তবতায় সমতামূলক সমাজ নির্মাণ কঠিন। সম্পদের স্বল্পতার মধ্যে শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও মানবসম্পদের উন্নয়নে বিনিয়োগ বাড়ানো কঠিন বলে মন্তব্য করেন ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ। তিনি বলেন, এখন ডায়ালাইসিস মেশিন কেনা হবে, নাকি জনস্বাস্থ্যে বিনিয়োগ করা হবে—এটা নৈতিক বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। ডায়ালাইসিস মেশিনে বরাদ্দ না দিলে রাতে ঘুম হবে না।
পরিকল্পনা ও শিক্ষা উপদেষ্টার মতে, রাজনৈতিক সরকার রাজনীতিবিদদের সুবিধা দিতে গিয়ে সরকারি টাকার অপচয় করেন। একটি গণতান্ত্রিক দেশে বৈষম্য কমাতে খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থান, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, ব্যক্তিগত মত প্রকাশ, অধিকার—এসব নিশ্চিত করা উচিত।
এই অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন বিআইডিএসের মহাপরিচালক বিনায়ক সেন। তিনি বলেন, বৈষম্য ক্রমেই বাড়ছে। সমাজে ন্যায্যতা নিশ্চিত করতে হবে।
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন বিশ্বব্যাংকের ভাইস প্রেসিডেন্ট ইন্ডারমিট এস গিল, বিআইডিএসের সাবেক গবেষণা পরিচালক রুশিদান ইসলাম রহমান প্রমুখ।